Ajker Patrika

শ্রীলঙ্কার ‘অধিকার কেড়ে নিয়ে’ ভারতকে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে দিচ্ছে আইসিসি

ক্রীড়া ডেস্ক    
শ্রীলঙ্কার ‘অধিকার কেড়ে নিয়ে’ ভারতকে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে দিচ্ছে আইসিসি
শ্রীলঙ্কার কাছ থেকে নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আয়োজকস্বত্ব কেড়ে নিতে যাচ্ছে আইসিসি। ভারতে হতে পারে প্রথমবারের মতো হতে যাওয়া আইসিসির এই ইভেন্ট। ছবি: ক্রিকইনফো

সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে প্রথম নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হতো শ্রীলঙ্কাতেই। দ্বীপ দেশটিতে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে হওয়ার কথা ছিল এই বৈশ্বিক ইভেন্ট। কিন্তু সেটা আর হতে যাচ্ছে না। শ্রীলঙ্কা থেকে এই টুর্নামেন্ট সরিয়ে নিচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি)।

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের (এসএলসি) কাছ থেকে আইসিসি আয়োজকস্বত্ব কেড়ে নিচ্ছে বলে ক্রিকইনফোর আজকের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। ক্রিকেটের অন্যতম জনপ্রিয় এই ওয়েবসাইট নিশ্চিত করেছে যে ছয় দলের এই টুর্নামেন্ট একই সময়ে অন্য কোনো ভেন্যুতে হবে। সম্ভাব্য আয়োজক হিসেবে এগিয়ে রয়েছে ভারত। অক্টোবরের পরবর্তী আইসিসি বোর্ড সভায় ২০২৭ নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আয়োজকের নাম চূড়ান্ত করা হবে।

দুই বছরে দুইটি আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ ছিল শ্রীলঙ্কার কাছে। এ বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যৌথভাবে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় হয়েছিল। কিন্তু এসএলসিতে সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে দ্বীপদেশটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের অধিকার হারিয়েছে। বর্তমানে এসএলসিতে রূপান্তরকরণ কমিটি নামে একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসন রয়েছে, যা শ্রীলঙ্কা সরকার গঠন করেছে। এই কমিটিই বোর্ডের বড় ধরনের সংস্কার কাজ করছে, যার মধ্যে সংবিধান পরিবর্তনও রয়েছে। সেগুলো তদারকি করছে।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ভেন্যু পরিবর্তনের কারণে সেটা শ্রীলঙ্কার ওপর কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, টুর্নামেন্টটি শ্রীলঙ্কায় হলে আপনাআপনি খেলার সুযোগ পেত আইসিসির এই ইভেন্টে আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ছয় দল অংশ নেবে। সবশেষ হালনাগাদ করা তথ্য অনুযায়ী মেয়েদের ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে শ্রীলঙ্কা রয়েছে ছয় নম্বরে। সেরা পাঁচে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এখন এই ছয় নম্বর স্থানটি ধরে রাখাই শ্রীলঙ্কার জন্য চ্যালেঞ্জিং।

আইসিসি রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ করা কোনো প্রশাসনকে স্বীকৃতি দেয় না। রূপান্তরকরণ কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এসএলসির প্রতিনিধিরা আইসিসির বোর্ড সভাগুলোতেও অংশ নিচ্ছেন না। এই কমিটি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বোর্ডের নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে। অথচ এই নির্বাচনী ব্যবস্থাই সংস্কার করা এবং সামগ্রিকভাবে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সংবিধান সংশোধন করাই ট্রান্সফরমেশন কমিটির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। দেশটির আইন অনুযায়ী এসব পরিবর্তন কেবল সংসদের মাধ্যমে করা সম্ভব।

তিন বছরের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার শ্রীলঙ্কা কোনো আইসিসি ইভেন্টের আয়োজনের অধিকার হারাতে যাচ্ছে। ২০২৩ সালে বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে ২০২৪ সালে ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপও শ্রীলঙ্কা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেটি হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত