Ajker Patrika

ছোট মন্ত্রিসভায় যাঁদের নাম

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ছোট মন্ত্রিসভায় যাঁদের নাম
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ২০ বছর পর আগামীকাল মঙ্গলবার তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে সময়ের প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে নতুন মন্ত্রিসভা মোটামুটি চূড়ান্তও করা হয়েছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন ও পুরোনোদের মিশেলে এই মন্ত্রিসভার আকার শুরুতে ছোট হচ্ছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র বলছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস বিজয়ে নেতৃত্ব দেওয়া দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানই যে দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন, তা নিশ্চিত। এর মধ্য দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পর তাঁর বড় ছেলেও প্রধানমন্ত্রীর পদে বসছেন।

ত্রয়োদশ সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ হবে আগামীকাল সকালে। ২১২টি আসনে জয়লাভ করা বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের ২৯৯টি আসনে নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এক প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, তা নিয়ে চলছে আলোচনা, জল্পনাকল্পনা। তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার আদ্যোপান্ত নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু জানা যাচ্ছে না। তবে মন্ত্রিসভার আকার এবং সম্ভাব্য মন্ত্রীদের বিষয়ে কিছু ইঙ্গিত মিলেছে।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। তিনি প্রথমে প্রধানমন্ত্রী ও পরে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। নতুন মন্ত্রিসভা কত সদস্যের হবে, তা নির্ধারণ করবে নির্বাচনে বিজয়ী দল।

সব ঠিক থাকলে আগামীকাল সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ হবে বলে গতকাল রোববার জানান অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘বিএনপি থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, (সংসদ সদস্যদের) শপথের পরপরই তাঁদের সংসদীয় দলের প্রধান নির্বাচিত করবেন। এদিন বিকেল ৪টায় একই স্থানে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান হবে।’

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকা রাখা একাধিক নেতা আলাপকালে জানান, পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে সময়ের প্রয়োজনে মন্ত্রিসভা সাজানো হবে। নতুন-পুরোনোদের সমন্বয়ে হতে যাওয়া এই মন্ত্রিসভার আকার বড় নয়, ছোট করা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আলাপ ও পরামর্শ শেষে নতুন মন্ত্রীদের তালিকাও মোটামুটি চূড়ান্ত করে ফেলেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেই তালিকা এখন প্রকাশের অপেক্ষায়।

নতুন রাষ্ট্রপতি হওয়ার আলোচনায় সবচেয়ে এগিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পাশাপাশি বিকল্প নামও শোনা যাচ্ছে। বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার নিতে আগ্রহী নন। এই অবস্থায় দলের দুই বর্ষীয়ান নেতাকে রাষ্ট্রপতি করার জন্য পছন্দের তালিকায় রাখা হয়েছে। তাঁরা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আবদুল মঈন খান। রাষ্ট্রপতি করা না হলে মঈন খানকে স্পিকারের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

সূত্র বলেছে, মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে তারুণ্যের শক্তি-উদ্দীপনার পাশাপাশি প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতায় জোর দিচ্ছে বিএনপি। জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে কাজ করবেন, এমন ব্যক্তিদেরই মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এই বিবেচনায় খালেদা জিয়ার সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকে তাঁর ছেলের মন্ত্রিসভায় দেখা যাবে। বিএনপির বিগত সরকারে বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতারা মন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। পুরোনোদের মধ্যে নাম শোনা যাচ্ছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনের। এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেনের নামও আলোচনায় আছে। কিশোরগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচিত ফজলুর রহমানের নামও মন্ত্রী হিসেবে শোনা যাচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন বলে আলোচনায় আরও আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন, বিএনপিতে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য হওয়া ববি হাজ্জাজ ও শাহাদত হোসেন সেলিমও। এ ছাড়া মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী, ঝিনাইদহ-১ আসনে জয়ী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, রাজশাহী-২ (সদর) আসনে বিজয়ী মিজানুর রহমান মিনু, ঢাকা-৯ আসনে জয়ী হাবিব উর রশীদ হাবিব, চট্টগ্রাম-১০ আসনে জয়ী বিএনপির প্রয়াত নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান ও যশোর-৩ আসনে জয়ী বিএনপির প্রয়াত নেতা তরিকুল ইসলামের ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হতে পারেন বলে নাম শোনা যাচ্ছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাঈল জবিউল্লাহর। নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে। নির্বাচনে পরাজিত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনের নামও আছে আলোচনায়। আলোচনায় আরও আছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবিরও।

এদিকে বিএনপি জোটের শরিক দলগুলো থেকে নির্বাচিতদের মধ্যে বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের নামও মন্ত্রী হওয়ার আলোচনায় আছে। বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, এই তিন নেতার মধ্যে এক বা দুজনকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করার চিন্তা করছেন তারেক রহমান। সূত্র বলছে, এই দৌড়ে এগিয়ে আছেন বিজেপির চেয়ারম্যান পার্থ।

এর বাইরে বিএনপির চেয়ারম্যানের দুই উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও জিয়াউদ্দিন হায়দারের নামও বিশেষ বিবেচনায় আছে বলে সূত্র জানায়। তবে তাঁদের মন্ত্রিসভায় নয়, বিশেষ কোনো সম্মানীয় পদে জায়গা হতে পারে বলে জানা গেছে।

মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং কক্সবাজার-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি কেমন মন্ত্রিসভা গঠন করতে যাচ্ছে, তা দেখতে দেশবাসীকে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।

১৩ দেশকে আমন্ত্রণ, আসছেন না মোদি

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মোট ১৩ দেশকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। গত শনিবার রাতে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের স্বাক্ষরে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। আমন্ত্রিত অতিথিদের অন্যতম চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।

তবে শপথ অনুষ্ঠানে আসছেন না ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। গতকাল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বাংলাদেশের কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই সরকার ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে—চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত