ওয়ার্নারকে অস্ট্রেলিয়ার কেলেঙ্কারির আসল ঘটনা আগেই জানিয়েছিলেন খাজা

ডেভিড ওয়ার্নার, উসমান খাজা এখন অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটে অতীত। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললেও দুজনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক এখনো অটুট। দুজনের ক্যারিয়ারে এমন এক ঘটনা ঘটেছে, যা ক্রিকেট ইতিহাসেরই অন্যতম এক ন্যক্কারজনক ঘটনা। বহুল চর্চিত স্যান্ডপেপার গেটের কাহিনি আবারও সামনে আনলেন খাজা।
২০১৮ সালে কেপটাউনে বল টেম্পারিংয়ের সেই কাহিনি নিয়ে খাজা ‘সবর’ নামে এক আত্মজীবনী লিখেছেন। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক বাঁহাতি ব্যাটারের আত্মজীবনী প্রকাশ হচ্ছে আগামীকাল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বল টেম্পারিংয়ের সময় যেহেতু খাজা একাদশে ছিলেন, ঘটনা সব সামনে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। দেরিতে হলেও ৮ বছরের পুরোনো ঘটনা প্রকাশ্যে আনার প্রতিশ্রুতি বন্ধু ওয়ার্নারকে দিয়েছিলেন খাজা। সেজন্য কোনোরকম অনুতাপ নেই বলে আজ সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা এক ভিডিওতে উল্লেখ করেন খাজা, ‘আমি আমার শৈশবের বন্ধু ডেভিড ওয়ার্নারকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে সত্যটা বলব, যাতে সে নিজের গল্পটা বলতে পারে। এ জন্য আমি পুরোপুরি দায় নিচ্ছি। এতে আমার কোনো অনুশোচনা নেই। অতীতেও ক্রিকেটারদের অধিকার আদায়ের জন্য আমি এসিএর (অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন) মাধ্যমে লড়াই করেছি। যেটাকে সঠিক মনে করেছি, সেটার পক্ষেই দাঁড়িয়েছি। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।’
আট বছর আগে শিরিষ-কাগজ দিয়ে বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল ওয়ার্নার-ক্যামেরন ব্যানক্রফট ও স্টিভ স্মিথের বিপক্ষে। তখন অধিনায়ক ছিলেন স্মিথ। কেপটাউন টেস্টের বল টেম্পারিং কাণ্ডের পর নেতৃত্বও চলে যায় স্মিথের। যদিও পরবর্তীতে অধিনায়কত্ব করার সুযোগ পান তিনি।
শুধু এই তিন ক্রিকেটার (ওয়ার্নার-ব্যানক্রফট-স্মিথ) নন, দল হিসেবেই অপরাধ স্বীকার করা উচিত বলে মনে করেন খাজা। নিজের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে সাবেক অজি বাঁহাতি ব্যাটার লিখেছেন, ‘এই তিন ব্যাটার ন্যায়বিচার পাওয়ার যোগ্য। আমি কারও দিকে আঙুল তুলিনি। এত বছর ধরে যে বিষয়টির সন্ধান করছি, এখনো সেটিই খুঁজছি। আমাদের সবার—আমিসহ একটি দল হিসেবে সম্মিলিতভাবে দায় স্বীকার করা উচিত, যাতে আমরা শেষ পর্যন্ত এই ঘটনা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে পারি। জানেন কী? আবারও একই কাজ করতে হলে আমি এক মুহূর্তও দ্বিধা করব না।’
কেপটাউন টেস্টের বল টেম্পারিং কাণ্ডে ওয়ার্নার-ব্যানক্রফট-স্মিথরা সামাজিক মাধ্যমে ট্রলের শিকার তো হয়েছিলেনই। এমনকি তখন পুরো বিশ্বের সামনেই মাথা হেঁট হয়ে গিয়েছিল তাঁদের। খাজার আত্মজীবনী সবরে আট বছর আগে কী ঘটেছিল, তা উল্লেখ করা হয়েছে। আজ সামাজিক মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি ব্যাটার বলেন, ‘আমি কাউকে বিপদে ফেলিনি। বর্তমানে যারা দলে আছে এবং দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যারা ছিল, তাদের মধ্যে আমিসহ অন্য কেউই ভুক্তভোগী নই। এই তিনজন আমাদের সবার হয়ে দায়ভার নিয়েছিল। তারাই আসলে ভুক্তভোগী। মানুষ তাদের প্রতারক বলেছে। দর্শকদের কাছ থেকে দুয়োধ্বনি শুনতে হয়েছে। প্রকাশ্যে চরম অপমানের শিকারও হয়েছে তারা।’
২০১৮ সালের বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারি সম্পর্কে খাজা যা জানেন, তা প্রকাশ করার পেছনে তাঁর শৈশবের বন্ধু ও দীর্ঘদিনের ওপেনিং পার্টনার ওয়ার্নারকে দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতি বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, এর আগে দুইবার তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু খাজাকে প্রথমবার স্টিভ স্মিথ নিরস্ত করেন। এরপর ২০২১ সালে বোলারদের দেওয়া বিবৃতির পর তাঁর মনে হয়েছিল, এ বিষয়ে আর কিছু বলার সুযোগ তাঁর নেই।
সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে অস্ট্রেলিয়া তিনটি করে ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজ খেলেছে। দুই সিরিজেই অজিরা হেরেছে ২-১ ব্যবধানে। যেখানে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছে। এমনকি এই সিরিজ হারে ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার তিনে নেমে গেছে অজিরা। বর্তমানে তাদের সফলতার হার ৬৯.২৩ শতাংশ। সবার ওপরে থাকা নিউজিল্যান্ডের সফলতার হার ৭২.২২ শতাংশ। ৭১.৪৩ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে দুইয়ে নিউজিল্যান্ড।








-c6094b-256x144.webp)
