Ajker Patrika

সবুজসংকেত পেয়েও সাকিবের দেশে না ফেরার ব্যাখ্যায় বিসিবি যা বলছে

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯: ১৯
সবুজসংকেত পেয়েও সাকিবের দেশে না ফেরার ব্যাখ্যায় বিসিবি যা বলছে
লম্বা সময় ধরে জাতীয় দলের বাইরে আছেন তারকা অলরাউন্ডার। ফাইল ছবি

দেশে ফেরার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সবুজ সংকেত পেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরতে না পারায় বিসিবির পাশাপাশি সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া এবং বর্তমান ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে দায়ী করেন এই অলরাউন্ডার। সম্প্রতি আজকের পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান সাকিব।

সাকিবের অভিযোগ, ক্রিকেট বোর্ডে সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে তাঁর দেশে ফেরা হয়নি। বিষয়টি নিয়মের বাইরে হওয়ায় বিসিবির নিষিদ্ধ হওয়া উচিত বলে মনে করেন সাবেক অধিনায়ক। সাকিবের সেসব অভিযোগের কোনো জবাব দিতে পারেননি বিসিবি পরিচালক এবং বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইফতেখার রহমান মিঠু। বিষয়টি তৎকালীন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের কোর্টে বল ঠেলে দিলেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমকে মিঠু বলেন, ‘এই বিষয়টা নিয়ে (সাকিবের দেশে ফিরতে না পারা) মন্তব্য করার মতো আমি কেউ না। এখন আমি বিপিএল নিয়ে কথা বলছি। এটা মূল্যবান প্রশ্ন। এটার জন্য সঠিক কাউকে প্রশ্ন করতে পারেন। এই ঘটনাটা বর্তমান সভাপতির সময় ঘটেনি। তাই বলে যে আমরা বলব বিসিবির এখানে কিছু না সেটা তো না। এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব ছিল কিনা সেটা তখনকার বোর্ড সভাপতি (ফারুক আহমেদ) বলতে পারবেন। কারণ সভাপতি হিসেবে তখন উনিই সব যোগাযোগ করেছেন।’

সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেছিলেন, সাকিব যেন খেলতে না পারে সেটা নিয়ে তিনি বিসিবিতে আলাপ করবেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেনের সঙ্গে কথা বলবেন মিঠু।

এই প্রসঙ্গে বিসিবির এই সংগঠক বলেন, ‘এটা ভালো প্রশ্ন। আমার মনে হয় বিষয়টা নিয়ে আমাদের আলাপ করা উচিত। সাকিব দারুণ একজন ক্রিকেটার, বাংলাদেশের সম্পদ, বাংলাদেশ ক্রিকেটের সম্পদ। আজ পর্যন্ত ওর মতো ক্রিকেটার বাংলাদেশে আসেনি। যেহেতু আলাপটা উঠেছে, এটা নিয়ে আমি বিসিবি সভাপতির সঙ্গে আলাপ করব। কিন্তু সভাপতি এবং মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান সিদ্ধান্ত নেবে কীভাবে বিষয়টা নিয়ে কথা বলবে।’

এর আগে গত পরশু আজকের পত্রিকাকে সাকিব বলেন, ‘আমাকে সরাসরি ক্রীড়া উপদেষ্টা ও আইন উপদেষ্টা গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছিলেন। আমি প্লেনে উঠেছি। বিসিবি থেকে আমাকে পুরো নিশ্চিত করা হয়েছে। (যুক্তরাষ্ট্র থেকে) তারপর আমি প্লেনে উঠেছি। দুবাইয়ে নামার পর তাদের সব জায়গা থেকে আবার বলছে, না, তাদের নাকি ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। যদি না আসি, তাহলে ভালো হয়। আমি আর যাইনি।’

বিসিবিতে সরকারের হস্তক্ষেপ হওয়ায় রীতিমতো হতাশা প্রকাশ করেছেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘কথা হচ্ছে ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্কই থাকার কথা নয়। আর ক্রিকেট বোর্ড যদি সরকারের ওপর চাপিয়ে দেয়, এর মানে, ক্রিকেট বোর্ডে সরকারের হস্তক্ষেপ আছে। এর অর্থ হলো, বিষয়টা আইসিসিতে যাওয়া উচিত। তাদের সঙ্গে সঙ্গে নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়া উচিত (হাসি) ! আসলে ওই সাবজেক্টেই যাওয়া উচিত নয়। আমাকে যদি ক্রিকেট বোর্ড ফেরত না নিতে পারে (দেশে), এটা তাদের ব্যর্থতা। ঠিক না? আমার কী করার আছে এখানে?’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত