Ajker Patrika

‘৩৯ বছর বয়সে মেসি যা করেছে, তা অবিশ্বাস্য’

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ১৭: ১০
‘৩৯ বছর বয়সে মেসি যা করেছে, তা অবিশ্বাস্য’
এবার আর শিরোপা ধরে রাখতে পারলেন না লিওনেল মেসি। স্পেনের কাছে শিরোপা খোয়ানোর পর আর্জেন্টাইন অধিনায়কের চোখ বেয়ে পড়তে থাকে পানি। ছবি: এএফপি

নিউজার্সিতে আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল শেষে যখন ক্যামেরার লেন্স লিওনেল মেসিকে খুঁজে নেয়, তখন তাঁর চোখ থেকে অঝোরে ঝরতে থাকে পানি। হবে না-ই বা কেন? দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ব্রাজিল-ইতালির পর টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের সুবর্ণ সুযোগ ছিল আর্জেন্টিনার সামনে। কিন্তু কাছাকাছি এসে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় কাঁদলেন মেসি।

বয়স যেন শুধুই একটি সংখ্যা—এবারের বিশ্বকাপে মেসির পারফরম্যান্স দেখে কেউ এমনটা বললে মোটেও ভুল করবেন না। ৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা ৮ ম্যাচে গোল, দিয়েগো ম্যারাডোনার ৮ অ্যাসিস্টের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপে ১২ অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়া—এমন আরও অনেক কীর্তি গড়েছেন মেসি।

স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা ধরে রাখার যে মিশনে আর্জেন্টিনা নেমেছিল, সেটা আর পূর্ণ হলো না। ফাইনালের ফল যা-ই হোক, মেসির ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ লিওনেল স্কালোনি। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার কোচ বলেন, ‘আমি পুরোপুরি নিশ্চিত ছিলাম যে, সে যতদিন ইচ্ছা ততদিন খেলতে চেয়েছিল। আশা করি সে তার সতীর্থদের নিয়ে গর্বিত। আমার বিশ্বাস, সে অবশ্যই গর্বিত। আর মানুষও যেন তার অর্জন নিয়ে গর্ব করে। কারণ, ফুটবল মাঠে পা রাখা সর্বকালের সেরা ফুটবলার সে। এই বিশ্বকাপে সে যা করেছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’

টানা দুইবার শিরোপা ধরে রাখতে না পারার ব্যর্থতায় মেসির মতো কেঁদেছেন রদ্রিগো দি পল, নিকোলাস ওতামেন্দিরা। বাকরুদ্ধ স্কালোনি কোনোরকমে চোখের পানি ধরে রেখেছেন। তবে তিনি কেঁদেছেন নীরবে-নিভৃতে। স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, ‘লকার রুমে যতটা পারি কেঁদেছি। লিওর সঙ্গে আমার কথা হয়নি। আর নিজের ব্যাপারে আমি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলব। আমি কী করতে চাই, সে সম্পর্কে আমার একটা ধারণা আছে।’

ফাইনালে যে মেসি চোখের মধ্যমণি ছিলেন, সেটা তো বলাই চলে। তবে নিউজার্সিতে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আর্জেন্টাইন তারকা ফরোয়ার্ডকে একরকম বোতলবন্দী করে রেখেছেন স্প্যানিশ ফুটবলাররা। প্রথমার্ধে মাত্র ১৫ বার বল স্পর্শ করেছেন মেসি। দ্বিতীয়ার্ধেও এক রকম নিষ্প্রভ ছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। আর ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে স্পেন এগিয়ে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনা শেষের দিকে ফেরার চেষ্টা করেও স্প্যানিশ দুর্গ ভেদ করতে পারেনি।

তোরেসের জয়সূচক গোলে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় স্পেন। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে ১-০ গোলে জিতে তোরেস বলেন, ‘সব ফাইনালই কঠিন হয়। তবে প্রতিপক্ষ দলে যখন মেসির মতো একজন খেলোয়াড় থাকে, তখন সেই চাপ আর স্নায়ুচাপ তো থাকেই। কিন্তু নিজেদের সামর্থ্যের ওপরই ভরসা রেখেছিলাম। আর আবারও সেটা প্রমাণ করেছি।’

৬২ মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবালের বদলি হিসেবে নামেন তোরেস। ১০৬ মিনিটে যে গোলটা তোরেস করেছেন, তা অনবদ্য। নিকো উইলিয়ামসের হেড থেকে পাস রিসিভ করে যে বুলেট গতির শট তোরেস দিয়েছেন, তা ঠেকানোর সাধ্য ছিল না এমি মার্তিনেসের। ১-০ গোলের জয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে মঞ্চে স্পেনের ফুটবলাররা হাসিমুখে মেডেল পরছেন। দীর্ঘ ৩৯ দিনের টুর্নামেন্ট শেষ হলো লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যদের ট্রফি উদযাপন দিয়ে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত