Ajker Patrika

সমালোচনার মুখে ২৪৬ কোটি টাকার পরিকল্পনার কথা জানাল ফিফা

ক্রীড়া ডেস্ক    
সমালোচনার মুখে ২৪৬ কোটি টাকার পরিকল্পনার কথা জানাল ফিফা
চার বছরের চক্রে ২৪৬ কোটি টাকার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ফিফা। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের আংশিক মালিকানা বিক্রি নিয়ে গত কদিন ধরেই তোলপাড়। এরই মধ্যে উয়েফার ৫৫ সদস্য দেশ বিশ্বকাপসহ ফিফার যাবতীয় টুর্নামেন্ট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। সমালোচনা যখন তুঙ্গে, তখন বিষয়টি খোলাসা করল ফিফা। একই সঙ্গে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা জানিয়েছে নিজেদের মহাপরিকল্পনার কথা।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে বলে গত মঙ্গলবার এমন একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজের (এফএফই) মাধ্যমে হতে যাওয়া এটার মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ২ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। ইকুইটি মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ বছরের শেষে সর্বোচ্চ ৪ বিলিয়ন ডলার (৪৯০৬৭ কোটি টাকা) তোলা হবে। তাতে করেই ফুটবল বিক্রি হয়ে যাচ্ছে বলে শোরগোল উঠেছে। ফিফা গতকাল নিজেদের ওয়েবসাইটে বিষয়টি খোলাসা করেছে। এএফইর প্রস্তাবের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো ফিফার সব সদস্য দেশকে তাদের নিজ নিজ দেশে ফুটবলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনার প্রকৃত অংশীদার হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া, এবং একই সঙ্গে নিশ্চিত করা যে এটা ফিফা বা ফুটবলের চেতনা কিংবা শাসনব্যবস্থার কোনো ক্ষতি না করে।

এফএফইর মাধ্যমে কীভাবে ফিফার বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলবে, সেটার একটা প্রস্তাবনা ফিফা দিয়েছে। এখানে চার বছর চক্রের ২ কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠন করা হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় সেটা ২৪৬ কোটি টাকা। এবার তাহলে জেনে নেওয়া যাক সেই প্রস্তাবনা

  • এফএফইর মাধ্যমে ফিফার বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং ইভেন্ট পরিচালনার দায়িত্ব একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হবে, যা ফিফা স্থায়ীভাবে মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ করবে।
  • এ থেকে সৃষ্ট বাণিজ্যিক মূল্য বিশ্বের ২১১ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে, যাতে প্রত্যেকে তাদের নিজ নিজ দেশে ফুটবল উন্নয়নে অর্থবহ বিনিয়োগ করতে পারে।
  • প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রত্যেক সদস্য অ্যাসোসিয়েশন ২০২৭–২০৩০ সময়কালে ফিফা ফরোয়ার্ড ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ডলার উন্নয়ন তহবিল পাবে। সেক্ষেত্রে তারা পৃথকভাবে প্রস্তাবকে সমর্থন করতেও পারে, আবার নাও পারে।
  • এই অতিরিক্ত অর্থায়ন আসবে এফএফইর মাধ্যমে ফিফার বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার ফলে অর্জিত অতিরিক্ত আয় থেকে। এই অর্থ সব সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে।
  • ফিফা ফাস্ট ফরোয়ার্ড প্রোগ্রাম হলো প্রত্যেক সদস্য দেশের জন্য এককালীন অতিরিক্ত ২ কোটি ডলারের উন্নয়ন তহবিল। এফএফই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে এতে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী হবে এবং এই তহবিল বহিরাগত বিনিয়োগের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে। তবে এর ফলে ফিফার নিয়ন্ত্রণ বা শাসনব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আসবে না।
  • যদি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন না পাওয়া যায়, তাহলে ফিফার মাধ্যমে বাণিজ্যিক কার্যক্রম অপরিবর্তিত থাকবে এবং এফএফই প্রতিষ্ঠিত হবে না।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভুল প্রতিবেদনের কারণে আমাদের পরিকল্পিত পরামর্শ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় বলে দাবি ফিফার। কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না। এমন কোনো বিষয় ফিফা কখনোই বিবেচনা করবে না। প্রত্যেকেরই বিরোধিতা প্রকাশ করার এবং আরও ব্যাখ্যা চাওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে কোনো একক সংস্থা বিশ্বের ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করতে পারে না। প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করার এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গঠনে মতামত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।

যাতে প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে নিজেদের মতামত ও ভোট প্রদান করতে পারে, সেই পরামর্শ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ফিফা। নজিরবিহীন উন্নয়ন তহবিল, ফুটবলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনার প্রকৃত বৈশ্বিক মালিকানা, এবং বিশ্বের সব সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের জন্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের পূর্ণ স্বাধীনতা—ফিফার মতে এই নীতিগুলোই এফএফইর প্রস্তাবের ভিত্তি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত