Ajker Patrika

নাহিদ রানার প্রশংসায় ওয়াসিম আকরাম

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ০৪ মে ২০২৬, ১০: ১৩
নাহিদ রানার প্রশংসায় ওয়াসিম আকরাম
নাহিদ রানাকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ওয়াসিম আকরাম। ছবি: সংগৃহীত

এলাম, দেখলাম আর জয় করলাম—নাহিদ রানার কাছে এবারের পিএসএল যেন এমনই। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ব্যাটারদের নাভিশ্বাস তুলে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। আর লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের গত রাত রানাকে দুহাত ভরে দিয়েছে। পেশোয়ার জালমির ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অংশীদার হয়ে গেলেন তিনি।

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে গত রাতে বোলিংয়েই অর্ধেক কাজ সেরে রাখে পেশোয়ার জালমি। পেশোয়ারের আগুনে বোলিংয়ে হায়দরাবাদ কিংসমেন ১২৯ রানে গুটিয়ে যায়। তাতে বাংলাদেশের গতিতারকা রানার অবদান কোনো অংশে কম নয়। গতির সঙ্গে বাউন্সার তো দিয়েছেন। পাশাপাশি লেংথেরও পরিবর্তন করে ব্যাটারদের বোকা বানিয়েছেন। ৪ ওভারে ২২ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। দিয়েছেন ১ ওভার মেডেন। গতিতারকা রানার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ওয়াসিম আকরাম ধারাভাষ্যকক্ষে বলেন, ‘গতি বলতে এটাই বোঝায়। সে তাদের সবাইকে সমস্যায় ফেলেছিল। ঘণ্টায় ১৪৫-১৫০ কিলোমিটার গতিতে তাঁর দৌড়ানোর ভঙ্গিটা দারুণ। সহজ অ্যাকশন। মোটেও জটিল নয়। তার সামনে রয়েছে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।’

রানা কাল যে দুইটা উইকেট নিয়েছেন, তার একটি গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের। অস্ট্রেলিয়ার এই বিধ্বংসী ব্যাটার রানার বাউন্সারে বিভ্রান্ত হয়ে মিড অনে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন। গোল্ডেন ডাক মেরেছেন ম্যাক্সওয়েল। আর হুনাইন শাহকে ঘণ্টায় ১৪৮ কিলোমিটার গতির ইয়র্কারে রানা বোল্ড করেছেন। ৫ উইকেটে ম্যাচ জয়ের পর পেশোয়ারের সত্ত্বাধিকারী জাভেদ আফ্রিদি আবেগে যেন ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। গতিতারকা নাহিদ রানাকে জড়িয়ে ধরেছেন আফ্রিদি। ট্রফি হাতে বাবর আজম-ফারহান ইউসুফ-রানাদের সঙ্গে আফ্রিদি ছবি তুলেছেন। রানা আজ নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে ট্রফির সামনে দাঁড়ানোর ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘সবকিছুর জন্য আলহামদুলিল্লাহ।’

রানাকে গতবার পেশোয়ার জালমি নিলেও টুর্নামেন্টটা কেটেছিল বেঞ্চে বসে। এবার সুযোগ পেয়ে দারুণভাবে লুফে নিয়েছেন তিনি। নিউজিল্যান্ড সিরিজের কারণে মাঝপথে দেশে ফেরার পর ফের বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাঁকে পিএসএল খেলার অনুমতি দেয়। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে গত রাতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর রানা বলেন, ‘আমি সত্যিই এটা উপভোগ করি। গত বছর আমি এসেছিলাম, কিন্তু খেলিনি। এই বছর এসে সত্যিই উপভোগ করেছি। শুধু নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করেছি এবং আমার দলকে সাহায্য করতে সেরাটা দিয়েছি। আমি তাই খুশি।’

অল্প সময়ের মধ্যে পাকিস্তান যেন রানার কাছে অতি পরিচিত হয়ে গেছে। ২০২৪ সালে পাকিস্তানকে তাদের মাঠে ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই করেছিল বাংলাদেশ। তাতে রানার অবদান ছিল অপরিসীম। এবার প্রথমবারের মতো পিএসএলে অংশ নিয়ে ৫ ম্যাচে ৫.৪৪ ইকোনমিতে নিয়েছেন ৯ উইকেট। যার মধ্যে এক ম্যাচে ৪ ওভারে ৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে কিপটে বোলিংয়ের রেকর্ডও গড়েছেন বাংলাদেশের গতিতারকা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত