
নিউইয়র্কের ফ্লাশিং মিডোস। নামটা শুনলেই সবার আগে আসবে ইউএস ওপেন। ইউএস ওপেনের ভেন্যুই তো এটি। সেই টেনিস ভেন্যুতে কিনা প্রথমবারের মতো পা রাখা জোকোভিচ-আলকারাজদের কোনো দ্বৈরথ দেখতে নয়; বিখ্যাত টেনিস কোর্টে প্রথমবারের মতো আসা ফুটবল উপলক্ষে।
ফ্লাশিং মিডোসের টেনিস স্টেডিয়ামে করা হয়েছে নিউইয়র্কের একটি ফুটবল ফ্যান জোন। মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা উদ্বোধনী ম্যাচটির উন্মাদনা বুঝতে ফ্যান জোনে যাওয়াই মনে হলো যথার্থ।
১১ জুন স্থানীয় সময় ১টার দিকে ফ্যান জোনে আসতেই মনে হলো, এই তো ফুটবল উৎসব, এই তো বিশ্বকাপ, এই তো গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থ। ট্রায়োন্ডার বিশাল এক রেপ্লিকা ঘিরে দর্শকদের ছবি, সেলফি তোলার হিড়িক। দর্শকেরা দল বেঁধে আসছে। চারদিকে রঙিন, ফুটবলপ্রেমীদের রঙে নিউইয়র্কে ফুটবল বিশ্বকাপের আমেজটা ফ্যান জোনে এসে যেন বোঝা গেল। অবশ্য যেদিকে চোখ যাচ্ছিল, বেশির ভাগই সবুজ, মেক্সিকোর পতাকার রঙে রঙিন। মেক্সিকোর পতাকার রঙে রাঙিয়ে এসেছে শত-সহস্র মেক্সিকান দর্শক। তারা কোরাস তুলছে—মেহিকো, মেহিকো...।
১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিপক্ষ মেক্সিকো। ফ্যান জোনে দক্ষিণ আফ্রিকার দর্শকদের অবশ্য সে রকম পাওয়া গেল না। দু-একজন যা-ও চোখে পড়ল, তারা যেন লীন হয়ে গেল সবুজ ক্যানভাসে, সবুজ মেক্সিকোর দর্শকদের ভিড়ে।
শুধু মেক্সিকো নয়, ফ্যান জোনে বড় পর্দায় ম্যাচটা দেখতে এসেছিল কলম্বিয়ান, ব্রাজিলিয়ান দর্শকেরাও। মূলত এদিকটাতে যে দক্ষিণ আমেরিকান দর্শকেরা বসবাস করে, মূলত তাঁরাই এসেছিলেন ফ্যান জোনে। তবে মেক্সিকোর ম্যাচ যেহেতু ছিল এদিন, মেক্সিকোর দর্শকের সংখ্যাই বেশি।
দর্শকদের লম্বা লাইন দেখে অবাক হচ্ছিলাম, ফ্যান জোনে ম্যাচ দেখতেই এত আগ্রহ, উন্মাদনা, এত মানুষের ভিড়! তাহলে আসতেকা স্টেডিয়ামে বা বিশ্বকাপের ভেন্যুর পরিবেশ কেমন, একবার বুঝুন।
মেক্সিকোর প্রথম ম্যাচটা হয়েছে তাদের ঘরের মাঠে, আসতেকা স্টেডিয়ামে। বিখ্যাত আসতেকা, যেখানে পেলে-ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস জড়িয়ে। সেখানে উপস্থিত না হতে পারলেও এই নিউইয়র্কের ফ্লাশিং মিডোসে বসে যেন মাঠের ফিল নিতে চেয়েছে দর্শকেরা। এসেই লাইনে দাঁড়িয়ে পড়লেই হয়নি, যথেষ্ট নিয়ম, নিরাপত্তা সবকিছুই মানতে হয়েছে, যেভাবে স্টেডিয়ামে দর্শক প্রবেশ করেন। সবাইকে আগে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমকর্মীদেরও অবাধ প্রবেশের সুযোগ ছিল না। তাঁদের ফিফার অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড থাকলেই হয়নি, এই ফ্যান জোনে ঢোকার আলাদা নিবন্ধন করতে হয়েছে। একটা ফ্যান জোনেও কত পেশাদারত্ব।
স্থানীয় সময় বেলা ৩টায় খেলা শুরু হওয়ার আগে একটা স্টেডিয়ামে যেসব দৃশ্য দেখা যায়, সবই যেন দেখা গেল সেখানে। জাতীয় সংগীতের আগে একটা ছোট্ট পরিচয়পর্ব হলো বড় পর্দায়। পর্দায় উদ্বোধনী ম্যাচের আগে ডিজে পার্টির তালে উন্মাতাল দর্শকেরা। জাতীয় সংগীত শুরু হতেই সবাই উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাল।
ম্যাচে একেকবার মেক্সিকো আক্রমণে যায় আর চিৎকার করে ওঠে পুরো গ্যালারি। প্রথম গোলটি হতেই গ্যালারিতে চিরচেনা মেক্সিকান ওয়েভ। এক মেক্সিকান পুরুষ দর্শকের সঙ্গে একজন নারী কলম্বিয়ান দর্শককে নেচে নেচে উদ্যাপন করতে দেখা গেল। ফুটবল বিশ্বকাপের ছবি তো এটাই, যেখানে ফুটবলপ্রেমীরা শুধু খেলাটাই উপভোগ করতে আসে না, আসে পুরো উৎসবে ডুবে যেতে। নিজের প্রিয় দলকে সমর্থন তো করবেই, কিন্তু তার চেয়ে বড় বিষয়, ফুটবলের উৎসবে মেতে ওঠে হৃদয়ের সমস্ত ভালোবাসা নিয়ে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে সাধারণ মানুষকে হেনস্তার ঘটনা বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। এবার তেমনই এক ঘটনার শিকার হয়েছেন নাঈম হাসান। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ২৬ বছর বয়সী বাংলাদেশের এই ক্রিকেটার।
৬ মিনিট আগে
টুর্নামেন্টের আয়োজক বলে কথা। তার চেয়েও বড় কথা ৩২ বছর পর মার্কিন মুলুকে হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। বাংলাদেশ সময় আজ ভোরে লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে গ্যালারি ছিল কানায় কানায় পরিপূর্ণ। গ্যালারি ভর্তি দর্শকদের হতাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্র। প্যারাগুয়েকে হেসেখেলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করল যুক্তর
২৮ মিনিট আগে
ক্লাব ফুটবলে অসংখ্য শিরোপা জিতেছেন কার্লো আনচেলত্তি। তাঁর অধীনে রিয়াল মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়নস লিগ, লা লিগার শিরোপা জেতা এক রকম অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছিল। বায়ার্ন মিউনিখের হয়েও তাঁর শিরোপা জয়ের কীর্তি রয়েছে। ক্লাব ফুটবলের পাট চুকিয়ে গত বছর হয়েছেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ। তবে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগে
১ ঘণ্টা আগে
বিশ্বকাপ আর ব্রাজিলের সম্পর্কটা যেন এক চিরন্তন রোমাঞ্চের গল্প। ১৯৩০ সালে টুর্নামেন্টের সূচনা থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিটি আসরে অংশ নেওয়া একমাত্র দল তারা। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের নামের ভারটাই আলাদা। কিন্তু ২০০২ সালের পর থেকে সোনালি ট্রফিটা সেলেসাওদের জন্য কেবলই এক মরীচিকা হয়ে আছে। দীর্ঘ ২৪ বছরের সে
২ ঘণ্টা আগে