Ajker Patrika

সার্ক কোটায় ‘ক্ষতি’ দেখেন সাবেকেরাও

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
সার্ক কোটায় ‘ক্ষতি’ দেখেন সাবেকেরাও
জাহিদ হাসান এমিলি। ছবি: সংগৃহীত

দেশের ঘরোয়া ফুটবলে চলতি মৌসুম থেকে শুরু হয়েছে ‘সার্ক কোটা’। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলারদের স্থানীয় হিসেবে খেলাচ্ছে ক্লাবগুলো। এক ব্রাদার্স ইউনিয়নেই খেলছেন পাঁচজন পাকিস্তানি ফুটবলার। পুলিশ এফসি, ফর্টিস এফসি, পিডব্লিউডি এসসিতে সার্ক কোটায় খেলাচ্ছে তিন ফুটবলারকে। এমন ‘সুবিধা’ নিয়ে মূল স্থানীয় ফুটবলাররা হতাশ। গত পরশু আন্দোলনে নেমে তাই ছয় দফা দাবি পাঠান বাফুফের কাছে। তাঁদের প্রথম চাওয়া বাতিল করতে হবে সার্ক কোটা।

বর্তমানদের মতো সাবেক ফুটবলাররাও মনে করেন এতে ক্ষতি হচ্ছে দেশের ফুটবলেরই। গতকাল আজকের পত্রিকাকে জাতীয় দলের সাবেক ফরোয়ার্ড জাহিদ হাসান এমিলি বলেন, ‘এই প্রক্রিয়া যদি চলতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে দেখা যাবে দক্ষিণ এশিয়ার খেলোয়াড়রাই শুধু এখানে খেলবে। আমাদের লিগটা বেশ ভালো হয়। নেপাল, মালদ্বীপ বা শ্রীলঙ্কা—অন্য দেশে কিন্তু লিগ হয় না। হ্যাঁ, হলেও সেখানে মান তেমন ভালো না। সেই জায়গা থেকে সবাই কিন্তু একটা সময় এখানে ঝুঁকবে, হ্যাঁ। আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য যা হুমকি হয়ে যায়।’

সার্ক কোটার কারণে লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে বলে আশা করছিল বাফুফে। স্থানীয় ফুটবলারদের দাবি, দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলারদের কারণে খেলার সুযোগই মিলছে না তাঁদের। এমিলিও একমত এই প্রসঙ্গে, ‘এখানে মূল বিষয় হলো খেলার সুযোগ পাওয়া। আমাদের ফুটবলাররা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে কি না—এসব তর্ক আমি একপাশে রেখে দিলাম। ওই খেলোয়াড়দের খুব বেশি পারিশ্রমিকও দেওয়া লাগে না। অনেক কম টাকায় পাওয়া যায়। পরে দেখা যাবে যে এক ঝাঁক ফুটবলার চলে আসবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে আসল কথা হলো খেলার সুযোগটা তৈরি হোক।’

জাতীয় দলের সাবেক ফরোয়ার্ড শেখ মোহাম্মদ আসলাম মনে করেন, সার্ক কোটায় ক্ষতিটা হবে দেশের ফুটবলেরই। তিনি বলেন, ‘প্রতিযোগিতার মান শুধু খেলোয়াড় বাড়ালেই বাড়ে না। আমাদের সময়ে তখন ইরাকের সামির শাকির বা নাসের হেজাজির মতো বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলাররাও আসতেন। আমরা ওই মানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলেছি, তাও তখন মাত্র দুজন বিদেশি খেলোয়াড় খেলার অনুমতি ছিল। বর্তমানে সার্ক কোটার মাধ্যমে এই মানহীন খেলোয়াড়দের সুযোগ করে দিলে তা আমাদের ফুটবলের জন্য ক্ষতিকরই হবে।’

ফুটবলারদের দাবির ভালো ও খারাপ দুটো দিকই দেখছেন গোলাম সারোয়ার টিপু। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের যে খেলোয়াড় সংকট চলছে, ক্লাবগুলো দেশীয় খেলোয়াড়দের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। আবার আমাদের বাংলাদেশিদের বাঙালিদের চরিত্রই হলো, যখন কোনো একটি বিষয় নিশ্চিত হয়ে যায়, তখন নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এখানে ভারসাম্যের প্রয়োজন।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত