Ajker Patrika

আর্জেন্টিনাকে কাঁপিয়ে দেওয়া কেপ ভার্দের প্রশংসায় কিংবদন্তিরা

ক্রীড়া ডেস্ক    
আর্জেন্টিনাকে কাঁপিয়ে দেওয়া কেপ ভার্দের প্রশংসায় কিংবদন্তিরা
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গোল দিয়ে এভাবেই উদযাপন করেছিল কেপ ভার্দে। হারলেও মেসিদের কাঁপিয়ে দিয়েছিল নবাগত এই দল। ছবি: এএফপি

প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা কেপ ভার্দে শেষ বত্রিশে উঠেই রূপকথার জন্ম দিয়েছে। আজ মায়ামিতে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে অঘটন তো প্রায় ঘটিয়েই দিয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। তবে হারলেও কিংবদন্তিদের প্রশংসা কুড়িয়েছে আফ্রিকা মহাদেশের দলটি।

প্রথম ৯০ মিনিট শেষে ১-১ সমতায় ছিল আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচ। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর পর আরও জমে ওঠে ম্যাচটি। ৯৮ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেসের গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচ ড্র করা কেপ ভার্দে এত সহজে হাল ছাড়ার পাত্র নয়। ১০৩ মিনিটে ইয়ানিক সেমেদোর পাস থেকে বল পেয়ে ডান পায়ে চোখধাঁধানো এক গোল করেন সিডনি ক্যাব্রাল। ২-২ গোলে সমতায় ফেরার পর মেসির কর্নার থেকে হেড দিয়ে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। যদিও গোলটি কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনেই বোর্জেসের আত্মঘাতী গোল হিসেবে ধরা হয়েছে।

পিছিয়ে থাকার পরও কেপ ভার্দে সমতায় ফিরতে প্রাণপণ চেষ্টা করেছে। তবে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস দক্ষতার সঙ্গে আক্রমণগুলো প্রতিহত করেছেন। তাতে করে টাইব্রেকারে যাওয়ার আগেই আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে জিতেছে শেষ বত্রিশের ম্যাচটি। হারলেও কেপ ভার্দে বিশ্ব ফুটবলকে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিয়েছে বলে মনে করেন থিয়েরি অঁরি। ফক্স স্পোর্টসে ফ্রান্সের ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি বলেন, ‘পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সবাইকে জানিয়ে দাও তোমরা কোথা থেকে এসেছ। এখন সবাই জানে কেপ ভার্দে কোথায়। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী কেপ ভার্দের জনসংখ্যা ৫ লাখ ৪০ হাজার। আফ্রিকা মহাদেশের দেশটির এবার বিশ্বকাপে খেলাটাই রীতিমতো চমক। আর স্পেন, উরুগুয়ে, সৌদি আরব—গ্রুপ পর্বে এই তিন দলকে রুখে দিয়ে ‘এইচ’ গ্রুপের তৃতীয় দল হিসেবে শেষ বত্রিশে ওঠে কেপ ভার্দে। আর্জেন্টিনার কাছে হেরে গেলেও প্রথমবার খেলতে এসে নকআউট পর্বে উঠেই ফুটবল বিশ্বকে অবাক করে দেয় আফ্রিকা মহাদেশের দলটি। অঁরি বলেন, ‘আসলে যেটা সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করার মতো, সেটা শুধু তারা কীভাবে খেলেছে তা নয়। যদিও সেটাও দুর্দান্ত। তবে সেখানে কত কম মানুষ বাস করে, সেটাই অনেক বেশি বিস্ময়কর।’

গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচই ড্র করেছে কেপ ভার্দে। যার মধ্যে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন, সৌদি আরব—এই দুই দলের বিপক্ষে আফ্রিকার দলটি গোলশূন্য ড্র করেছে। আর উরুগুয়ে-কেপ ভার্দে ম্যাচটি ড্র হয়েছে ২-২ গোলে। আজ ৩-২ গোলে হারলেও কেপ ভার্দে কাঁপিয়ে দিয়েছে আর্জেন্টিনাকে। এমনকি লিওনেল মেসির বেশ কিছু গোল দক্ষতার সঙ্গে ঠেকিয়েছেন কেপ ভার্দে গোলরক্ষক ভোজিনিয়া।

কেপ ভার্দের হার না মানা মানসিকতায় মুগ্ধ জ্লাতান ইবরাহিমোভিচও। ফক্স স্পোর্টসকে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু দাঁড়িয়ে কেপ ভার্দেকে করতালি জানাতে পারি। কারণ, পুরো ব্যাপারটাই ছিল কেপ ভার্দেকে ঘিরে। ছোট্ট একটি দ্বীপ, কিন্তু স্বপ্ন ছিল বিশাল। তারা প্রায় এক পরাশক্তিকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারা ৯০ মিনিটের মধ্যে কোনো ম্যাচেই হারেনি। তারা এই ম্যাচটিও (আর্জেন্টিনা) প্রায় জিতেই ফেলেছিল।’

ভারতের সাবেক ক্রিকেটার রবিচন্দ্রন অশ্বিনও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কেপ ভার্দের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ। নিজের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘এখান থেকে যা-ই ঘটুক না কেন, কেপ ভার্দে নামটি মনে রাখবেন। কী দুর্দান্ত একটি দল। আর এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তারা যে অসাধারণ নৈপুণ্য ও প্রদর্শনী উপহার দিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।’

আর্জেন্টিনার কাছে হারলেও শিষ্যদের লড়াকু পারফরম্যান্সে মুগ্ধ কেপ ভার্দের প্রধান কোচ বুবিস্তা। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘এই দল নিয়ে আমি গর্বিত। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে যেভাবে আমার দল খেলেছে, দুই দুইবার পিছিয়ে পড়েও যেভাবে সমতায় ফিরে ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে গেছে—তা আমাদের দেশকে সম্মানিত করেছে। সবকিছুর ঊর্ধ্বে, আমি আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত। এই বিশ্বকাপ এবং আমাদের চরিত্র বিশ্বমঞ্চে দেশকে অনন্য মর্যাদায় বসিয়েছে। এটি আমাদের ফুটবলীয় পরিচয়কে আরও সুদৃঢ় করল।’

কেপ ভার্দে যে আর্জেন্টিনাকে বেশ দুশ্চিন্তায় ফেলেছিল, সেটা স্বীকার করেছেন মেসিও। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, আর্জেন্টিনার আরও সতর্ক হয়ে খেলতে হবে এবং সামনের ম্যাচগুলোতে ভুলের পুনরাবৃত্তি করা যাবে না। শিষ্যর সঙ্গে একমত কোচ লিওনেল স্কালোনি। ৭ জুলাই আটলান্টায় শেষ ষোলোতে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা-মিসর।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত