Ajker Patrika

নতুন কোচের ইচ্ছেমতোই তাহলে সবকিছু চলছে পাকিস্তানে

ক্রীড়া ডেস্ক    
নতুন কোচের ইচ্ছেমতোই তাহলে সবকিছু চলছে পাকিস্তানে
সাদা বলের প্রধান কোচ মাইক হেসন এবার সামলাবেন টেস্টেরও দায়িত্ব। ছবি: সংগৃহীত

টালমাটাল অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট। টেস্ট দলের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ, পেস বোলিং কোচ উমর গুলকে বরখাস্ত করার পাশাপাশি নির্বাচক প্যানেল থেকে মিসবাহ উল হকও পদত্যাগ করেছেন। তৃতীয় টেস্টের আগে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে সাত ক্রিকেটারকে। এসব ঘটনায় তোপের মুখে পড়েছেন নতুন কোচ মাইক হেসন।

হেডিংলি ও লর্ডসে ব্যর্থতার পর দল থেকে বাদ পড়েছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম উল হক, সালমান আলী আগা, আলি উসমান, খুররম শাহজাদ, আমির জামাল ও মোহাম্মদ আওয়াইস জাফর। তাঁদের মধ্যে প্রথম পাঁচজন চলতি সিরিজে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। আমির জামাল ও আওয়াইস কোনো ম্যাচ না খেলেই দেশে ফিরেছেন। তৃতীয় টেস্টের দলে এরপর নেওয়া হয়েছে স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার আরাফাত মিনহাস, বাঁহাতি পেসার মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, উইকেটকিপার সাঈদ বেগ এবং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ ইমরান ও রাজাউল্লাহ।

সরফরাজ বরখাস্ত হওয়ার পর হেসনকে অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইংল্যান্ড থেকে ভারতের বার্তা সংস্থা আইএএনএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার আতিক-উজ-জামান দলের বর্তমান অবস্থা দেখে হতাশা প্রকাশ করেছেন। আতিক বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না, কেন খুররম শেহজাদকে বাদ দেওয়া হলো কিংবা লিডস টেস্টে সবচেয়ে বেশি উইকেট (৫) নেওয়ার পরও কেন স্পিনার আলী উসমানকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হলো। হঠাৎ করে এখন টি-টোয়েন্টি বোলারদের টেস্ট দলে নেওয়া হচ্ছে। কেন? কারণ মাইক হেসনের ব্যক্তিগত পছন্দের কিছু খেলোয়াড় আছে, আর তিনি সেই খেলোয়াড়দের টেস্ট ক্রিকেটে নিয়ে এসেছেন।’

হেসনকে প্রথমে সাদা বলের কোচের দায়িত্ব দেওয়া হলেও এখন পুরো পাকিস্তানেরই প্রধান কোচ। এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্টের আগে যে পাঁচ ক্রিকেটারকে নেওয়া হয়েছে, তাঁরা সাদা বলেরই ক্রিকেটার। তাছাড়া দলের দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার রিজওয়ান ও ইমামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। আতিক আইএএনএসকে বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না, আসলে কী হচ্ছে। এই মুহূর্তে পাকিস্তান ক্রিকেট পুরোপুরি বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে।’

২০০০ সালে পাকিস্তানের হয়ে এক টেস্ট ও তিন ওয়ানডে খেলেছেন আতিক। এখন বর্তমানে ইংল্যান্ডে থাকলেও পাকিস্তানের এমন বাজে অবস্থা দেখে প্রাণ কাঁদছে তাঁর। সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে সত্যিই কষ্ট দেয়। কারণ, আমি ইংল্যান্ডে থাকলেও হৃদয়ে একজন পাকিস্তানি। নিজের দেশের হয়ে খেলেছি এবং চাই পাকিস্তান ক্রিকেটের উন্নতি হোক ও বিভিন্ন কন্ডিশনে ভালো খেলুক। বর্তমানে পাকিস্তান ক্রিকেট সর্বকালের সবচেয়ে খারাপ অবস্থার মধ্যে রয়েছে।’

হেডিংলির পর লর্ডসে হেরে টেস্টে পাকিস্তানের জয়ের চেয়ে হারই বেশি। ১৯৫২ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ৪৭৩ টেস্ট খেলে তারা জিতেছে ১৫৩ ম্যাচ, হার ১৫৪টিতে। ড্র করেছে ১৬৬ ম্যাচ। বুধবার এজবাস্টনে শুরু হচ্ছে পাকিস্তান-ইংল্যান্ড সিরিজের তৃতীয় টেস্ট। পাকিস্তান এবার নামবে ধবলধোলাই এড়াতে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত