Ajker Patrika

অফিস খুঁজে পাওয়া গেল না মিঠুনদের অফিস নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের

রানা আব্বাস, ঢাকা 
আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০: ২৭
অফিস খুঁজে পাওয়া গেল না মিঠুনদের অফিস নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের
মোহাম্মদ মিঠুনদের দেওয়া এই ‘উপহারে’ বিসিবির ব্যয় ৮৭ লাখ ৬১ হাজার টাকা। ছবি: আজকের পত্রিকা

এত দিনে আক্ষরিক অর্থে ‘টাইগারদের’ একটা ‘ডেরা’ তৈরি হয়েছে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। নাম ‘টাইগার্স ডেন’। টাইগার্স ডেন মূলত বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটারদের আধুনিক ও বিলাসবহুল একটি লাউঞ্জ। ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের কার্যালয়ও সেখানে। মোহাম্মদ মিঠুনদের দেওয়া এই ‘উপহারে’ বিসিবির ব্যয় ৮৭ লাখ ৬১ হাজার টাকা। যে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে ‘বাঘের ডেরা’ তৈরি করতে দিয়েছিল বিসিবি, তাদের ঠিকানা খুঁজে পাওয়া গেল না!

গত ১৭ মে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দীন চৌধুরী স্বাক্ষরিত কাজের আদেশে ‘বায়া উইভার’ নামে যে প্রতিষ্ঠানকে কোয়াব অফিসের সংস্কার নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, সেটির ঠিকানা লেখা হয়েছে ‘দেওয়ান কমপ্লেক্স (পঞ্চম তলা), এয়ারপোর্ট রোড, আম্বরখানা, সিলেট।’ মে মাসের শেষ দিকে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের করপোরেট লাউঞ্জের একটি অংশ ভেঙে শুরু হয় কোয়াব অফিস বা টাইগার্স ডেনের নির্মাণকাজ। আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে ক্রিকেটারদার জন্য নির্মিত দৃষ্টিনন্দন লাউঞ্জ ও কোয়াব অফিসের উদ্বোধন করেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।

তামিম নিজেও ফ্যাসিলিটিজ ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান, যে বিভাগের অধীনে প্রায় ৮৮ লাখ টাকায় নির্মাণ করা হয়েছে টাইগার্স ডেন। এটি তৈরি করেছে যে প্রতিষ্ঠান—‘বায়া উইভারে’র যে ঠিকানা উল্লেখ আছে বিসিবির ওয়ার্ক অর্ডারে, সরেজমিনে সেটির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেল না। গতকাল আম্বরখানার দেওয়ান কমপ্লেক্সে পাঁচতলায় দেখা গেল, এক পাশে নগদের অফিস, অন্য পাশে তালাবদ্ধ ফাঁকা ফ্লোর। ভবনের আশপাশের দোকান থেকে মিলল ভবনের ম্যানেজারের নম্বর। তাঁকে ফোন দেওয়া হলে নিজেকে ‘ম্যানেজার’ নন, দেওয়ান কমপ্লেক্সের মালিক বলেই পরিচয় দিলেন। তিনি জানালেন, এ ভবনে কখনো ‘বায়া উইভার’ নামের কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না। পাঁচতলায় ব্যাংক, ইনস্যুরেন্স, কোচিং সেন্টারকেই ভাড়া দেওয়া হয়েছে বেশির ভাগ সময়ে।

bcb-office

বিসিবির ওয়ার্ক অর্ডারে উল্লিখিত বায়া উইভারের নম্বরে ফোন দিলে ধরলেন রায়হান মুস্তাফিজ নামের এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হিসেবে পরিচয় দিলেন। বিসিবিতে উল্লেখিত ঠিকানায় বায়া উইভারের কোনো অস্তিত্ব না পাওয়ার বিষয়ে গতকাল রাতে আজকের পত্রিকাকে রায়হান বললেন, ‘জিনিসটা জাস্ট আপডেট করা হয় নাই। আপনি যদি প্রমাণ চান যে ওইখানে অফিস আছে কি না, এটা তো সম্ভব না আমার পক্ষে দেওয়া আর আপনার চাওয়াটাও স্বাভাবিক।’ রায়হান আরও যোগ করেছেন, ‘এখানে লুকানোর কিছু নেই। কোয়াবের কাজ করছি এবং দেখতে পারেন কাজের মান।’

কাজটা ওয়েবসাইটে দেওয়া টেন্ডারের মাধ্যমে পেয়েছেন বলে দাবি করলেও বিসিবির সাইটে এটির কোনো টেন্ডার নোটিশ পাওয়া যায়নি; রায়হান পরক্ষণে জানালেন, এক বন্ধুর মাধ্যমে তিনি খোঁজ পেয়েছিলেন। জানালেন, তাঁর দুটি অফিস। প্রধান কার্যালয় সিলেট। আরেকটি কার্যালয় ঢাকায়। প্রতিষ্ঠানটির কোনো অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের ঠিকানাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। রায়হান দাবি করেছেন, বিসিবিতে যে ঠিকানা দেওয়া হয়েছে, সেটি তাঁর পুরোনো অফিস। আম্বরখানা থেকে করোনার সময়ে অফিসের ঠিকানা বদলে তিনি সিলেটের হাউজিং স্টেটে নিয়েছেন। ঢাকার বসুন্ধরাতেও তাঁর অফিস আছে। বায়া উইভারের যাত্রা শুরু করোনার সময়েই। পরে আবার বলেছেন, যাত্রা শুরু ২০২২ সালে। রায়হান বললেন, ‘আমার প্যাডে ট্রেড লাইসেন্সে থাকা ওই অফিস (ঠিকানা) ...ওইটা আর চেঞ্জ করা হয়নি। আর এগুলো ডকুমেন্টস অফিস থেকে দেখে।’

তাঁর দাবি অনুযায়ী, করোনার সময়ে যদি অফিসের ঠিকানা পরিবর্তন করা হয়, তাহলে এত দিনেও প্যাডে কীভাবে পুরোনো অফিসের ঠিকানা থাকে? উত্তরে রায়হান বললেন, ‘করোনার টাইমে ওই অফিসটা শিফট করি, পরে ট্রেড লাইসেন্সটা যখন হয়েছে, সেখানে ওই ঠিকানাটা ছিল। যার কারণে আর পরিবর্তন করা হয়নি।’

বিসিবির ফ্যাসিলিটিজ বিভাগের ম্যানেজার ইমরান হোসেন বায়া উইভারের ঠিকানা নিয়ে বললেন, ‘ঢাকার সঙ্গে ওদের সিলেটেও অফিস আছে। আমি তো ঢাকারটা দেখছি।’ আর বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বললেন, ‘অডিট ক্লিয়ার করে দিলে আমার দিক থেকে ইয়ে (যাচাই-বাছাই করার বিষয়) থাকে না। আমার কাছে অডিট ক্লিয়ার করেই আসে। প্রথমত, এটা ফ্যাসিলিটিজ ভালো বলতে পারবে। দ্বিতীয়ত, আমার অফিস থেকে যেগুলো যায়, নিরীক্ষা বিভাগের ক্লিয়ারেন্স ও অন্যান্য কমপ্লায়েন্স মিটিয়েই আসে।’

(প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন সিলেট প্রতিবেদক রুমান আহমেদ)

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত