
গোলমেশিন বললেও যেন কম বলা হয় কিলিয়ান এমবাপ্পেকে। একবার গোলের সুযোগ মিস করলেও তিনি দমে যান না। বোস্টনে গতকাল ফ্রান্স-মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটা ছিল এমনই। ম্যাচটা হয়ে উঠেছে এমবাপ্পেময়। সেমিফাইনালের টিকিট কাটার পর ফরাসি তারকা ফরোয়ার্ডকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন কোচ দিদিয়ের দেশম।
কোয়ার্টার ফাইনালে গতকাল ২৮ মিনিটে পেনাল্টি পেলেও এমবাপ্পে গোল আদায় করে নিতে পারেননি। প্রথমার্ধ ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচ শেষ হয়েছে গোলশূন্য ড্রয়ে। দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্সের দুটি গোলেই তিনি অবদান রেখেছেন। ৬০ মিনিটে দেজিরে দুয়ের পাস পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে গোল করেন এমবাপ্পে। সতীর্থকে দিয়ে গোলও করিয়েছেন তিনি (এমবাপ্পে)। ৬৬ মিনিটে বক্সের বাইরে দাঁড়ানো দেম্বেলেকে বল বাড়িয়ে দেন এমবাপ্পে। দেম্বেলের বল মরক্কো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর হাত ছুঁয়ে জালে জড়িয়ে গেলে বোস্টনের গ্যালারিতে শুরু হয় ফরাসি উল্লাস।
দেশমের চোখে এমবাপ্পে ‘ক্যাপ্টেন লিডিং ফ্রম দ্য ফ্রন্ট’। মরক্কোকে ২-০ গোলে হারানোর পর ফ্রান্স কোচ বলেন, ‘আজকের ম্যাচটি কঠিন ছিল। পেনাল্টি মিস করেছি। অনেক সুযোগও কাজে লাগাতে পারিনি। কিন্তু যখন কিলিয়ান আছে, তখন কোনো সমস্যা হয় না। এমনকি আগে একটি সুযোগ নষ্ট করার পরও সে দ্বিধায় ভোগে না। অনেকে বলেন কিলিয়ান স্বার্থপর। সে শুধু নিজের কথাই ভাবে। কিন্তু সে দলের অধিনায়ক এবং একজন আদর্শ নেতা।’
খেলোয়াড়, কোচ—দুই ভূমিকাতেই বিশ্বকাপ জেতার কীর্তি রয়েছে দেশমের। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড় ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ফ্রান্স নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ২০১৮ সালে জিতেছে কোচ দেশমের অধীনে। সবশেষ ২০২২ বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠলেও আর্জেন্টিনার কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছে ফ্রান্স। এবারও ফরাসিরা উঠেছে সেমিফাইনালে। কোয়ার্টারে মরক্কোর বিপক্ষে জয়ের পর দেশম বলেন, ‘এই নিয়ে টানা তৃতীয়বার সেমিফাইনালে উঠলাম। এটি বড় এক অর্জন। আমাদের জন্য এখানে পৌঁছানো স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত মনে হলেও বাস্তবে এমন পর্যায়ে পৌঁছানো সব সময়ই কঠিন। সেটা অর্জন করে নিতে হয়।’
দেশমের অধীনে বিশ্বকাপে টানা তিন সেমিফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। তাঁর অধীনে ফরাসিরা ২০২০-২১ মৌসুমে নেশনস লিগের শিরোপাও জিতেছে। এমন সফলতার রহস্য কী—গতকাল বোস্টনে মরক্কোর বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ের পর দেশম বলেন, ‘এর কৃতিত্ব অবশ্যই খেলোয়াড়দের। তবে হয়তো আমিও আমার কাজটা ভালোভাবেই করছি। এই যাত্রা আমরা সবাই মিলেমিশে এগোচ্ছি। শেষ পর্যন্ত সবকিছুর বিচার হয় মাঠে। প্রত্যেক পরিস্থিতি এবং প্রত্যেক পরিবেশ আলাদা। জাতীয় দলের জার্সি ছিল সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানের খেলোয়াড়দের মধ্যেও একই ধরনের অনুভূতি দেখতে পেয়ে ভালো লাগে।’
দেশমের আস্থার দারুণ প্রতিদান দিচ্ছেন শিষ্যরা। এমবাপ্পে ৮ গোল করে চলতি বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার ওপরে। লিওনেল মেসিও ৮ গোল করেছেন। কিন্তু মেসির অ্যাসিস্ট একটি। এমবাপ্পে করেছেন ৩ অ্যাসিস্ট। উসমান দেম্বেলে করেছেন ৫ গোল। এমনকি তাঁর একটি হ্যাটট্রিকও রয়েছে। ফ্রান্সের ১৬ গোলের ১১ গোল তো এমবাপ্পে-দেম্বেলে মিলে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। ক্লাব ফুটবলের দুর্দান্ত ফর্মটা তাঁরা ধরে রেখেছেন বিশ্বকাপেও।

বোস্টনে গত রাতে ফ্রান্স-মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনালটা হয়ে রইল এমবাপ্পেময়। দুটি গোলেই কিলিয়ান এমবাপ্পে অবদান রেখেছেন। তবে ম্যাচের শেষ দিকে এসে চোট নিয়ে যেভাবে মাঠ ছেড়েছেন, তাতে ফ্রান্সের ভক্ত-সমর্থকদের চিন্তিত হওয়ারই কথা। ম্যাচ শেষে তিনি জানিয়েছেন তাঁর এখন কী অবস্থা।
১০ মিনিট আগে
ব্যর্থতার চক্রে ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে বাজেভাবে হারের পর ওয়ানডে সিরিজটাও মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খুইয়েছে এক ম্যাচ আগেই। সিরিজ হারের পরপরই মিরাজের দল পেল দুঃসংবাদ। জিম্বাবুয়ে সিরিজ থেকেই ছিটকে গেছেন মোস্তাফিজুর রহমান।
৩৫ মিনিট আগে
পেনাল্টি মিস করেছিলেন। প্রথমার্ধজুড়ে বারবার আটকে গিয়েছিলেন ইয়াসিন বুনুর হাতে। বোস্টনের রাতটা যেন কিলিয়ান এমবাপ্পের জন্য হতাশার গল্পই হতে যাচ্ছিল। কিন্তু তারকাদের আলাদা করে চেনায় তাঁদের ফিরে আসার ক্ষমতা। দ্বিতীয়ার্ধে সেই চেনা রূপেই জ্বলে উঠলেন ফরাসি অধিনায়ক। নিজে গোল করলেন, আরেকটি গোল বানিয়ে
৫ ঘণ্টা আগে
পেনাল্টি মিস করা সেই এমবাপ্পেই দ্বিতীয়ার্ধে ভেঙে দিলেন মরক্কোর প্রতিরোধ। এরপর নিজেই বানিয়ে দিলেন উসমান দেম্বেলের গোল। দুই তারকার জোড়া আঘাতে মরক্কোকে ২–০ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স।
৫ ঘণ্টা আগে