Ajker Patrika

আরও এক অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

রানা আব্বাস, আটলান্টা থেকে
আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৩: ২২
আরও এক অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ফাইনালে আর্জেন্টিনা
জয়ের পর মেসির উচ্ছ্বাস। ছবি: এএফপি

একটা মহারণ ঘিরে উত্তেজনা-উত্তাপ কাকে বলে, আটলান্টা স্টেডিয়ামে ঢুকতেই বোঝা গেল। গ্যালারিতে নির্দিষ্ট কোনো দলের দর্শকের দাপট ছিল না। বরং আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের দর্শকেরা সমানে সমান। মাঠেও একই ছবি। ম্যাচের শুরু থেকেও উত্তেজনা, তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা নেমেছিল তাদের সৌভাগ্যের নীল জার্সি পরে। সেই সৌভাগ্যের জার্সি পরে এবারের বিশ্বকাপে আরেকটি অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে আর্জেন্টিনা।

৮১ মিনিটে গোলের খোঁজে থাকা আর্জেন্টিনা লেফটব্যাক নিকোলাস তালিয়াফিকোকে তুলে মাঠে নামিয়েছে লাউতারো মার্তিনেসকে। সেই মার্তিনেস হয়ে গেলেন ম্যাচের নায়ক। ৯০ মিনিটের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লিওনেল মেসির ক্রসে মার্তিনেসের জোরালে হেডে স্কোরলাইন ২–১ করে ফেলে আর্জেন্টিনা। সেই গোল আর শোধ দিতে পারেনি ইংল্যান্ড।

অথচ আর্জেন্টিনা ১–০ গোলে পিছিয়ে ছিল ৮৫ মিনিট পর্যন্ত। এই আর্জেন্টিনা মানসিকভাবে অবিশ্বাস্য শক্তিশালী, তারা অদম্য। তারা জানে কীভাবে ফিরে আসতে হয়। পুরো বিশ্বকাপের নকআউটে এভাবেই তারা ফিরে এসেছে।

৮৫ মিনিটের আক্রমণের শুরু হয়েছিল কর্নার থেকে। ক্রস না দিয়ে মেসি বক্সের বাইরে পেছনে থাকা এনসো ফের্নান্দেসের দিকে বল বাড়িয়ে দেন। ম্যাচে এর আগেই চারবার গোলের চেষ্টা করেছিলেন এনসো, কয়েক সেকেন্ড আগেই যার একটি শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়েছিলেন জর্ডান পিকফোর্ড। কিন্তু এবার আর পোস্ট কিংবা গোলরক্ষক—কেউই তাঁকে থামাতে পারেনি। বক্সের বাইরে থেকে নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নিয়ে আর্জেন্টিনাকে ১-১ গোলের সমতায় ফেরান এনসো। পরে সেটিকেই ২–১ করে ম্যাচ জিতিয়ে দেন সুপার সাব লাউতারো।

গোলের চেয় প্রথমার্ধ ছিল উত্তেজনাপূর্ণ, লড়াইয়ে পূর্ণ। বারবার খেলা থেমে যাওয়ায় সুন্দর ফুটবল খুব একটা দেখা যায়নি। দুই দলের শারীরিক সংঘর্ষ আর কথার লড়াই দেখা যায় বারবার। ম্যাচের শুরুটা ছিল খুবই জমাট। খেলা বারবার থেমেছে, উত্তাপও ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে শেষ দিকে আর্জেন্টিনার কাছ থেকেই প্রথমবারের মতো কয়েকটি সাবলীল ও ছন্দময় আক্রমণ দেখা গেছে। দুই দলই কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি প্রথমার্ধে।

প্রথমার্ধে প্রথম গোলের সুযোগ আসে আধা ঘণ্টা পেরোনোর পর, যখন জন স্টোনসের হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। আর্জেন্টিনার এনসো ফের্নান্দেসের দুর্দান্ত জোরালো শট এবং স্পেন্সের চমৎকার কিছু আক্রমণাত্মক মুভ ছিল চোখে পড়ার মতো।

দূর থেকে নেওয়া এনসোর দুর্দান্ত শটটি অল্পের জন্য পিকফোর্ডের গোলের ওপরের ডান কোণা ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। তাঁর দারুণ এক চেষ্টার আগে মেসিও দূর পাল্লার শটে লক্ষ্যভেদ করতে চেয়েছিলেন। হয়নি। প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের পর আর্জেন্টিনা আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়েও কাজ হয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়।

দ্বিতীয়ার্ধর শুরুতে আক্রমণ বাড়ায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু গোলের দেখা পেয়ে যায় ইংল্যান্ড। ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। ডান প্রান্তে থাকা মর্গান রজার্সের দিকে বাড়িয়ে দেন ডেকলান রাইস। রজার্স সেখান থেকে দূরের পোস্টে নিখুঁত এক ক্রস বাড়ান। মোলিনাকে পেছনে ফেলে সময়মতো দৌড়ে আসা অ্যান্থনি গর্ডন ঠান্ডা মাথায় আলতো ছোঁয়ায় এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে পরাস্ত করেন। বিশ্বকাপে এ নিয়ে ইংল্যান্ডের গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১৪, যা বিশ্বকাপের এক আসরে তাদের সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২২ বিশ্বকাপে ১৩ গোল করে নিজেদের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েছিল ইংল্যান্ড।

গোল খেয়েই মাথা ঝাড়া দিয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। আক্রমণের পর আক্রমণ করতে থাকে। ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের কিছু অসাধারণ সেভে ইংলিশদের কোনোভাবে রক্ষা। পরিসংখ্যান–রেকর্ড যদিও লা আলবিসেলেস্তেদের পক্ষে কথা বলছিল বারবার। আগের পাঁচটি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালেই জিতে ফাইনালে উঠেছে তারা। ষষ্ঠ সেমিফাইনাল জয় নিশ্চিত করেই তবে তারা মাঠ ছড়েছে।

১৯ জুলাই নিউজার্সির ফাইনালে স্পেনের সঙ্গে শিরোপার মিমাংসা করবে আর্জেন্টিনা। যে ফাইনাল হতে যাচ্ছে আরেক মহাকাব্যিক লড়াই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত