
ডারউইনে সাড়ে তিন দিনে শেষ বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্ট। এক দিকে বাংলাদেশকে নিয়ে চলছে প্রশংসা। তেমনি ৯ উইকেটে হারের পর মুদ্রার উল্টাপিঠ দেখছে অজিরা। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলোতে এই হারকে বলা হচ্ছে ‘লজ্জাজনক’। প্যাট কামিন্স-ট্রাভিস হেডদের ধুয়ে দিয়েছেন রিকি পন্টিংও।
অস্ট্রেলিয়ার মাঠে সবশেষ যখন ২০০৩ সালে বাংলাদেশ টেস্ট খেলেছিল, তখন নাজমুল হোসেন শান্ত-তানজিদ হাসান তামিম-হাসান মাহমুদদের খেলা তো দূরে থাক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকই হয়নি। এবার তাঁদের কাছেই সাড়ে তিন দিনে হেরে গেছে অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করে শান্তর বাংলাদেশ ৮৬ বলেই জয় নিশ্চিত করেছে। কামিন্সদের পারফরম্যান্স নিয়ে চ্যানেল সেভেনে পন্টিং বলেন, ‘এটা লজ্জাজনক এক হারই হলো। আমার মতে দলে পরিবর্তন আনা এখন অনিবার্য। গত গ্রীষ্মের শেষেও আমি বলেছিলাম যে এই দলটিকে নতুন করে গড়ে তুলে পরিবর্তন আনার আদর্শ সময় ছিল। কিছু খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সই এর কারণ।’
তানজিদ হাসান তামিম দ্বিতীয় ইনিংসে কোনো রান করতে না পারলেও প্রথম ইনিংসে করেছেন সেঞ্চুরি। হাসান মাহমুদ ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন। যার মধ্যে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করেছেন। যে ইনিংসে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছেন, খেলেছেন ৯২ বলে ১৪ রানের মূল্যবান এক ইনিংস। মেহেদী হাসান মিরাজ ফিফটির (৬৫) পাশাপাশি ঘূর্ণিজাদুতে নিয়েছেন ৫ উইকেট। অধিনায়ক শান্তরও ৮৪ রানের ইনিংস দারুণ অবদান রেখেছে দলের জয়ে।
তানজিদ তামিম-হাসান মাহমুদ-মিরাজদের দাপটে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকেই লেগেছে অসহায়। পন্টিংও তা-ই মনে করেন। চ্যানেল সেভেনে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘আমি প্রতিদিন সেশনভিত্তিক স্কোরকার্ড তৈরি করি। আর পুরো টেস্ট ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া একটি সেশনও জিততে পারেনি। তাহলে কী ভুল হয়েছে? এখন পর্যন্ত সবকিছুই ভুল হয়েছে।’
২০০৩ সালে বাংলাদেশের সবশেষ অস্ট্রেলিয়া সফরে দুটি টেস্টের কোনোটিই পাঁচ দিনে গড়ায়নি। দুটিতেই অজিরা জিতেছিল ইনিংস ব্যবধানে। পন্টিং তখন দুই ইনিংস ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে করেছিলেন ৬৯ রান। যার মধ্যে ছিল একটি ফিফটিও। ২৩ বছর পর বদলে গেল চিত্র। এবার সাড়ে তিন দিনে বাংলাদেশ পেয়েছে ৯ উইকেটের বিশাল জয়। প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রান করা অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে করেছে ২৮৪ রান। তবে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে ২২৮ রানের লিড পাওয়ায় অস্ট্রেলিয়া জয়ের মতো পর্যাপ্ত স্কোর জমা করতে পারেনি।
স্টিভ স্মিথ-ক্যামেরন গ্রিনের পারফরম্যান্স ছাড়া বলার কিছু নেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে। গ্রিন দ্বিতীয় ইনিংসে করেন সেঞ্চুরি (১০৪ রান)। স্মিথ দুই ইনিংসে করেছেন ৭১ ও ৪৪ রান। পন্টিং বলেন, ‘দেখুন পরিবর্তন আনার পক্ষে আমি সবার শেষে থাকতে চাই। অধিনায়ক বা খেলোয়াড় হিসেবে আমিও সবসময় দলটাকে একসঙ্গে ধরে রাখতে চেয়েছি।’

ডারউইনে বাংলাদেশের ৯ উইকেটের জয়ের পর ডেভিড ওয়ার্নার, অ্যাডাম গিলক্রিস্টদের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার পারফরম্যান্স নিয়ে বিশ্লেষণ করেন। কায়ো স্পোর্টস নিজেদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে সেই ভিডিও পোস্ট করেছে। মার্ক ওয়াহর মতে প্যাট কামিন্সের এই অস্ট্রেলিয়া ভীতু ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশের বিপক্ষে। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অলরাউন্ডার বলেন, ‘আমাদের অনেক ক্রিকেটারই যেন একটু ভয় নিয়ে ব্যাটিং করেছে। এমন কিছু তরুণ আছে যাদের দ্রুত কিছু রান করা দরকার।’
টস জিতে আগে ব্যাটিং নিয়ে অস্ট্রেলিয়া করেছে ১৯৮ রান। স্টিভ স্মিথের ৭১ রান ছাড়া বলার মতো কিছুই ছিল না প্রথম ইনিংসে। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রান করলেও তা বাংলাদেশকে হারানোর মতো যথেষ্ট ছিল না। মাত্র ৮৬ বলেই ৯ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা। অস্ট্রেলিয়ার পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মার্ক ওয়াহ বলেন, ‘আমার মনে হয় অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংয়ে কিছুটা গাফিলতি ছিল। তারা টস জিতে এই সবুজ পিচে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু তাদের শট নির্বাচন কিছুটা বাজে ছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের শেখা উচিত ছিল। যা তারা আসলে শেখেনি।’
অস্ট্রেলিয়াকে হারালেও ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে বাংলাদেশ চারে। শান্তর দলের সফলতার হার ৬৬.৬৭ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ারও অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি। ৭৭.৭৮ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে শীর্ষে অজিরা। ম্যাকেতে ২২ আগস্ট শুরু হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এবারই যে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জিতেছে তা নয়। এর আগেও তিন সংস্করণে জয়ের কীর্তি রয়েছে নাজমুল হোসেন শান্ত-মুশফিকুর রহিমদের। তবে অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাঠে টেস্টে হারানো তো চাট্টিখানি কথা নয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের উদযাপনটা তাই বাঁধনহারা।
২ ঘণ্টা আগে

ডারউইনে ইতিহাস গড়ার পর প্রশংসায় ভাসছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। যে অস্ট্রেলিয়ায় সবশেষ ২০০৩ সালে টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ, নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে ২৩ বছর পর সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে এশিয়ার এই দলটি। ঐতিহাসিক জয়ের পর ক্রিকেট বিশ্বে চলছে বাংলাদেশ বন্দনা।
৩ ঘণ্টা আগে
৯ উইকেটের জয় নিশ্চিতের পর ডারউইন হয়ে যায় এক টুকরো বাংলাদেশ। গ্যালারিতে প্রবাসী বাংলাদেশি সমর্থকেরা উড়িয়েছেন লাল সবুজ পতাকা। শুধু যে ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডের দর্শকেরাই এটা উপভোগ করেছেন তা নয়। সুদূর বাংলাদেশ থেকেও দর্শকেরা টিভিতে সেটা উপভোগ করেছেন। কিন্তু সেটা বাংলাদেশের কোনো টিভিতে নয়। খেলা
৪ ঘণ্টা আগে