
কানসাস স্টেডিয়ামের মিডিয়া সেন্টারে কাল লিওনেল স্কালোনি সংবাদ সম্মেলন কাভার করতে গিয়ে শুধুই মুগ্ধ হতে হলো। বড় তারকায় ঠাসা দলকে যেভাবে ঠান্ডা মাথায় ‘কন্ট্রোল’ করেন, সেটাই করছেন সংবাদ সম্মেলনেও। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমকর্মীরা তাঁর কথা শুনে বার দুয়েক তালিও দিলেন।
২০১৮ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর দুই মাস সূচিটা ফাঁকা ছিল আর্জেন্টিনা দলের। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) সময় পেয়েছিল ভেবেচিন্তে নতুন কোচ নিয়োগ দিতে। ওই সময়ে স্পেনে কোটিফ টুর্নামেন্টে দারুণ খেলছিল আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-২০ দল। সেই দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনিকে ২০১৮ সালের আগস্টে জাতীয় দলের অন্তর্বর্তী কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বড় চমক উপহার দিয়েছিল এএফএ।
নিয়োগের ওই সময়েই আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-২০ দলকে শিরোপা জিতিয়ে শুরুতেই দারুণ এক বার্তা দেন স্কালোনি। এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আর্জেন্টিনা ফুটবলে নতুন ইতিহাস তৈরি করে স্কালোনি নিজেকে শুধু আর্জেন্টিনারই নয়, প্রতিষ্ঠা করেছেন ফুটবলবিশ্বের অন্যতম সফল কোচ হিসেবে। ২৮ বছরের শিরোপা-খরা ঘুচিয়েছেন, ৩৬ বছর পর দেশকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছেন, একের পর এক ম্যাচ জিতিয়ে দলকে নিয়ে গেছেন ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের চূড়ায়।
সাফল্যের ভেলায় এগিয়ে চলা সেই স্কালোনি কত সাধারণ—সে গল্প শোনা যাক। সাংবাদিকদের ভিড়ে একজন মাইক্রোফোন তুলে নিতেই সব আর্জেন্টাইন ক্যামেরা তাক করল তাঁর দিকে। তিনি প্রশ্ন শুরু করলেন, হ্যালো লিও।
স্কালোনি (অবাক হয়ে): ওহ মার্টিন, তুমি শুরু থেকেই এখানে ছিলে? হ্যাঁ, আসলে ওই আলোটার জন্য তোমাকে দেখতে পাইনি...।
সাংবাদিক: ডি-স্পোর্টস থেকে আমি মার্টিন পালের্মো। তোমাকে সাংবাদিক হিসেবে নয়, বরং তোমার একসময়ের সতীর্থ হিসেবে বলছি। আমার প্রশ্ন হলো, এস্তুদিয়ান্তেসে আমরা যে সুন্দর মুহূর্তগুলো কাটিয়েছিলাম, তুমি কি কখনো এমন কিছুর (আর্জেন্টিনার কোচ হওয়া) কথা কল্পনা করেছিলে?
মার্টিনো পালের্মোকে চিনেছেন? আর্জেন্টিনা দলের সাবেক স্ট্রাইকার, বোকা জুনিয়র্স কিংবদন্তি। বিশ্বকাপে এসেছেন লাতিন আমেরিকান টিভি ডি-স্পোর্টসের হয়ে। স্কালোনি আর পালের্মো একসঙ্গেই খেলেছেন। আর্জেন্টিনা ফুটবলে ‘এল লোকোর (পাগল)’ অভাব নেই। তবে পালের্মোর এক বিরল রেকর্ড আছে। ১৯৯৯ কোপা আমেরিকায় গ্রুপপর্বে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে টানা তিনটি পেনাল্টি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা, তিনটিই নিয়েছিলেন পালের্মো, একটাতেও গোল করতে পারেননি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে পেনাল্টি মিসের হ্যাটট্রিক ওই একটিই!
পালের্মোকে যে উত্তর দিলেন স্কালোনি
‘মার্টিন, তোমাকে দেখে খুব ভালো লাগছে এবং আমি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছি। কারণ, আমরা একসঙ্গে খুব দারুণ কিছু মুহূর্ত কাটিয়েছি।
( মিডিয়ার উদ্দেশে ) দেখুন, সে-ও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছে । ব্যক্তিগতভাবে আমার সঙ্গে তার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। এস্তুদিয়ান্তেসে আমার খুব সুন্দর সময় কেটেছিল , কিন্তু সেই সুন্দর সময়ের আগে আমি তিন - চার মাস না খেলে কাটিয়েছিলাম , আর ওই সময়ে আমাকে সে অনেক আনন্দে রেখেছিল । ফুটবলে আমার একজন সত্যিকারের বন্ধু । মার্টিন , তোমাকে আমি অনেক সম্মান করি , এখানে আসার জন্য ধন্যবাদ । তুমি জানো , এটা কতটা কঠিন , এখানে থাকা কতটা আনন্দের এবং একই সঙ্গে কতটা কঠিন । তবে একটি নতুন বিশ্বকাপ শুরু করতে আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব । জানি , ছেলেরা তাদের সর্বোচ্চ উজাড় করে দেবে এবং আমরা সেই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি । ধন্যবাদ, মার্টিন।’
সাংবাদিকতার পরিচয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আরেকজন সাবেক খেলোয়াড় — ব্রাজিলের হালমিনিয়া ডিয়াস। এসির বিকট শব্দে দৃশ্য ধারণে সমস্যা হয় , সংবাদ সম্মেলনকক্ষে তখন এসি বন্ধ । প্রচণ্ড গরমে হালমিনিয়া রসাত্মক সুরে বললেন , ‘লিও , দেখা হয়ে খুব ভালো লাগল । দেখো , আমি স্প্যানিশ ভাষায় প্রশ্ন করতে বেশি সময় নেব না , না হলে আমরা গরমে মারাই যাব এখানে ! আমি শুধু তোমাকে অনেক অনেক শুভকামনা জানাতে চাই ।’
বিনয়ের অবতার স্কালোনির উত্তর , “ওয়াও, ও সত্যি খুব ভালো খেলত। মার্টিন (পালের্মো), তোমার চেয়েও ভালো খেলত ! তুমি গোল করতে ; কিন্তু ও দুর্দান্ত ছিল । হালমা , তুমি জানো , আমি তোমাকে কত পছন্দ করি । ( মিডিয়ার উদ্দেশে ) ও আমাদের একজন ব্রাজিলিয়ান সতীর্থ ছিল , দেপোর্তিভো লা করুনিয়াতে আমরা কত ব্রাজিলিয়ান সতীর্থ পেয়েছিলাম — মাউরো সিলভা , দোনাতো , ফ্লাভিও কন্সিসাও ... ও আমার খুব ভালো বন্ধু , তোমাকে অনেক ধন্যবাদ । আর একজন ব্রাজিলিয়ান যখন আর্জেন্টিনার জন্য শুভকামনা জানায় , তা আমার খুব ভালো লাগে । প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা ফুটবল মাঠেই সীমাবদ্ধ । যখন আর্জেন্টিনা খেলছে না , তখন কেন আমরা ব্রাজিলের ভালো পারফরম্যান্সের কথা ভাবব না ? এটাই বাস্তবতা । আমরা একসঙ্গে কী সব সময় কাটিয়েছি । আমি জানি , ও আমাদের সমর্থন করে , তাই তোমাকে অনেক ভালোবাসা বন্ধু , ধন্যবাদ।’
সংবাদ সম্মেলন থেকে বিদায় নেওয়ার সময় স্থালোনি ছেড়ে এগিয়ে এলেন । পালের্মোকে জড়িয়ে ধরলেন । এই দৃশ্য দেখে শুধুই মুগ্ধতা বাড়ে , ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা কোচ হয়েছেন তাতে কী , বন্ধুদের কাছে তিনি সেই আগের ‘ লিও ’ । যাঁদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা জানাতে এতটুকু ভুল করেন না ! হালমিনিয়ার উদ্দেশে থাম্বস আপ দিলেন । মিডিয়া সেন্টারে পালের্মো হালমিনিয়ার সঙ্গে কথা হলো এই প্রতিবেদকেরও । বেশির ভাগ স্প্যানিশই দুর্বোধ্য । বাংলাদেশের নাম শুনে যেটা বললেন , ওটাই শুধু বোঝা গেল , গ্রাসিয়াস ( ধন্যবাদ ) বাংলাদেশ ।

৫ মিনিটের সময় গোল পেয়ে উল্লাসে মেতেছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু লাইনসম্যান অফসাইডের পতাকা তোলায় থেমে যায় উদযাপন। তবে রেকর্ড ভাঙা-গড়া যে মেসির কাছে খুবই সহজ, তাঁকে থামানোর সাধ্য কার! কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে গোল বাতিলের ১২ মিনিট পর গোল করে ছুঁলেন ৬০ বছরের এক পুরোনো রেকর্ড।
২৩ মিনিট আগে
ম্যাচের শুরুটা ধীরগতির হলেও প্রথম ১০ মিনিটেই দেখা যায় চরম নাটকীয়তা। ৫ মিনিটে মেসির একটি চমৎকার চিপ শট অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। ঠিক তার তিন মিনিট পর, ম্যাচের ৮ম মিনিটে আলজেরিয়ার ফারেস শাইবি আর্জেন্টিনার জাল কাঁপিয়ে স্তব্ধ করে দেন গ্যালারি। তবে আলজেরিয়ানদের সেই উল্লাস স্থায়ী হয় মাত্র দুই মিনিট।
৩৬ মিনিট আগে
তবে আলজেরিয়ার এই আনন্দ স্থায়ী হয়েছে মাত্র দুই মিনিট। ১০ম মিনিটে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির চুলচেরা বিশ্লেষণে দেখা যায়, শাইবি সামান্য ব্যবধানে অফসাইডে ছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন রেফারি।
১ ঘণ্টা আগে
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামই হয়তো কখনো শোনেননি ভোজিনিয়া। আটলান্টিকের বুকে ভেসে থাকা ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের এক দ্বীপে বেড়ে ওঠা এই গোলরক্ষকের বাংলা কবিতার সুর চেনারও কথা নয়। কিন্তু আটলান্টার স্টেডিয়ামের মিক্সড জোনে যখন তিনি দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন, রবীন্দ্রনাথের সেই পঙ্ক্তিগুলোই যেন ভেসে উঠল।
২ ঘণ্টা আগে