
নিউজার্সিও স্টেডিয়ামে স্পেনের কাছে হেরে বিশ্বকাপের রানার্সআপ হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলন শেষ করতে পারলেন না লিওনেল স্কালোনি। চোখের জল আর কণ্ঠরোধ হয়ে আসা আবেগে আর্জেন্টিনার কোচ ইঙ্গিত দিলেন জাতীয় দলের কোচ হিসেবে তাঁর দীর্ঘ প্রায় আট বছরের অধ্যায়ের সমাপ্তির। আগামী সেপ্টেম্বরেই আলবিসেলেস্তেদের ডাগআউটে আট বছর পূর্ণ করবেন তিনি, আর কাতার বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর পার হয়ে গেছে সাড়ে তিন বছর।
সংবাদ সম্মেলনে লিওনেল মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে দৃঢ় কণ্ঠে স্কালোনি উত্তর দেন, ‘আমি লিওর সঙ্গে কথা বলিনি।’
তবে প্রশ্নটি শুধু মেসির নয়, জড়িয়ে ছিল তাঁর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও। ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এএফএর (আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন) সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ থাকা স্কালোনি নিজের বিষয়ে বলেন, ‘আমার ব্যাপারে বলতে গেলে, আমি সভাপতির (ক্লদিও তাপিয়া) সঙ্গে কথা বলব। আমি কী করতে চাই তা নিয়ে আমার একটা সাধারণ ধারণা আছে। আমি আমার চুক্তি পূরণ করব এবং তারপর দেখা যাবে। আমার ভাবারও প্রয়োজন আছে। এত বড় কিছু আর সম্ভব হবে কি না আমি জানি না। হতে পারে... আমাদের এটা নিয়ে কথা বলতে হবে। এই সুযোগের জন্য আমি সভাপতির কাছে কৃতজ্ঞ।’
কথা বলতে বলতে দৃশ্যত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া স্কালোনি যোগ করেন, ‘আমরা কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড় হিসেবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের সবকিছু উজাড় করে দেওয়ার চেষ্টা করেছি, এবং আমার মনে হয় এই সময়টাতে আমার একটু ভাবাটাই উচিত। এই জায়গাটি অসাধারণ। এটি একটি স্বপ্নের জায়গা, যা আমি কখনো খুঁজে পাব বলে ভাবিনি... দেখি আমি থামতে পারি কি না।’
চোখের জল মুছতে মুছতে একপর্যায়ে আবেগের চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটে স্কালোনির। কান্নাভেজা কণ্ঠে সংবাদ সম্মেলন অসমাপ্ত রেখেই তিনি বলেন, ‘আমাদের জীবনে, কোচিং স্টাফদের কেউ কখনো এই অবস্থানে থাকার কথা কল্পনাও করেনি। তাই, সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক কিছুর প্রয়োজন, যেমন নতুন করে শুরু করা এবং এমন একটি দল পুনর্গঠন করা, যা হয়তো আর কখনো তৈরি হবে না। এবং এটি কষ্ট দেয়, এটি আমার হৃদয়ের গভীরে আঘাত করে। আমি দুঃখিত।’
আবেগে ভেঙে পড়ার ঠিক আগেই স্কালোনি স্মরণ করেছিলেন ২০১৪ সালে ব্রাজিলের মাটিতে জার্মানির কাছে ফাইনাল হারার পর তৎকালীন কোচ আলেহান্দ্রো সাবেয়ার সেই বিখ্যাত উক্তি, ‘সাবেয়া যেমন বলেছিলেন, কাপ জিততে না পারাটা আমাদের কষ্ট দেয়।আমি যদি সেগুলোর পুনরাবৃত্তি করতে পারতাম, তবে আমি বলব যে কাপ জিততে না পারাটা আমাদের গভীরভাবে কষ্ট দিচ্ছে, তবে দল যেভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে তা গর্বের উৎস।’
স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচটি নিয়ে নিজের সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘আমরা আরও ভালো অবস্থায় এই ফাইনালে আসতে পারতাম, তবুও আমরা খুব কাছাকাছি ছিলাম। আমি আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে সন্তুষ্ট, এবং আশা করি সমর্থকেরাও সন্তুষ্ট। তারা শেষ পর্যন্ত তাদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে।” রানার্স-আপ হওয়া প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘মানুষকে রানার্স-আপ হওয়াটা একইভাবে উদযাপন করতে বলা কঠিন, তবে এটি তা সত্ত্বেও একটি জয়।’
সবশেষে পরাজয়ের গ্লানি ভুলে সামনে তাকানোর বার্তা দিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘খেলা শেষ। এখন আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। যখন আপনি হারবেন, তখন সব কিছুই খারাপ নয়। কৃতজ্ঞতা ছাড়া আমি আর কিছুই ভাবতে পারছি না, এবং সমর্থকদের প্রতিও, যারা আমাদের সাথে কষ্ট পেয়েছেন। আপনি হারতেই পারেন। আপনাকে নতুন করে গুছিয়ে নিয়ে আবার শুরু করতে হবে। আজ আমরা এই খেলার দুঃখজনক অংশের অভিজ্ঞতা লাভ করলাম: জিততে না পারা।’

নিউজার্সির মিঠে বিকেলে মাঠের দুই প্রান্তে একই সঙ্গে দুটি দৃশ্য দেখা গেল। এক প্রান্তে লিওনেল মেসি বসে আছেন, চোখে তাঁর অশ্রুর ধারা। প্রিয় সতীর্থ ‘দিবু’ মার্তিনেস একবার ওঠানোর চেষ্টা করলেন, মেসির যেন ওঠার শক্তিও নেই। মানসিকভাবে বিধ্বস্ত মেসি বসেই রইলেন। আরেক প্রান্তে লামিনে ইয়ামাল, মাঠেই শুয়ে পড়েছেন। খ
২ মিনিট আগে
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শেষে গতকালই দেশে ফিরেছে চ্যাম্পিয়ন স্পেন। বিমানবন্দরে নেমেই স্পেন দলের কোচ-ফুটবলাররা ছবি তুলেছেন। এবার দেশে ফিরেছে রানার্সআপ আর্জেন্টিনা দল। শিরোপা না জিতলেও রাজকীয় বরণ করা হয়েছে লিওনেল স্কালোনির দলকে।
৩৩ মিনিট আগে
টানা দুবার শিরোপা জয়ের কাছাকাছি গিয়েও ফিরে আসতে হলো লিওনেল মেসিকে। নিউজার্সিতে পরশু রাতে ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পোড়ে আর্জেন্টিনা। তীরে এসে তরি ডোবার আক্ষেপ নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন মেসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিলেন এক আবেগঘন বার্তা।
১ ঘণ্টা আগে
আগস্টে বাংলাদেশকে আতিথেয়তা দেবে অস্ট্রেলিয়া। তাসমান পাড়ের দেশে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে যাবে বাংলাদেশ। সেই সিরিজ দিয়েই অধিনায়ক হয়ে ফিরছেন প্যাট ক্যামিন্স। সঙ্গে ফিরেছেন জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়নও। তিন তারকা ফেরায় অ্যাশেজ থেকে কয়েক জন ক্রিকেটার বাদ পড়েছেন।
২ ঘণ্টা আগে