
আচমকা এক ঘোষণায় গত রাতে ওয়ানডে থেকে অবসর নিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। ক্রিকেটের এই সংস্করণে দীর্ঘ ১৯ বছরের ক্যারিয়ারে কত ক্রিকেটারকেই তো সতীর্থ হিসেবে পেয়েছেন তিনি। ওয়ানডেকে মুশফিক বিদায় জানানোর পর সামাজিক মাধ্যমে সতীর্থ দিচ্ছেন আবেগঘন পোস্ট।
অবসরের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর মুশফিকের দীর্ঘ দিনের সতীর্থ ও ভায়রা ভাই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ স্মৃতিরোমন্থন করেছেন। নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে মাহমুদউল্লাহ লিখেছেন, ‘প্রিয় মুশফিক। তোমার অসাধারণ ওয়ানডে ক্যারিয়ারের জন্য অভিনন্দন। দুবাইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তোমার সেই ভাঙা পাঁজর নিয়ে সেঞ্চুরির কথা এখনো মনে আছে। তোমার ভালোবাসা, আত্মনিবেদন এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে ভালো করতে কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা সবই তাতে ফুটে উঠেছে। এটা যেকোনো ক্রিকেটারকেই অনুপ্রাণিত করবে।’ মাহমুদউল্লাহ যে সেঞ্চুরির কথা উল্লেখ করেছেন, সেটা মুশফিক ২০১৮ সালে এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করেছেন। লঙ্কানদের বিপক্ষে ১৪৪ রানের ইনিংসটা মুশফিকের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা।
সাদা বলের ক্যারিয়ারের ইতি টানার পর মুশফিকের সামনে বাকি এখন শুধুই টেস্ট। ৯৪ টেস্টের ক্যারিয়ারে এখনো পর্যন্ত ৩৭.৭৭ গড়ে করেছেন ৬০০৭ রান। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে টেস্টে সর্বোচ্চ ম্যাচ, সবচেয়ে বেশি রান দুটি রেকর্ডই ৩৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের। মুশফিকের লাল বলের ক্যারিয়ারের জন্য শুভকামনা জানিয়ে মাহমুদউল্লাহ লিখেছেন,‘নিঃসন্দেহে তুমি বাংলাদেশ ক্রিকেটের রত্ন। লাল বলে তোমার ক্যারিয়ারের জন্য শুভকামনা।’
তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ—এই পঞ্চপান্ডবেরা অনেক ম্যাচ বাংলাদেশকে জিতিয়েছেন। মুশফিকের বিদায়ে স্বাভাবিকভাবেই মাশরাফি বিন মর্তুজার স্মৃতিতে ভেসে উঠেছে অতীতের অনেক ঘটনা। নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে মাশরাফি লিখেছেন, ‘তোমার বিদায়ের ঘোষণায় এক লহমায় অনেক কিছু ভেসে উঠল চোখে। এত বছরের একসঙ্গে পথচলা, মাঠের ভেতরে-বাইরে কতশত স্মৃতি! ওয়ানডেতে তোমার রেকর্ডই তোমার হয়ে সাক্ষ্য দেবে অনেক কিছুর। তোমার ব্যাটের দ্যুতিতে কত আলোর দিন এসেছে দেশের ক্রিকেটে! তবে রেকর্ড বইয়ে লেখা থাকবে না, কতটা নিবেদন আর নিষ্ঠায় তুমি ক্যারিয়ার গড়েছিলে, কতটা ঘামের স্রোত পেরিয়ে সাফল্যের তীর ছুঁয়েছিলে।’

বিদায়বেলায় মুশফিকের কঠোর পরিশ্রম, আত্মনিবেদনের প্রশংসা মাশরাফিও করেছেন। ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ লিখেছেন, ‘তোমার পরিশ্রম, প্রতিজ্ঞা আর ত্যাগের গল্প বাংলাদেশের ক্রিকেটে প্রজন্মের পর প্রজন্মে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। আশা করি, সাদা পোশাকের বাকি অধ্যায়টুকু রঙিন করে তুলবে। তোমার ব্যাটে অভিজাত সংস্করণে দেশের ক্রিকেট সমৃদ্ধ হবে আরও।’

মুশফিকের অবসরের পর আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন শরীফুল ইসলামও। নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে শরীফুল লিখেছেন, ‘অবসর শুভ হোক মুশফিকুর রহিম ভাই। আপনি আমার কাছে একজন অনুপ্রেরণার নাম। আমি যখন বোলিং প্রান্তে থাকি, আপনি কিপিং প্রান্তে। সেই মুহূর্তটা মিস করব। সেসময় যেভাবে সমর্থন করতেন ভালো ডেলিভারি করার জন্য, সেটা অসাধারণ। আমার কাছে আপনি সব সময়ই সেরা।ধন্যবাদ বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এত সুন্দর সময় উপহার দেওয়ার জন্য। আপনার পরবর্তী জীবনের জন্য শুভকামনা।’

২০০৬-এর আগস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মুশফিকের ওয়ানডেতে পথচলা শুরু। দীর্ঘ ১৯ বছরের ক্যারিয়ারে খেলেছেন ২৭৪ ওয়ানডে। রাওয়ালপিন্ডিতে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ক্যারিয়ারের শেষ ওয়ানডেতে করেছেন ২ রান। সেই ম্যাচে প্রতিপক্ষ ছিল নিউজিল্যান্ড। ২৭৪ ওয়ানডেতে ৭৯.৭০ স্ট্রাইকরেটে ৭৭৯৫ রান করেছেন। ৯ সেঞ্চুরির পাশাপাশি করেছেন ৪৯ ফিফটি। মুশফিক বিদায় জানানোর পর তামিম নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। তাসকিন আহমেদ, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, তানজিদ হাসান তামিমরাও সামাজিক মাধ্যমে মুশফিককে নিয়ে আবেগী পোস্ট দিয়েছেন।

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) গত বছর অভিষেকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন রিশাদ হোসেন। তাঁর দল লাহোর কালান্দার্স হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন। এবার তাঁকে ৩ কোটি পাকিস্তানি রুপিতে কিনেছে পিএসএলের নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি।
৩২ মিনিট আগে
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে পাকিস্তান। এরপর থেকেই আলোচনা শুরু হয়েছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের আসন্ন মাঠের লড়াই নিয়ে। অতীতের মতো এবারও ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ নিয়ে নিজেদের মতো করে মন্তব্য করছেন সাবেক ক্রিকেটার এবং বিশ্লেষকরা। তাদের একজন সৌরভ গাঙ্গুলী।
৩৯ মিনিট আগে
পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বর্জনকে কেন্দ্র করে গত কিছু দিন চরম অস্থির ছিল ক্রিকেট দুনিয়া। এই ইস্যুতে বিভিন্ন মন্তব্য করে আলোচনায় ছিলেন ভারত এবং পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটাররা। পাকিস্তান ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেও কথাই লড়াই চলছে আগের মতোই।
২ ঘণ্টা আগে
আইসিসির সঙ্গে টানাপোড়েনের সময় কেবল পাকিস্তান বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলেছে এবং তাদের সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়েছে। বাংলাদেশের সমর্থনে ভারত ম্যাচ বর্জনের ঘোষণাও দিয়েছিল দেশটির সরকার। মূলত বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ন্যায্য সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই ছিল পাকিস্তানের একমাত্র লক্ষ্য–এমনটাই
৩ ঘণ্টা আগে