মাত্র আট মাস আগেও ব্রাইটন-সমর্থকদের দুয়ো শুনতে হয়েছিল ফাবিয়ান হুর্জেলারকে। ক্রিস্টাল প্যালেসের কাছে হারের পর তাঁকে বরখাস্তের দাবিও উঠেছিল। অথচ সময়ের ব্যবধানে সেই হুর্জেলারই এখন ইউরোপের আলোচিত তরুণ কোচদের একজন।
২০২৪ সালের জুনে মাত্র ৩১ বছর বয়সে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী স্থায়ী কোচ হিসেবে ব্রাইটনের দায়িত্ব নেন জার্মান এই কোচ। গত মৌসুমে টানা ব্যর্থতার পর সমালোচনার মুখে পড়লেও হাল ছাড়েননি তিনি; বরং কৌশলে পরিবর্তন এনে দলকে নতুনভাবে গড়ে তোলেন। চলতি মৌসুমে আর্সেনাল ও অ্যাস্টন ভিলার মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে ব্রাইটন এখন পয়েন্ট তালিকার তিন নম্বরে। হুর্জেলারের দলের ওপরে আছে শুধু আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার সিটি।
হুর্জেলারের কোচিংয়ের গল্প অবশ্য আরও চমকপ্রদ। চোটের কারণে মাত্র ২৩ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবল ছাড়তে হয় তাঁকে। ২০১৬ সালে জার্মানির পঞ্চম বিভাগের ক্লাব পিপিন্সরিডের খেলোয়াড়-কোচ হিসেবে শুরু হয় তাঁর নতুন যাত্রা। তখন ক্লাবের আয় সীমিত থাকায় জীবিকা নির্বাহের জন্য ধনী ব্যক্তিদের কাছে চিত্রকর্ম বিক্রির কাজও করতেন তিনি। তবে ফুটবলের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগের কারণে সেই চাকরিও হারান।
তাতে আখেরে লাভই হয়েছে হুর্জেলারের। তাঁর অধীনেই সেন্ট পাওলিকে ১৩ বছর পর বুন্দেসলিগায় ফেরান তিনি। সেখান থেকে ২০২৪ সালে ব্রাইটনের কোচের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন।
শুরুর দিকে সমালোচনা, নটিংহাম ফরেস্টের কাছে ৭-০ গোলে হার এবং অভিজ্ঞতার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন—সবই সামলাতে হয়েছে তাঁকে। তবে দলকে নতুন কৌশলে সাজিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন হুর্জেলার।
এখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো বড় ক্লাবের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে গুঞ্জন চলছে। তবে ব্রাইটন-সমর্থকদের আশা, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে থাকা হুর্জেলার বর্তমান দলের সঙ্গেই থাকবেন। যে কোচ একসময় ছবি বিক্রি করে দিন চালাতেন, তাঁর সামনে এখন ইউরোপের বড় মঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠার হাতছানি।










