Ajker Patrika

বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি পদ সামলেছেন অধ্যাপক হাছিব, আছে গবেষণাকর্মও

শিক্ষা ডেস্ক
আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬: ২০
বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি পদ সামলেছেন অধ্যাপক হাছিব, আছে গবেষণাকর্মও
শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. এ এস এম এ আবদুল হাছিব।

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য হয়েছেন শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. এ এস এম এ আবদুল হাছিব। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ চার দশকের শিক্ষকতা, গবেষণা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ ড. হাছিব বর্তমানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ন্যানো ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। গতকাল রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে সরকার তাঁকে সাত কলেজের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়।

অধ্যাপক আবদুল হাছিব ১৯৮৪ ও ১৯৮৬ সালে যথাক্রমে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ১৯৯২ সালে বেলজিয়ামের ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব লুভেন থেকে ম্যাটেরিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি বুয়েটের ন্যানো ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

এর আগে তিনি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অবস্থিত মালয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ২০০৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিংয়ের ইনোভেটিভ ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি রিসার্চ ক্লাস্টারের ডিন হিসেবে ২০১৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ২০২১ সালে মালয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সহযোগী উপাচার্য (ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড কমিউনিটি এনগেজমেন্ট) হিসেবেও কাজ করেছিলেন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়টির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান এবং বুয়েটের ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি একাডেমিক ও গবেষণা প্রশাসনে উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। বিভাগীয় প্রধান ও প্রোগ্রাম সমন্বয়ক হিসেবে তিনি মেকানিক্যাল ও ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামের অ্যাক্রেডিটেশন কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন এবং আউটকাম–বেইজড এডুকেশন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

মালয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় প্রশাসনে গবেষণা ডিন হিসেবে তিনি প্রতিবছর মিলিয়ন ডলারের গবেষণা কর্মসূচি পরিচালনা করেন। তাঁর উদ্যোগে ইমপ্যাক্ট ওরিয়েন্টেড ইন্টারডিসিপ্লিনারি রিসার্চ প্রোগ্রাম, গ্র্যান্ড চ্যালেঞ্জেস রিসার্চ প্রোগ্রাম এবং ইন্ডাস্ট্রি ড্রিভেন ইনোভেটিভ গ্র্যান্ট প্রোগ্রামসহ বিভিন্ন উদ্ভাবনী গবেষণা অনুদান কর্মসূচি চালু হয়। ২০১৩ ও ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির কৌশলগত গবেষণা পরিকল্পনা প্রণয়নেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

গবেষণার ক্ষেত্রে সেমিকন্ডাক্টিং অক্সাইডভিত্তিক ন্যানোস্ট্রাকচার, গ্যাস সেন্সিং প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক প্যাকেজিং উপকরণ এবং প্রতিকূল পরিবেশে উপকরণের অবক্ষয়–এসব বিষয় তাঁর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। তিনি যুক্তরাজ্যের ইনস্টিটিউশন অব মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্সের ফেলো এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কাউন্সিলের চার্টার্ড ইঞ্জিনিয়ার। এ ছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দ্য মিনারেলস, মেটালস অ্যান্ড ম্যাটেরিয়ালস সোসাইটি (টিএমএস) এবং ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ার্সেরও (আইইইই) সদস্য।

সম্পাদকীয় কাজেও তিনি সমানভাবে সক্রিয়। আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ার থেকে প্রকাশিত এনসাইক্লোপিডিয়া অব ম্যাটেরিয়ালস: ইলেকট্রনিকসের প্রধান সম্পাদক তিনি। এ ছাড়া জার্নাল অব রিসার্চ গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান সম্পাদক এবং টেইলর অ্যান্ড ফ্রান্সিস প্রকাশিত অ্যাডভান্সেস ইন ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড প্রসেসিং টেকনোলজিস (এএমপিটি) জার্নালের আঞ্চলিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আসিয়ান ইঞ্জিনিয়ারিং জার্নালের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যও।

গবেষণায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন দেশে ফেলোশিপ অর্জন করেন। ২০০৬ সালে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়ালস বিভাগে ইউরোপিয়ান রিসার্চ ফেলো, ২০০৫ সালে জার্মানির কার্লসরুহে ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে আলেকজান্ডার ভন হামবোল্ট ফেলো, ১৯৯৯ সালে জাপানের কিউশু বিশ্ববিদ্যালয়ে জেএসপিএস আমন্ত্রিত গবেষণা ফেলো এবং ১৯৯৮ সালে আর্জেন্টিনার লা প্লাটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব থিওরেটিক্যাল অ্যান্ড অ্যাপ্লাইড ফিজিক্যাল কেমিস্ট্রিতে ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো হিসেবে কাজ করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত