Ajker Patrika

কীভাবে হচ্ছে প্রবাসী ফুটবলারদের স্কাউটিং

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ৪০
কীভাবে হচ্ছে প্রবাসী ফুটবলারদের স্কাউটিং
ইংল্যান্ডপ্রবাসী ফুটবলার অ্যাডাম আব্বাসকে (মাঝে) নিয়ে চলছে আলাপ-আলোচনা। ছবি: বাফুফে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো প্রবাসী ফুটবলারের ভিডিও বা পরিচয় সামনে এলেই তাঁকে নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। কেউ খেলেছেন ইউরোপের কোনো একাডেমিতে, কেউ কোনো বিদেশি ক্লাবের বয়সভিত্তিক দলে; এসব তথ্য ছড়িয়ে পড়তেই বাংলাদেশ জাতীয় দলে তাঁকে দেখার দাবি ওঠে। প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই হাইপ এখন বেশ পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু মাঠে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন কতটা?

সাম্প্রতিক এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশের ব্যর্থতায় প্রশ্নটা জোরালো করে তুলেছে। উজবেকিস্তানে ‘বি’ গ্রুপে তিন ম্যাচ খেলে একটিতেও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। স্বাগতিক উজবেকিস্তান, সিরিয়া ও ভারতের কাছে হেরে কোনো পয়েন্ট ছাড়াই বিদায় নিয়েছে দল। পাঁচ প্রবাসী ফুটবলার ছিলেন দলে। তাঁদের মধ্যে জিদান ইউসুফ ছাড়া আর কেউ সেভাবে নজর কাড়তে পারেননি। গত দুই বছরে হামজা-জামাল-শমিতরা বাংলাদেশ ফুটবলে প্রবাসী ফুটবলারদের প্রয়োজনীয়তা খুব ভালোভাবে তুলে ধরলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হাইপ, বিভিন্ন সমর্থকগোষ্ঠী কিংবা এজেন্টে প্রভাবিত হয়ে হরেদরে যেকোনো মানের বংশোদ্ভূত ফুটবলার অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না তো?

প্রবাসী ফুটবলার বাছাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো প্রভাব নেই বলে দাবি বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিমের। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর প্রস্তাব করা খেলোয়াড়দের নাম টেকনিক্যাল টিমের মতামতের ভিত্তিতেই দেওয়া হয়েছে। এমন অনেক খেলোয়াড়ের নামও তিনি প্রস্তাব করেছিলেন, যাঁদের টেকনিক্যাল টিম পরে প্রত্যাখ্যান করেছে।

আজকের পত্রিকাকে ফাহাদ করিম বলেন, ‘আমি যেসব খেলোয়াড়ের নাম প্রস্তাব করেছি, সবই টেকনিক্যাল টিমের মতামতের ভিত্তিতে। এমন অনেক খেলোয়াড়ও আছেন, যাঁদের নাম আমি প্রস্তাব করেছিলাম, কিন্তু টেকনিক্যাল টিম তাঁদের প্রত্যাখ্যান করেছে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী বলা হচ্ছে, সেটিও তিনি দেখেন না বলে দাবি ফাহাদের, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী বলা হচ্ছে, আমি কখনোই তা দেখি না। স্থানীয় কিংবা বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনার আমার কাছে কোনো মূল্য নেই।’

ফাহাদ করিম নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যথেষ্ট সক্রিয়। প্রবাসী ফুটবলারদের বাংলাদেশে নিয়ে আসার ঘোষণাটা সাধারণত নিজের ফেসবুক পেজে তিনি দিয়ে থাকেন।

প্রবাসী ফুটবলার নির্বাচনে বাফুফের নির্দিষ্ট কোনো স্কাউট টিম গড়ে ওঠেনি এখনো। বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ভালো মানের ফুটবলারদের খুঁজে বের করতে কী পদ্ধতি অবলম্বন করছে বাফুফে? এ ব্যাপারে জানতে বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সাইফুল বারী টিটুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও কোচ কামাল বাবুর কথায় অবশ্য উঠে এসেছে স্কাউটিংয়ের গুরুত্ব। প্রবাসী ফুটবলার আনার বিরোধিতা না করেও তিনি মনে করেন, তাঁদের অবশ্যই যথাযথভাবে যাচাই করে আনতে হবে। কামাল বাবু বলেন, ‘আমি প্রবাসী খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্ত করার বিরুদ্ধে নই। তবে অবশ্যই যথাযথভাবে স্কাউটিং করে আনা উচিত। হামজা চৌধুরী, শমিত সোমদের মতো খেলোয়াড় আসছে, ওদের কোয়ালিটি আছে, ট্রায়ালের দরকার নেই।’

কামাল বাবুর উদ্বেগ শুধু একটি-দুটি ম্যাচের ফল নিয়ে নয়, জাতীয় দলের দীর্ঘমেয়াদি পাইপলাইন নিয়েও। তিনি বলেন, ‘প্রবাসী খেলোয়াড় এনে হয়তো সাময়িক ফল পেতে পারেন। কিন্তু এতে আপনার ভিত শক্ত হবে না। ভিত আপনার লাগবে। এখানে আমাদের ধারাবাহিকভাবে এই বয়সভিত্তিক খেলা হলেই জাতীয় দলের পাইপলাইন সমৃদ্ধ হবে।’

অনূর্ধ্ব-২০ দলের খেলোয়াড় বাছাই নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জাহিদ হাসান এমিলি বলেন, ‘প্রবাসী ফুটবলারদের হুট করে দলে নেওয়া হয়নি। চার ফুটবলার যশোরে প্রায় দুই মাস অনুশীলন করেছেন। তাঁদের পারফরম্যান্স দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূল ক্যাম্পের খেলোয়াড়দেরও দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।’

তবে খেলোয়াড় বাছাইয়ের বাইরে দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যাকেও ব্যর্থতার কারণ মনে করেন এমিলি। টুর্নামেন্টে যাওয়ার আগেই কোচ ও সহকারী কোচের দ্বন্দ্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল বলে জানান তিনি। তাঁর যুক্তি, ‘কোচ আর অ্যাসিস্ট্যান্ট কোচের ভেতরে যখন দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে, তখন এই দল ভালো করবে না; সেটা তো এখান থেকেই আমাদের একটা ধারণা ছিল। পুরো প্রমাণ হয়ে গেল আসলে টুর্নামেন্টে যাওয়ার পরে।’

এখন প্রবাসী ফুটবলার অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই দেশের ফুটবলে। প্রশ্নটা নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে। অনূর্ধ্ব-২০ দলসহ বাফুফের বিভিন্ন দলে বেশ কয়েক প্রবাসী ফুটবলারের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত পারফরম্যান্স দেখতে না পাওয়ায় খেলোয়াড় নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জাতীয় দলেও ফিফা আসিয়ান কাপ সামনে রেখে বেশ কয়েকজনকে ট্রায়ালে ডেকেছেন প্রধান কোচ টমাস ডুলি। তাঁরা প্রত্যাশা মেটাতে পারবেন কি না, সময় বলে দেবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত