গ্রামে চাঁদা তুলে খেলার মাঠ ক্রয়, আরও জমি দিচ্ছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়

গ্রামের শিশু-কিশোরদের খেলার মাঠের জন্য ৬০ শতাংশ জমি কিনেছেন বাসিন্দারা। এবার তাঁদের সেই উদ্যোগের পাশে দাঁড়াচ্ছে সরকার। টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর গ্রামে কেনা মাঠের পাশের আরও ৬০ শতাংশ জমি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কিনে গ্রামবাসীকে উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
আগামীকাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী। এ জন্য জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও গ্রামবাসীর প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বাবুপুরে স্থায়ী খেলার মাঠ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণেরা। প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের গ্রামটিতে পরিবারের সংখ্যা ৭০০। ধান কাটার পর ফাঁকা জমিতে খেলার সুযোগ মিললেও চাষাবাদ শুরু হলে বন্ধ হয়ে যেত সেই ব্যবস্থা। এই সমস্যা সমাধানে গ্রামবাসী নিজেরাই জমি কেনার উদ্যোগ নেন।
ক্রীড়াব্যক্তিত্ব খোরশেদ আলম ও উদ্যোক্তা এস এম ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বে স্থানীয়দের নিয়ে মতবিনিময় সভা হয়। সেখানে সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ দেন গ্রামের বাসিন্দারা। কেউ দিয়েছেন ২০০ টাকা, কেউ ৫০০ বা ১ হাজার। আবার কেউ ৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা দিয়েও তহবিলে অবদান রেখেছেন। জমির মালিক ইকবাল হোসেন সুজন দিয়েছেন এক শতাংশ জমি।
বাকি ৫৯ শতাংশ জমি কিনতে গ্রামবাসীকে ব্যয় করতে হয়েছে ৩০ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। গত ২৯ অক্টোবর জমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন করা হয় মাঠ।
গ্রামবাসীর এই উদ্যোগের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে নজরে আসে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের। এরপর তিনি জেলার ডিসি ও ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেন। মাঠের পাশে আরও ৬০ শতাংশ জমি থাকার কথা জানতে পেরে সেটিও মন্ত্রণালয়ের অর্থে কেনার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
আমিনুল হক বলেন, ‘খেলার মাঠের জন্য বাবুপুর গ্রামের মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ আমাদের ক্রীড়াঙ্গনে এক ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সরকার ও মন্ত্রণালয় সব সময় এমন ইতিবাচক ও স্বউদ্যোগী কাজকে উৎসাহ দিতে চায়। শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা যদি এই গ্রামবাসীর পাশে থাকতে পারি তা হবে বিশেষ কিছু।’
গ্রামবাসীর কেনা ৬০ শতাংশ জমির সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কেনা জমি যুক্ত হলে মাঠের পরিসর দ্বিগুণ হবে। স্থানীয়দের সম্মিলিত উদ্যোগের সঙ্গে সরকারের এই সহযোগিতা যুক্ত হওয়ায় বাবুপুরের শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য তৈরি হচ্ছে বড় পরিসরের স্থায়ী সুযোগ।









