Ajker Patrika

‘যুদ্ধের ব্যাপারে যদি আগে জানতাম, তাহলে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতাম’

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ২০ মার্চ ২০২৬, ০৮: ৪০
‘যুদ্ধের ব্যাপারে যদি আগে জানতাম, তাহলে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতাম’
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তুমুল সমালোচিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ যেন থামারই নাম নিচ্ছে না। প্রায় এক মাস ধরে চলমান এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। কদিন আগে ভারত-শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে শেষ হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষে দেশে ফিরতে দেরি হয়েছিল ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটারদের। এবার ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটেও এর উত্তাপ টের পাওয়া যাচ্ছে।

ইংল্যান্ডের ১৮ দলের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হওয়ার কথা ৩ এপ্রিল। তবে এই টুর্নামেন্ট মাঠে গড়ানোর আগে দলগুলোকে ঠিকমতো বল সরবরাহ করতে চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে পড়েছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। কারণ, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। আর বলের চামড়াগুলো ইংল্যান্ডে তৈরি হলেও সেলাইয়ের জন্য সেটা উপমহাদেশে আসে। কাজ শেষে বাক্সে ভর্তি করে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ ধরে ইংল্যান্ডে ফেরত পাঠানো হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট বলের সংকট নিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইলকে এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ব্রিটিশ ক্রিকেট বলস লিমিটেডের মালিক দিলীপ জাজোদিয়া। যুদ্ধ বন্ধে তুমুল সমালোচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাম্পের প্রতি আকুতি জানিয়ে জাজোদিয়া বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আমরা অনেক বড় সংকটে পড়েছি। যদি আমি জানতাম, এমন কিছু হবে, তাহলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতাম। দয়া করে ক্রিকেট মৌসুম শুরু হওয়ার আগে অন্য কোনো দেশে আক্রমণ করবেন না।’

উপমহাদেশের বিভিন্ন কারখানায় পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও সীমিত কার্গো সক্ষমতা এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বলের চালান কমে গেছে। ক্লাবগুলোকে চাহিদামতো বল সরবরাহ করতে পাচ্ছে না জাজোদিয়ার প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ ক্রিকেট বলস। এমন পরিস্থিতিতে ভিন্ন পথে বল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্রিটিশ ক্রিকেট বলসের মালিক বলেন, ‘পাকিস্তান থেকে শ্রীলঙ্কা হয়ে পণ্য পাঠানো যাচ্ছে বলে শুনলাম। খরচ বেশি হলেও একটা না একটা উপায় তো বের করতেই হবে।’

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরানের ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। ট্রাম্প এ ব্যাপারে একেক সময় একেক কথা বলছেন। ১২ মার্চ রাতে ইরানের ফুটবল ফেডারেশন এক্স হ্যান্ডলে লিখেছিল, ‘বিশ্বকাপ একটি ঐতিহাসিক ও আন্তর্জাতিক আয়োজন। এর পরিচালনাকারী সংস্থা কোনো একক দেশ নয়, আয়োজন করে ফিফা। ইরান এই বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনকারী দলগুলোর মধ্যে প্রথম দিকের তালিকায় ছিল। ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে কেউ বাদ দিতে পারবে না। বরং বাদ পড়তে পারে সেই দেশ, যারা নামে স্বাগতিক দেশ। কিন্তু এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা নেই।’

এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলে ইরানের তিন ম্যাচের দুটি লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং একটি সিয়াটলে হবে। লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রবাসী ইরানি বেশি থাকায় মাঠের ভেতরে ও বাইরে বড় ধরনের রাজনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সে কারণেই বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে কথাবার্তা বেশি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপের আরেক আয়োজক মেক্সিকোতে খেলতে চাচ্ছে ইরান। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম বলেছেন, ‘ইরানের ম্যাচগুলো আয়োজন করতে প্রস্তুত আমরা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ফিফা।’

ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদী তাজ অবশ্য দেশটির ফুটবলপ্রেমীদের আশাবাদী হওয়ার মতো খবর দিয়েছেন। পার্সিয়ান সংবাদ সংস্থা ফার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গতকাল তিনি বলেছেন, ‘জাতীয় দল তুরস্কে একটি ট্রেনিং ক্যাম্প করছে। আমরা সেখানে দুটি প্রীতি ম্যাচও খেলব। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে বর্জন করব। কিন্তু বিশ্বকাপ বয়কট করব না।’

রাজনৈতিক কারণে বিশ্বকাপ থেকে কোনো দলের নাম প্রত্যাহারের উদাহরণ খুব একটা নেই। তবে ১৯৯২ ইউরোতে বলকান যুদ্ধের কারণে যুগোস্লাভিয়াকে নিষিদ্ধ করে তাদের পরিবর্তে ডেনমার্ককে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ইউক্রেন আক্রমণের কারণে রাশিয়াকেও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িক সময়ের জন্য স্থগিতাদেশ দিয়েছে ফিফা ও উয়েফা। এখন বিশ্বকাপে ইরান অংশ নেয় কি না, সেটা সময়ই বলে দেবে। এবারের বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো ৪৮ দল অংশ নিচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত