
মুশফিকুর রহিমের বাবা মাহবুব হামিদ নিয়মিতই ছেলের খেলা দেখতে মাঠে আসেন। দেশে-বিদেশে বিভিন্ন স্টেডিয়ামে ছেলের খেলা দেখেছেন। মিরপুর শেরেবাংলায় মুশফিকের শততম টেস্ট দেখতে তাঁর স্ত্রী-ছেলের সঙ্গে বাবা ও মা এসেছেন। এবার মাইলফলকের এই টেস্ট দেখতে এসে আক্ষেপ ঝরল তাঁর বাবার। তবে সেটা ছেলে মুশফিককে নিয়ে নয়।
মিরপুরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্ট খেলতে নেমেছেন মুশফিক। গতকাল প্রথম দিনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ছিলেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। আজ দ্বিতীয় দিনে বিসিবির হসপিটালিটি বক্সে বসে খেলা দেখছিলেন মুশফিকের বাবা মাহবুব ও মা রহিম খাতুন। খেলা দেখার ফাঁকে আজকের পত্রিকাকে মাহবুব বলেন, ‘এই টেস্ট শুরুর এক দিন আগে দেখলাম, একজন লিখেছেন মুশফিক শততম টেস্টে অবসর নিচ্ছেন। অবসরে তো যাওয়া লাগবেই। আজ হোক, কাল হোক, একটা সময় অবসর নিতে হবে। শুধু এই অবসরই না। দুনিয়া থেকেই অবসর নেবে। কিন্তু এই কথাগুলো কিন্তু বুকে বাঁধে।’
মুশফিকুর রহিমের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৫ টেস্ট খেলেছেন মুমিনুল হক। মাহবুবের মতে মুমিনুলের শততম টেস্ট খেলতে হলে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। আজকের পত্রিকাকে মুশফিকের বাবা বলেন, ‘মুমিনুলের বোধ হয় ৭২,৭৩ নাকি ৭৫ ম্যাচ হয়েছে। আরও ২৫-২৬টা টেস্ট খেলতে হবে তার। ২৫-২৬টা খেললে কমপক্ষে চার-পাঁচ বছর লাগবে। ফিটনেস ধরে রাখতে হবে। নানা আলোচনা সামলাতে হবে। আজ থেকে ৩-৪ বছর আগে মুশফিককে তো ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল সবাই। অনেক মিডিয়াতে এমন এমন কথা হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছিল যে ক্রিকেট খেলতে আসাটাই মুশফিকের জন্য যেন ঠিক ছিল না। আলোচনাটা এরকমই হচ্ছিল যে বয়স হয়ে গিয়েছে। বুড়ো হয়ে গিয়েছে। সবাই চলে গিয়েছে।’
বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ, সর্বোচ্চ রান, সর্বোচ্চ ডাবল সেঞ্চুরি—সব কীর্তিই মুশফিকের। আজ মিরপুরে সেঞ্চুরি করে ১১তম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্টে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েছেন তিনি। মাইলফলকের টেস্টে ইতিহাস গড়া মুশফিককে আর কত টেস্টে খেলতে দেখতে চান—এই প্রশ্নের উত্তরে মুশফিকের বাবা বলেন, ‘এটা তো ওপরওয়ালা ঠিক করবেন। আমি মনে করি, সে যত দিন উপভোগ করবে, সে তত দিন খেলবে। আপনাকে বলতে হবে না। টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে ছেড়ে দিয়েছে তো। সে যখন উপভোগ করবে না, ছেড়ে দেবে।’
বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্ট খেলতে নেমে গতকাল প্রথম দিনে সেঞ্চুরি প্রায় করেই ফেলেছিলেন মুশফিক। ৯০ ওভার শেষে ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা মুশফিকের সেঞ্চুরির জন্য হয়তোবা দিনের খেলা বাড়িয়ে নেওয়ার কথাবার্তাই চলছিল। আজ দ্বিতীয় দিনের প্রথম ওভারটা যখন আয়ারল্যান্ডের বাঁহাতি স্পিনার ম্যাথু হামফ্রিজ করতে আসেন, সেই ওভারে কোনো রান নিতে পারলেন না মুশফিক। এমনকি কয়েকবার আউট হতে হতেও বেঁচে গিয়েছেন তিনি। অবশেষে ৯২তম ওভারের তৃতীয় বলে জর্ডান নিলকে স্কয়ার লেগে ঠেলে সিঙ্গেল নিয়ে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন মুশফিক।
মুশফিকের ১ রানের অপেক্ষা যেন মাহবুবকে ভীষণ চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল। আজকের পত্রিকাকে আজ মুশফিকের বাবা বলেন, ‘একবার মনে হলো, আল্লাহ, মিসই বোধ হয় হয়ে গেল। কাল রাতে একটু কষ্টকর ঘুম হয়েছে। কারণ হলো যে ৯৯ রানে আগেও আউট হয়েছে। ৯৮ রানেও আউট হয়েছে। সেই সেঞ্চুরি মিসগুলো বড় করে দেখিনি। কিন্তু এই সেঞ্চুরি তো অন্য সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি।পৃথিবীর ১১তম ব্যক্তি হওয়ার সেঞ্চুরি। এটা তো একটা বিরাট বিষয়।’

সিলেটে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের নিয়ন্ত্রণ এখন বাংলাদেশের হাতে। অথচ গতকাল প্রথম দিনে প্রথম দুই সেশনে পাকিস্তান যেভাবে খেলছিল, সেটা বজায় থাকলে হতে পারত অন্য কিছু। তবে দল ভালো অবস্থায় থাকায় লিটন দাসকে কৃতিত্ব দিয়েছেন নাহিদ রানা।
১১ ঘণ্টা আগে
ব্যাটারদের কাছে রীতিমতো আতঙ্কে পরিণত হয়েছেন নাহিদ রানা। ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতির পাশাপাশি লেংথের পরিবর্তন করে একের পর এক উইকেট তুলে নিচ্ছেন রানা। যার মধ্যে পাকিস্তানের তারকা ব্যাটার বাবর আজমকে তিনবার আউট করেছেন রানা। তবে বাংলাদেশের আলোচিত গতিতারকাকে ভয় পান না বাবর।
১১ ঘণ্টা আগে
তারকাখ্যাতির বিড়ম্বনা কেমন হয়, সেটা টের পাচ্ছেন বিরাট কোহলি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তো বটেই, আইপিএলেও একের পর এক রেকর্ড গড়ে যাচ্ছেন তিনি। বাজে অবস্থা থেকে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়, সেই দৃষ্টান্তও স্থাপন করছেন তিনি। তবে ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্ট নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন কোহলি।
১৩ ঘণ্টা আগে
ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বোলিং ও বাউন্সারে ব্যাটারদের হরহামেশাই কুপোকাত করেন নাহিদ রানা। আগুনে বোলিংয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে হই চই ফেলে দিয়েছেন রানা। বিশ্বের অধিকাংশ ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তবে কখনো কোনো বোলার বাউন্সার মারলে পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশের গতিতারকা।
১৪ ঘণ্টা আগে