Ajker Patrika

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেললেও জিততে চাইবেন বাংলাদেশ কোচ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেললেও জিততে চাইবেন বাংলাদেশ কোচ
বাংলাদেশের হেড কোচ টমাস ডুলি। ছবি: বাফুফে

২০০৩ সালে বাংলাদেশ যখন শেষবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিল, তখন জাতীয় স্টেডিয়ামে মঞ্চস্থ হয়েছিল উৎসব। এরপর ২৩ বছর কেটে গেছে, কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের সেই ট্রফি আর বাংলাদেশের ছোঁয়া পায়নি। দীর্ঘ দুই দশক পর আবারও ঘরের মাঠে বসছে সাফের পঞ্চদশ আসর। সেই স্মৃতির পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে দেশের মাটিতে শ্রেষ্ঠত্ব দখলের প্রতিশ্রুতি দিলেন বাংলাদেশ কোচ টমাস ডুলি।

ঢাকায় আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত হবে সাফ টুর্নামেন্ট। রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে গতকাল উন্মোচিত হয় টুর্নামেন্টের লোগো। যেখানে টাইটেল স্পনসর হিসেবে যুক্ত হয়েছে ‘টেকনো’। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সাফের সাত সদস্যদেশের সাতজন প্রতিনিধি। তাঁদের সামনে ঘরের মাঠে শিরোপা রেখে দেওয়ার হুংকার দিলেন ডুলি। শিষ্যদের মধ্যে জয়ের মানসিকতা ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘আমার সব সময় যে মানসিকতা থাকে, যখন খেলতাম, যখন কোচিং করাই—প্রতিটি ম্যাচ জিততে চাই। কার বিপক্ষে খেলছি, তা বিবেচ্য নয়। আমরা যদি জার্মানি, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা বা অন্য কোনো দলের বিপক্ষে খেলি, আমি জিততে চাই। এটি খেলোয়াড়দের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে তারাও একই কথা ভাবে।’

সাফে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা তো নেই, তাদের ধারেকাছের দলও নেই। তাই শিরোপা জয়ের ব্যাপারে অসম্ভব কিছু দেখছেন না ডুলি। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিবেশী দলগুলোর বিপক্ষে খেলব। তারা র‍্যাঙ্কিংয়ে আমাদের থেকে একটু পিছিয়ে বা এগিয়ে আছে। মাঠে নামার সময় আমাদের কী ধরনের মানসিকতা থাকে, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি এটিকে খুব সহজভাবে নিই, তাহলে খুব কঠিন হবে, আর যদি গুরুত্ব সহকারে নিই, তবে ওই ট্রফি জেতার সম্ভাবনা আমাদের আছে।’

তবে দলে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের জায়গা দিতে চান না ডুলি। তিনি বলেন, ‘২৩ বছর হয়ে গেছে (বাংলাদেশের প্রথম শিরোপা জয়)। আমি মনে করি, এখন সময় এসেছে। আমাদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগোতে হবে, তবে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে নয়। লক্ষ্য তখনই পূরণ হবে, যখন সবাই সঠিক সময়ে সেরা খেলা উপহার দেবে।’

কোচের বিজয়ী মন্ত্রে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত দলের তরুণ ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিন। ঘরের মাঠে এই বিশাল সুযোগ কাজে লাগাতে মুখিয়ে থাকা মোরসালিন বলেন, ‘কোচ সব সময় জিততে চান, এটা আমাদের অনুপ্রাণিত করে...টিম মিটিং হোক বা সব জায়গায় কোচ জিততে চান। তাই আমাদের ভাবনাও একই। যেভাবে হোক জিততে হবে। এটা আমাদের জন্য একটা বিশাল সুযোগ। তাই এই সুযোগ কোনোভাবেই মিস করতে চাই না।’

বাংলাদেশের ডাগআউটে কেবল একটি ম্যাচ দেখা গেছে। তাতে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষ সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। দুটি গোলই আসে তপু বর্মনের কাছ থেকে। হামজা চৌধুরী, শমিত সোম ও ফাহামিদুল ইসলামের মতো প্রবাসী ফুটবলাররা দলে থাকায় প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে। চেনা গ্যালারিতে দর্শকদের সমর্থন পাওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন তপু। তিনি বলেন, ‘২৩ বছর আগে আমরা সাফ জিতেছি। মনে হয়, সবার মূল লক্ষ্য জেতা। আমাদের দেশে খেলা, গ্যালারিতে আমাদের সমর্থক থাকবেন, সমগ্র জাতি আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকবে। আমাদের একটা বড় দায়িত্ব আছে, মাঠে প্রমাণ করতে চাই যে আমরা সবার চেয়ে ভালো এবং যোগ্য।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত