Ajker Patrika

‘পাকিস্তান এখন মেরুদণ্ডহীন, তারা হাসি-তামাশার পাত্রে পরিণত হয়েছে’

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ৩২
‘পাকিস্তান এখন মেরুদণ্ডহীন, তারা হাসি-তামাশার পাত্রে পরিণত হয়েছে’
বোলাররা ভালো করলেও ব্যাটারদের ব্যর্থতায় একের পর এক ম্যাচ হারছে পাকিস্তান। ছবি: এএফপি

ব্যর্থতার চক্রে ঘুরপাক খাচ্ছে পাকিস্তান। হেডিংলির পর লর্ডসেও ভরাডুবি হয়েছে পাকিস্তানের। বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান এক ম্যাচ আগেই সিরিজটা খুইয়ে ফেলল। ভরাডুবির পর খেপেছেন সাবেক ক্রিকেটাররা। এমনকি বর্তমান পাকিস্তান দলকে শুনতে হচ্ছে মেরুদণ্ডহীন শব্দও।

এ বছরের মে মাসে বাংলাদেশ সিরিজে ভরাডুবির পর পাকিস্তানের টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব হারান শান মাসুদ। তাঁকে সরিয়ে বাবর আজমকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় অধিনায়কত্ব। সাদা পোশাকে তিন বছর পর নেতৃত্ব ফিরে পেয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ১-১ সমতায় ড্র করে পাকিস্তান। তবে ইংল্যান্ড সফরে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় দুই টেস্ট হেরে আগেভাগেই সিরিজ খোয়াল পাকিস্তান। লর্ডসে ১৯৪ রানে হারের পর সামাজিক মাধ্যমে বাবর-মোহাম্মদ রিজওয়ানদের ধুয়ে দিচ্ছেন সাবেকরা। মোহাম্মদ হাফিজ নিজের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘পাকিস্তান ক্রিকেট এখন মেরুদণ্ডহীন।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ১৯৩ রান করে সিরিজসেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন বাবর। কিন্তু ইংল্যান্ড সফরে নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন তিনি। হেডিংলিতে খেলতে না পারলেও লর্ডসে খেলার সুযোগ পেয়ে করেছেন ১৪ রান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তান ১১০ ও ১৯৪ রানে অলআউট হয়েছে। যার মধ্যে আজান আওয়াইসের প্রথম ইনিংসে ৪৬ ও দ্বিতীয় ইনিংসে সৌদ শাকিলের ৯৭ রান ছাড়া বলার কিছু নেই। অথচ বোলাররা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে যাচ্ছেন। লর্ডসে ইংল্যান্ডের ২০ উইকেটের ১৪ উইকেট ভাগাভাগি করে নিয়েছেন মোহাম্মদ আব্বাস ও মোহাম্মদ আলী। আব্বাস ও আলী পেয়েছেন ৯ ও ৭৫উইকেট।

এক সময় ওয়াকার ইউনিস-ইউনিস খান-শোয়েব আখতার-ওয়াসিম আকরামের মতো কিংবদন্তিরা যেখানে পাকিস্তানকে একের পর এক ম্যাচ জিতিয়েছেন, সেই দলের বর্তমান অবস্থা দেখে হতাশ আহমেদ শেহজাদ। নিজের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে শেহজাদ লিখেছেন, ‘এত সমৃদ্ধ ইতিহাস ও কিংবদন্তিতুল্য মর্যাদার একটি ক্রিকেটীয় দেশ আজ বিশ্ব ক্রিকেটে হাসি-তামাশার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট এর চেয়ে অনেক ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য।’

শুধু ইংল্যান্ড সিরিজই নয়, পাকিস্তানের ব্যর্থতা আরও আগে থেকেই। ২০২৪ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ১৮ টেস্ট খেলে জিতেছে কেবল পাঁচটিতে। হেরেছে ১৩ টেস্ট। যার মধ্যে বাংলাদেশের কাছে টানা চার টেস্ট হেরেছে পাকিস্তান। বাবর-মাসুদদের হতাশাজনক পারফরম্যান্স দেখে শেহজাদ লিখেছেন, ‘পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য আমি যদি কিছু করতে পারতাম! দলটির এমন পতন দেখাটা সত্যিই হৃদয়বিদারক। গত দুই বছর ধরে আমরা এর গতিপথ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে আসছি। আশা করেছিলাম দায়িত্বশীলরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন। কিন্তু পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক এটা।’

হেডিংলির পর লর্ডসে হেরে টেস্টে পাকিস্তানের জয়ের চেয়ে হারই বেশি। ১৯৫২ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ৪৭৩ টেস্ট খেলে তারা জিতেছে ১৫৩ ম্যাচ, হার ১৫৪টিতে। ড্র করেছে ১৬৬ ম্যাচ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত