লং অনে তানজিদ হাসান তামিম ক্যাচ ধরতেই গল্প শেষ পাকিস্তানের। তাইজুল ইসলামও সফরকারীদের ইনিংসে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়ার পর মুষ্টিবদ্ধ উদযাপন করলেন। ধারাভাষ্যকক্ষে আতহার আলী খান বলে উঠলেন, ‘এবার আরও এক বাংলাওয়াশ’। ডাগআউট থেকে ভেসে আসছে করতালি। শান্ত-তাইজুল-মাহমুদুল হাসান জয়সহ পুরো বাংলাদেশ করল বাঁধভাঙা উদযাপন। লাঞ্চের আগেই পাকিস্তানকে ধবলধোলাইয়ের স্বাদ উপহার দিল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের প্রয়োজন ৩ উইকেট, পাকিস্তানের দরকার ১২১ রান—সিলেটে আজ পঞ্চম দিনের সমীকরণ ছিল এটাই। যেভাবে মোহাম্মদ রিজওয়ান-সাজিদ খান ব্যাটিং করছিলেন, ততই বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকদের চিন্তা বাড়ছিল। শেষ পর্যন্ত হেসেখেলেই ম্যাচটা জিতেছে বাংলাদেশ। ৭৮ রানের জয়ে পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এমন এক সময় পেল, যখন ঈদুল আজহা সমাগত। পাকিস্তানকে টানা দুইবার টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই করে দেশবাসীকে অগ্রিম ঈদের উপহার দিলেন শান্তরা।
সিলেটে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম চার দিন কোনোরকম বৃষ্টি বাগড়া দেয়নি। গতকাল মধ্যরাতে বৃষ্টির পর আজ শেষ দিনের সকালে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। খেলা ১০টার পরিবর্তে ১০টা ১৫ মিনিটে শুরু হয়। ৮৬ ওভারে ৭ উইকেটে ৩১৬ রানে পাকিস্তান শুরু করে পঞ্চম দিনের খেলা।
শেষ দিনের প্রথম ওভারেই পাকিস্তানকে ধাক্কা দিতে পারত বাংলাদেশ। ৮৭তম ওভারের শেষ বলে নাহিদ রানার বল কাট করতে যান রিজওয়ান। ব্যাটের কানায় লাগা বল গালি এলাকায় ডান দিকে ঝাঁপিয়েও নাগাল পাননি মেহেদী হাসান মিরাজ। পাকিস্তানের স্কোর তখন ৩১৮। রিজওয়ানের রান তখন ৭৭। এই ক্যাচ মিসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে পাল্টা আক্রমণ করেন রিজওয়ান-সাজিদ। একের পর এক নো বল-মিস ফিল্ডিং করতে থাকেন রানা-তাসকিনরা।
রিজওয়ান-সাজিদের পাল্টা আক্রমণে বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকদের হৃৎপিণ্ড কাঁপতে থাকে নিয়মিতই। অনেকেরই হয়তো তখন ২০০৩ সালে মুলতানের স্মৃতি ভেসে আসছিল। সেবার বাংলাদেশের হাতের নাগালে থাকা ম্যাচ কেড়ে নিয়েছিলেন ইনজামাম উল হক। কিন্তু এবার আর সেটা হয়নি। ৯৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে সাজিদকে (২৮) ফিরিয়ে জয়ের রাস্তা তৈরি করলেন তাইজুল। স্লিপে ডাইভ দিয়ে ক্যাচ ধরেছেন শান্ত।
অষ্টম উইকেটে রিজওয়ান-শান্তর ৭৪ বলে ৫৪ রানের জুটি ভাঙার পরই সাজিদ হতাশায় ব্যাট দিয়ে প্যাডে আঘাত করেছেন। ৯৭তম ওভারের প্রথম বলে রিজওয়ানকে ফিরিয়ে শরীফুল ইসলাম দৌড়ে যেভাবে উদযাপন করেছেন, সেটা যেন গলার কাঁটা ফেরানোর আনন্দই। পয়েন্টে মিরাজের হাতে ক্যাচ তুলে দেওয়ার পর রিজওয়ান হয়তো থমকে গেলেন এই ভেবে, ‘ইশ! এই শটটা কেন এখন খেললাম।’
রিজওয়ান যখন আফসোসে পুড়েছেন, বাংলাদেশ দল তখন উদযাপনে ব্যস্ত। ১৬৬ বলে ১০ চারে ৯৪ রানের সাজানো ইনিংসে রিজওয়ান পাকিস্তানকে জয়ের আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত তা আর সম্ভব হয়নি। ৯৮তম ওভারের দ্বিতীয় বলে খুররম শেহজাদকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের গল্পের ইতি টেনেছেন তাইজুল। ৪৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান ৯৭.২ ওভারে ৩৫৮ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। তাইজুল ৩৪.২ ওভারে ১২০ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট। দুই উইকেট পেয়েছেন নাহিদ রানা। একটি করে উইকেট পেয়েছেন শরীফুল ও মিরাজ।
সিলেটে টস হেরে আগে ব্যাটিং পেয়ে প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান করেছে বাংলাদেশ। লিটন দাস ১২৬ রান করেছেন। জবাবে পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ২৩২ রানে। নাহিদ রানা, তাইজুল তিনটি করে উইকেট পেয়েছেন। তাসকিন আহমেদ, মিরাজ পেয়েছেন দুটি করে উইকেট। আর দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকুর রহিমের রেকর্ড ১৪তম সেঞ্চুরি (১৩৭), লিটনের ফিফটিতে (৬৯) বাংলাদেশ করে ৩৯০ রান। ১৯৫ রান করে ম্যাচসেরা লিটন। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২৫৩ রান করে সিরিজসেরার পুরস্কার উঠল মুশফিকের হাতে। এর আগে মিরপুরে প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

ভাইটালিটি গ্রাউন্ডে গতকাল ম্যাচ শেষে আর্লিং হালান্ডের মুখে হাত দিয়ে দাঁড়ানোর ছবিটাই হয়ে থাকল ম্যানচেস্টার সিটির প্রতীকী ছবি। যে প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়া সিটি একরকম অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছিল, এবার তারা কাছাকাছি এসেও জিততে পারল না শিরোপা। চ্যাম্পিয়ন হতে না পারার হতাশা ঘিরে ধরেছে কোচ পেপ গার্দিওলাকে।
১ ঘণ্টা আগে
বোর্নমাউথ-ম্যানচেস্টার সিটি ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পরই উৎসব লন্ডনের লাল অংশে। বুঝতেই পারছেন এখানে আর্সেনালের কথা বলা হচ্ছে। ২২ বছর পর যে শিরোপার অপেক্ষা, অবশেষে সেই অপেক্ষা ফুরোল গানার্সদের। ২০২৫-২৬ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগজয়ী দলকে অভিনন্দন জানালেন ম্যান সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা।
২ ঘণ্টা আগে
ক্রিকেট তো শুধু দক্ষতারই খেলা নয়। মনস্তাত্বিক খেলাও বটে। আচরণবিধির শিকল পায়ে থাকলেও মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে জিততে স্লেজিংয়ে তৈরি হয় অন্য রকম উত্তেজনা। এসব কথার লড়াইয়ে বাংলাদেশের অংশ নেওয়ার উদাহরণ কম। বরং বাংলাদেশকে কথার চাবুকে কাবু করার উদাহরণই বেশি। তবে আজ মোহাম্মদ রিজওয়ান-লিটন দাসের মধ্যে যা হয়েছে
১৪ ঘণ্টা আগে
দরজায় কড়া নাড়ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পুরো বিশ্ব বুঁদ হয়ে থাকবে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের’ উন্মাদনায়। বিশেষ করে বাংলাদেশে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে নিয়ে দেখা যায় অন্য রকম এক উত্তেজনা। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বেজে গেছে বিশ্বকাপ ফুটবলের দামামা। আর্জেন্টিনা-ভক্ত শাহরিয়ার নাফীসকেও স্পর্শ
১৪ ঘণ্টা আগে