‘কাউকে এক দিন-দুই দিন দেখে বিচার করা ঠিক না’

বেশি দিন আগের ঘটনা নয়। মিরপুরে বাজে শট খেলে আউট হওয়ায় সমালোচনা হয়েছিল তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে। সেই হৃদয়কে ভেন্যু বদলাতেই দেখা গেল ভিন্ন রূপে। কদিন আগেও যাঁকে নিয়ে হচ্ছিল ট্রল, সিলেটে ২৪২ রানের ইনিংস খেলে বনে গেলেন ‘নায়ক’।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জুনে টেস্ট অভিষেকের শুরুটা হৃদয়ের হয়নি মনে রাখার মতো। এমনকি মিরপুরে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪২ রান করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে মেরেছেন ডাক। শূন্য রানে আউট হওয়া নয়, বরং ম্যাচের পরিস্থিতি না বুঝে কাণ্ডজ্ঞানহীন শট খেলায় হয়েছিলেন সমালোচিত। সিলেটে প্রথম টেস্ট ফিফটিকে সেঞ্চুরি, সেঞ্চুরি থেকে ডাবল সেঞ্চুরিতে পরিণত করেছেন। বাংলাদেশের ৩৮৬ রানের মধ্যে একাই ২৪২ রানের ইনিংস খেলেছেন।
শুধু দলের ৬২.৬৯ শতাংশ রান করেছেন বলেই নয়, হৃদয় থিতু হওয়ার পর ব্যাটিং করেছেন ওয়ানডে মেজাজে। ৩৫৯ বলের ইনিংসে চার-ছক্কা মিলিয়ে ৩৩ বার বল সীমানাছাড়া করেছেন। আজ চতুর্থ দিনের খেলা শেষে যখন হৃদয় সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন, তখন তাঁর খেলার ধরন নিয়ে জিজ্ঞেস করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় বলব, আপনি যে পেশায় থাকুন না কেন, নিয়মিত পারফর্ম করবেন না। একদিন, দুইদিন হবে না। এটা খুবই স্বাভাবিক। এটা বিশ্বের সব দলেরই হয়। তো এক দিন, দুই দিনের পারফরম্যান্স দেখে কাউকে কখনো বিচার করাটা ঠিক নয়।’
সাদা বলের ক্রিকেট দিয়েই হৃদয়ের বাংলাদেশ দলে অভিষেক। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে চার-ছক্কা মেরে রানের চাকা সচল রাখার যে তাড়া থাকে, টেস্টে সেই চাপ থাকে না বললেই চলে। তবে গতকাল যেভাবে তিনি খেলেছেন ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে, মনে হচ্ছে যেন তিনি সাদা পোশাকে সাদা বলের ক্রিকেট খেলছেন। ২২ চার ও ১১ ছক্কা মেরেছেন। ডিপ মিড উইকেট, স্কয়ার লেগ, লং অন দিয়ে বল যেমন সীমানাছাড়া করেছেন, তেমনি সোজা সাইটস্ক্রিনের ওপর দিয়েও মেরেছেন। পাশাপাশি ডিপ এক্সট্রা কাভার দিয়েও ছক্কা মেরেছেন।
সব সময় শুধু আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলবেন, হৃদয়ের জন্য ব্যাপারটা তেমন নয়। বরং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে পছন্দ করেন তিনি। আজ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘দেখুন, যেটা বললাম যে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলব সব সময়, ব্যাপারটা তা নয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করি। যদি মনে হয় যে আক্রমণাত্মক খেলতে হবে, তখন আক্রমণে যাই। আপনারা অবশ্যই সমালোচনা করবেন। যদি আমরা ভুল করি, তাহলে আপনাদের সমালোচনা করার অবশ্যই অধিকার আছে। তবে একটা-দুইটা ইনিংসে না। একই ভুল যদি বারবার হয়, তখন সমালোচনা করা উচিত বলে মনে করি।’
মিরাজ যখন গতকাল আউট হয়েছেন, তখন প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের স্কোর ৭ উইকেটে ১৮৪ রান। সাদমান ইসলাম না খেলায় এমনিতেই ৯ উইকেটে অলআউট স্বাগতিকেরা। এমন পরিস্থিতিতে লিড তো দূরে থাক, ৩৫৬ রানই বাংলাদেশের অনেক দূরের পথ। তবে শেষ দুই উইকেটে বাংলাদেশ যোগ করেছে ২০২ রান।
তাইজুল ইসলাম-তাসকিনের সঙ্গে কীভাবে কঠিন পথ পাড়ি দিয়েছেন, আজ হৃদয় ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সাংবাদিকদের তিনি (হৃদয়) বলেন, ‘দেখুন, আমি প্রথমে চেষ্টা করেছি যে ওই দুইজনকে আমি কম স্ট্রাইক দেবো। এটা যখন ইনিংস যখন প্রথমে এসেছে, কারণ, এটা শুধু তাদের (তাসকিন-তাইজুল) জন্য না। এটা বিশ্বের যেকোনো ব্যাটারের জন্যই প্রথম কয়েকটা বল অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি চেষ্টা করেছি, আমার পরিকল্পনা ছিল যে যত কম বল তাদের দিতে পারি। আমি চাচ্ছিলাম যে তারা যেন আমার খেলাটা দেখে, যেন বল দেখে।’
২০১৮ সালে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মুশফিকের ২১৯ রানের রেকর্ড ইনিংস গতকাল ভেঙে হৃদয় করেছেন ২৪২ রান। তাসকিন আউট না হলে হৃদয় হয়তো ২৫০ করে ফেলতেন। এমনকি সাদমান যদি নামতেনও, তাও সুযোগ থাকত। আজ হৃদয় বলেন, ‘আমার কোনো আক্ষেপ নেই এসব নিয়ে (২৫০ রান করতে না পারা)।’


-c6094b.jpg)








-c6094b-256x144.webp)