Ajker Patrika

ব্রাজিলের সামনে মরক্কো চ্যালেঞ্জ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ব্রাজিলের সামনে মরক্কো চ্যালেঞ্জ
আগামীকাল ভোরে মরক্কোর বিপক্ষে খেলতে নামবে ব্রাজিল। তার আগে অনুশীলনে ব্যস্ত কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। ছবি : এএফপি

বিশ্বকাপ আর ব্রাজিলের সম্পর্কটা যেন এক চিরন্তন রোমাঞ্চের গল্প। ১৯৩০ সালে টুর্নামেন্টের সূচনা থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিটি আসরে অংশ নেওয়া একমাত্র দল তারা। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের নামের ভারটাই আলাদা। কিন্তু ২০০২ সালের পর থেকে সোনালি ট্রফিটা সেলেসাওদের জন্য কেবলই এক মরীচিকা হয়ে আছে। দীর্ঘ ২৪ বছরের সেই শিরোপার খরা কাটানোর নতুন মিশন এবার শুরু হচ্ছে উত্তর আমেরিকার মাটিতে। নিউইয়র্ক নিউজার্সি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আগামীকাল ভোর ৪টায় ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কাতার বিশ্বকাপে রূপকথা গড়া মরক্কো।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিল ৬ নম্বরে আর মরক্কো ৮-এ। এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে আর কোনো ম্যাচে শীর্ষ দশে থাকা দুটি দল এভাবে মুখোমুখি হচ্ছে না। অপ্টা সুপারকম্পিউটারের ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৭.৭ শতাংশ দেখালেও মাঠের লড়াইটা যে মোটেও সহজ হবে না, তা দুই দলের সাম্প্রতিক রূপই বলে দিচ্ছে।

এবারের ব্রাজিল দলটা একটু ভিন্ন আমেজের। ডাগআউটে বসে আছেন ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সফল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। মার্সেলো লিপ্পি আর ভিসেন্তে দেল বস্কের পর বিশ্ব জয়ের মুকুটের পাশাপাশি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের অনন্য কীর্তি গড়ার হাতছানি এই ইতালিয়ানের সামনে। প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে নেমেই অবশ্য বড় ধাক্কা খেয়েছেন তিনি; দলের প্রাণভোমরা নেইমার পেশির চোটের কারণে মাঠের বাইরে। কাল খেলতে পারবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। রাইট ব্যাক ওয়েসলিও থাকছেন না এই ম্যাচে। তবে বার্সেলোনার হয়ে লা লিগায় দুর্দান্ত মৌসুম কাটানো রাফিনিয়া আর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে নিয়ে আশাবাদী সমর্থকেরা।

দলীয় পরিবেশ নিয়ে গোলরক্ষক আলিসন পরশু সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আনচেলত্তি আসার পর ডাগআউটে এক অদ্ভুত শান্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আমরা এখন মাঠের বাইরের বিতর্ক ভুলে শুধু কঠোর পরিশ্রমে মনোযোগ দিচ্ছি।’

প্রতিপক্ষ যখন মরক্কো, তখন তাদের হালকাভাবে নেওয়ার ভুল ব্রাজিল নিশ্চয়ই করবে না। চার বছর আগে কাতারে সেমিফাইনালে উঠে বিশ্বকে চমকে দেওয়া ‘আটলাস লায়ন’রা এবার এসেছে অন্যতম সেরা দাবিদার হয়ে। ২০২৫ সালের আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের ট্রফিজয়ী দলটা বাছাইপর্বের সব কটি ম্যাচ জিতে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে। আশরাফ হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াস কিংবা পিএসভিতে দুর্দান্ত মৌসুম কাটানো ইসমায়েল সাইবারিদের নিয়ে গড়া দলটা যেকোনো দিন যেকোনো প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিতে পারে।

ইনজুরির কারণে ইজ্জালজুলি আর নায়েফ আগের্দকে হারিয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে থাকলেও মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি হুংকার দিয়ে রেখেছেন, ‘আমরা ব্রাজিলের ইতিহাসকে সম্মান করি, কিন্তু নিজেদের যোগ্যতার ওপর আমাদের পূর্ণ বিশ্বাস আছে। আমরা জয়ের মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামব।’

ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপে আফ্রিকান দলগুলোর বিপক্ষে ব্রাজিলের রেকর্ড দুর্দান্ত—আট ম্যাচের সাতটিতেই জিতেছে তারা। তবে একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল ২০২২ সালে ক্যামেরুনের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানের হার। আর দুই দলের শেষ দেখায় তিন বছর আগে প্রীতি ম্যাচে মরক্কো ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।

কালকের ম্যাচটি তাই শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, এটি মূলত স্নায়ু আর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের মহারণ। আনচেলত্তির লাতিন জাদুকরদের আক্রমণাত্মক ফুটবল নাকি জমাট রক্ষণে মরক্কোর ক্ষিপ্র পাল্টা আক্রমণের ধার—নিউজার্সির সবুজ গালিচায় কার হাসি চওড়া হবে, তা দেখতে অপেক্ষা বাড়ছেই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত