
২০০৬ বিশ্বকাপের সেই ফাইনাল ম্যাচ অনেকের স্মৃতিতেই অম্লান, তবে আট বছরের এক বালকের কাছে সেটা যেন এক গভীর ক্ষতের মতো। বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে সে দেখেছিল বাবার সেই পানেনকা শটে নেওয়া পেনাল্টি, আর তারপর ইতালিয়ান ডিফেন্ডার মার্কো মাতোরাজ্জিকে ঢুঁস মেরে দেখা লাল কার্ড। সেই বালক আর কেউ নয়, ফ্রান্স কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের ছেলে লুকা জিদান।
দুই দশক পেরিয়ে সেই লুকা আজ নিজেই বিশ্বকাপের মঞ্চে। তবে তিনি এখন আর গ্যালারির দর্শক নন, বরং আলজেরিয়ার গোলপোস্টের অতন্দ্র প্রহরী। ফ্রান্সের বদলে তিনি বেছে নিয়েছেন নিজের শেকড়—আলজেরিয়া।
জিদান পরিবারে বেড়ে ওঠা লুকার জন্য ফুটবলটা অনেকটা শ্বাস-প্রশ্বাসের মতোই স্বাভাবিক ছিল। ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া এবং জীবনের বেশিরভাগ সময় স্পেনে কাটানো লুকা বর্তমানে স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের দল গ্রানাদার গোলরক্ষক।
গত অক্টোবরে তিনি আলজেরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নেন, যেখানে তার দাদা-দাদি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ছোটবেলা থেকেই আলজেরিয়ান সংস্কৃতির মধ্যে বড় হয়েছি। আলজেরিয়ার হয়ে খেলতে পারাটা একটা সম্মানের বিষয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটা আমারই ছিল, তবে আমি আমার পরিবার, বাবা-মা, ভাই এবং দাদার সঙ্গে কথা বলেছি। আমার বাবা খুব খুশি হয়েছিলেন, কারণ তিনি জানতেন এটা এমন কিছু যা আমি মন থেকে করতে চেয়েছিলাম। বিশ্বকাপে খেলতে পারা যেকোনো শিশুর জন্যই একটা স্বপ্ন।’
তবে বাবার কিংবদন্তি পদবিটা তার জীবনে আশীর্বাদের চেয়ে কিছুটা চাপের বোঝা হয়েই বেশি এসেছে। স্পেনের বিভিন্ন ক্লাবে খেলার সময় যখনই কোনো গোল হজম করেছেন বা ছোট ভুল করেছেন, শিরোনাম হয়েছে—‘জিদানের ছেলের ভুল’। এই চাপকে তিনি আর ভয় পান না, বরং ছোটবেলা থেকেই এর সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন।
কেন তিনি ফ্রান্স ছেড়ে আলজেরিয়াকে বেছে নিলেন? লুকা মনে করেন, এই সিদ্ধান্তটা ছিল তার হৃদয়ের টানে। মার্সেইতে বেড়ে ওঠা এই গোলরক্ষকের পরিবারে আলজেরিয়ান সংস্কৃতি ছিল অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার দাদা-দাদি আলজেরিয়া থেকে ফ্রান্সে এসেছিলেন এবং সেই ঐতিহ্যের মূল্যবোধ লুকার ভেতর আজন্ম গেঁথে ছিল। বাবার কাছে শোনা সেই মূল্যবোধ, আজ নিজের ক্যারিয়ারে প্রতিফলন ঘটাচ্ছেন। আলজেরিয়ার হয়ে খেলতে পারাটা তার কাছে কেবল একটি জাতীয় দলে খেলার সুযোগ নয়, এটি এক গভীর আবেগ এবং সম্মানের জায়গা।
লুকার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের যাত্রাটা খুব বেশি দিনের নয়। তবে গত অক্টোবরে অভিষেকের পর থেকেই তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে টানা ৩৯০ মিনিট গোল না খেয়ে তিনি আলজেরিয়ার গোলপোস্টের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। সেই টুর্নামেন্টে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকলেও, লুকা এখন পুরো মনোযোগ দিয়েছেন বিশ্বকাপের ওপর।
তাঁর সামনে এখন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছেন লিওনেল মেসি আর বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। একটু পরই বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে মাঠে নামবেন তিনি। তবে প্রতিপক্ষকে নিয়ে মোটেও লুকা বিচলিত নন। তিনি মনে করেন, ফুটবলে নাম বড় হতে পারে, কিন্তু মাঠে জয় আসে একতা এবং পরিশ্রম দিয়ে।
বাবার ছায়ার বাইরে নিজের পরিচয়ে বিশ্বকাপে নিজেকে মেলে ধরার এটাই তার শ্রেষ্ঠ সুযোগ। বাবার মতো করে বিশ্বকাপ জিততে পারবেন কি না, সেটা সময়ই বলে দেবে, তবে আলজেরিয়ার জার্সিতে লুকা যে নিজের আলাদা এক পরিচয় গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন, তা এখন স্পষ্ট।

৫ মিনিটের সময় গোল পেয়ে উল্লাসে মেতেছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু লাইনসম্যান অফসাইডের পতাকা তোলায় থেমে যায় উদযাপন। তবে রেকর্ড ভাঙা-গড়া যে মেসির কাছে খুবই সহজ, তাঁকে থামানোর সাধ্য কার! কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে গোল বাতিলের ১২ মিনিট পর গোল করে ছুঁলেন ৬০ বছরের এক পুরোনো রেকর্ড।
১৬ মিনিট আগে
ম্যাচের শুরুটা ধীরগতির হলেও প্রথম ১০ মিনিটেই দেখা যায় চরম নাটকীয়তা। ৫ মিনিটে মেসির একটি চমৎকার চিপ শট অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। ঠিক তার তিন মিনিট পর, ম্যাচের ৮ম মিনিটে আলজেরিয়ার ফারেস শাইবি আর্জেন্টিনার জাল কাঁপিয়ে স্তব্ধ করে দেন গ্যালারি। তবে আলজেরিয়ানদের সেই উল্লাস স্থায়ী হয় মাত্র দুই মিনিট।
২৯ মিনিট আগে
তবে আলজেরিয়ার এই আনন্দ স্থায়ী হয়েছে মাত্র দুই মিনিট। ১০ম মিনিটে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির চুলচেরা বিশ্লেষণে দেখা যায়, শাইবি সামান্য ব্যবধানে অফসাইডে ছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন রেফারি।
১ ঘণ্টা আগে
কানসাস স্টেডিয়ামের মিডিয়া সেন্টারে কাল লিওনেল স্কালোনি সংবাদ সম্মেলন কাভার করতে গিয়ে শুধুই মুগ্ধ হতে হলো। বড় তারকায় ঠাসা দলকে যেভাবে ঠান্ডা মাথায় ‘কন্ট্রোল’ করেন, সেটাই করছেন সংবাদ সম্মেলনেও। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমকর্মীরা তাঁর কথা শুনে বার দুয়েক তালিও দিলেন।
১ ঘণ্টা আগে