Ajker Patrika

ইনফান্তিনোর কাছে জবাবদিহিতা চায় কনকাকাফ

ক্রীড়া ডেস্ক    
ইনফান্তিনোর কাছে জবাবদিহিতা চায় কনকাকাফ
বেশ চাপের মুখেই আছেন ফিফা সভাপতি। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব ফুটবলের বিভিন্ন মহলের তীব্র বিরোধিতার মুখে বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। প্রস্তাবটি প্রত্যাহারের পরও তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফ।

ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত বাণিজ্যিক উদ্যোগ ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) বাস্তবায়িত হলে ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতা পরিচালনার জন্য একটি নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গঠন করা হতো, যেখানে প্রাইভেট ইকুইটি বিনিয়োগের সুযোগ থাকত। তবে শুরু থেকেই এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেন ফুটবল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ। তাদের আশঙ্কা ছিল, এতে বিশ্বকাপের মতো ফিফার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের ওপর বাণিজ্যিক প্রভাব আরও বেড়ে যেতে পারে।

এফএফই প্রত্যাহারকে স্বাগত জানালেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ফিফার বর্তমান নেতৃত্বের বড় ধরনের জবাবদিহির প্রয়োজন বলে মনে করছে কনকাকাফ। সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কনকাকাফ এবং এর ৪১টি সদস্য দেশ প্রস্তাবিত ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। এমন এক সময়ে, যখন নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রয়োজন ছিল, আমাদের সদস্যরা ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ এবং সুশাসনের নীতিগুলো রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেই ঐক্যই বিজয়ী হয়েছে।’

কনকাকাফের মতে, প্রস্তাবটি যেভাবে সামনে আনা হয়েছিল, তা ফিফার প্রতিষ্ঠিত সুশাসন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ ফিফা বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত কোনো সুশাসন কাঠামো অনুসরণ না করে, স্বচ্ছতা, পরামর্শ কিংবা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই এগোনো হয়েছে।’

আলোচিত ইস্যুতে ফিফার কঠোর সমালোচনা করেছে কনকাকাফ, ‘এত বড় একটি প্রস্তাব কোনো দুর্ঘটনাবশত এ পর্যায়ে পৌঁছায় না। এটি এমন এক নেতৃত্বের লক্ষণ, যারা ফুটবলকে আর সবার আগে রাখছে না। দুর্বল সুশাসন ও নেতৃত্বের এই একতরফা এবং চরম অনভিপ্রেত পদক্ষেপ অতীতের একই ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত ও আচরণের ধারাবাহিকতারই অংশ। এই সভাপতিত্বের পূর্ণাঙ্গ জবাবদিহি এখন অপরিহার্য।’

শুক্রবার কনকাকাফের জরুরি সভায় ৪১টি সদস্য দেশ সর্বসম্মতিক্রমে এফএফই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। তাদের অভিযোগ ছিল, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই এফইএফ পরিকল্পনাটি এগিয়ে নিচ্ছিল ফিফা। পাশাপাশি, সম্প্রতি ফিফা রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব অর্জন করার পরও প্রাইভেট ইকুইটি বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে সংস্থাটি।

সবশেষে ফুটবলের স্বার্থ রক্ষার আহ্বান জানিয়ে কনকাকাফ বলেছে, ‘আমরা সবাই কেবল অভিভাবক; এমন একটি খেলার সেবক, যা আমাদের সবার। এই সপ্তাহে আমাদের সদস্য দেশগুলোর যে ঐক্য আমরা দেখেছি, তা আবারও প্রমাণ করেছে—সাহস, সততা এবং সুশাসনের ভিত্তিতে পরিচালিত হলে ফুটবল তার প্রকৃত জায়গাতেই থাকবে; ফুটবলের হাতেই, কোনো একক ব্যক্তির হাতে নয়।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত