
ইতিহাস নিজেই নিজের পুনরাবৃত্তি ঘটায়—বহুল প্রচলিত এই প্রবাদের কি এবার বাস্তবতা প্রমাণ করতে হলে আর্জেন্টিনাকে এবারও চ্যাম্পিয়ন হতে হবে। ১৯ জুলাই নিউজার্সিতে হবে ফাইনাল। কিন্তু তার আগে আলবিসেলেস্তেদের আরও একটা ধাপ পেরোতে হবে। বুধবার আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে জিততে হবে লিওনেল স্কালোনির দলকে। তবে এই সেমির আগে ভক্ত-সমর্থকদের কৌতুহল আর্জেন্টিনার জার্সি নিয়ে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিতে কোন রঙের জার্সি পরে খেলবে আর্জেন্টিনা—সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আগামীকাল। এদিন আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ), ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) এবং ফিফার প্রতিনিধিদের সমন্বয় সভায় ম্যাচ-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি দুই দলের জার্সির রঙও চূড়ান্ত করা হবে। আর্জেন্টিনা কি ঐতিহ্যবাহী আকাশী-সাদা জার্সি পরে খেলবে নাকি নীল জার্সি পরতে হবে? বিকল্প জার্সি পরতে হলে সেটা হবে নীল।
নিজেদের ঐতিহ্যবাহী হোম জার্সির পরিবর্তে নীল রঙের অ্যাওয়ে জার্সি পরে মাঠে নামতে আর্জেন্টিনা ফিফার কাছে অনুমতি চেয়ে বলে জানা গেছে। আর্জেন্টাইন সাংবাদিক গাস্তোন এদুল গতকাল সন্ধ্যায় এই তথ্য জানিয়ে নিজের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে লিখেছে, ‘আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নীল জার্সি পরে খেলার অনুমতি চেয়েছে।’ তবে এখনো অনুমতি মেলেনি। আগামীকাল সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এদুল।
নীল জার্সি আর্জেন্টিনার ভক্ত-সমর্থকদের চোখে ‘কুফা’। অতীতে যে পাঁচ ফাইনাল আর্জেন্টিনা খেলেছে, তার মধ্যে ১৯৯০ ও ২০১৪ সালে তারা হেরেছে নীল জার্সি পরে। দুইবারই আর্জেন্টাইনদের কাঁদিয়েছে জার্মানি। আর ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও সবশেষ ২০২২—এই তিনবার আর্জেন্টাইনরা আকাশী-সাদা জার্সি পরে খেলেছে। তিনবারই আলবিসেলেস্তেরা ইউরোপীয়দের হারিয়ে জিতেছে। ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ছিল নেদারল্যান্ডস, জার্মানি ও ফ্রান্স।

কীভাবে নির্ধারণ করা হয় জার্সির রং
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, নকআউট পর্বের ড্রয়ে যে দল ব্র্যাকেটের ওপরে থাকে, তাকে ‘টিম এ’ ধরা হয়। এ ক্ষেত্রে সেই দল হলো ইংল্যান্ড। তাই নিয়ম অনুসারে নিজেদের মূল সাদা জার্সি পরার অধিকার তাদেরই বেশি আর সেক্ষেত্রে আর্জেন্টিনাকে নীল জার্সি পরতে হতে পারে। তবে আরেকটি ব্যাখ্যাও রয়েছে। চাইলে ইংল্যান্ড তাদের বিকল্প লাল জার্সি বেছে নিতে পারে। সেক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা জার্সি পরে খেলবে।
ফিফার মূল লক্ষ্য থাকে দুই দলের জার্সির মধ্যে যেন সর্বোচ্চ দৃশ্যমান বৈপরীত্য থাকে। সে দিক থেকে লালের বিপরীতে আকাশি-সাদা কিংবা সাদার বিপরীতে নীল—দুই ক্ষেত্রেই সেই শর্ত পূরণ হয়।
এবারের বিশ্বকাপে কী করেছে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড
এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ছয় ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতেই সাদা জার্সি পরে খেলেছে। একমাত্র পানামার বিপক্ষে তারা লাল জার্সি ব্যবহার করেছিল।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা একবারই নীল জার্সি পরেছে। সেটা জর্ডানের বিপক্ষে। কারণ, ওই ম্যাচে জর্ডান সাদা জার্সি পরে খেলেছিল।
আর্জেন্টাইন ভক্ত-সমর্থকেরা মূলত ফাইনালের ফল দেখেই নীল জার্সিকে কুফা বলছেন। তবে ফাইনাল বাদে নীল জার্সি পরেও আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের অন্যান্য ম্যাচ জিতেছে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার সেই ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের ম্যাচে আর্জেন্টিনা পরেছিল নীল জার্সি। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতেও ইংল্যান্ডকে নীল জার্সি পরে হারিয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। আর্জেন্টিনা ম্যাচটি জিতেছিল অতিরিক্ত সময়ে। এবারের বিশ্বকাপে জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বেও আর্জেন্টিনা জেতে নীল জার্সি পরে।

পয়মন্ত আকাশী-সাদা জার্সি পরেও আর্জেন্টিনার হারের ঘটনা রয়েছে। ২০০২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল আর্জেন্টাইনরা। তবে একটা পরিসংখ্যান দেখে আর্জেন্টিনা নিশ্চয়ই স্বস্তিতে থাকতে পারে। অতীতে যে পাঁচ সেমিফাইনাল খেলেছে, প্রত্যেকটিতেই তারা ফাইনালে উঠেছে। এবার আর্জেন্টিনা ষষ্ঠবারের মতো খেলতে যাচ্ছে সেমি।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ এখন অন্তিম লগ্নে। যে টুর্নামেন্ট ঘিরে চার বছরের অপেক্ষা, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সেই টুর্নামেন্টের ইতি ঘটবে। যে রোমাঞ্চকর ফুটবল এবার উপহার দিয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ উপহার দিয়েছে, তাতে বাকি ম্যাচগুলোর দিকে ভক্ত-সমর্থকেরা ‘পাখির চোখ’ করে আছেন। আর্জেন্টিনা এবারও শিরোপা ধরে রাখতে পারবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলার ফোলারিন বালোগান লাল কার্ড উঠিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সমালোচনা কম হয়নি। এবার জানা গেল চমকে দেওয়ার মতো এক তথ্য। মাত্র এক জনের সিদ্ধান্তেই তাঁর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হয়েছিল বলে জানা গেছে।
২ মিনিট আগে
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা রীতিমতো উড়ছে। ছয় ম্যাচের ছয়টিতে জিতে তারা উঠে গেছে সেমিফাইনালে। সেমিতে ওঠার পথেই আর্জেন্টাইন তারকা মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস মাক আলিস্তারের একটি নাচের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এটা পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলে জানিয়েছেন ২৭ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার।
৩৭ মিনিট আগে
বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরই যেন একজন নায়কের অপেক্ষায় থাকে। যে ফুটবলার নিজের প্রতিভা, ব্যক্তিত্ব আর পারফরম্যান্স দিয়ে পুরো টুর্নামেন্টের গল্প বদলে দেন। কখনো তিনি দিয়েগো ম্যারাডোনা, কখনো রোনালদো, কখনো লিওনেল মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপের গল্প এখনো শেষ হয়নি, কিন্তু এই আসরের অন্যতম প্রধান চরিত্র হয়ে উঠেছেন জুড বেলি
১ ঘণ্টা আগে
বয়স ৩৯ হলেও লিওনেল মেসিকে দেখে কি সেটা বোঝার উপায় আছে! গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্টও করছেন। ভেঙেচূড়ে দিচ্ছেন একের পর এক রেকর্ড। ছন্দে থাকা আর্জেন্টিনাকে রুখতে কোন পরিকল্পনা করতে হবে, সেটার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক উইঙ্গার জো কোল। মেসিকে আটকে রাখতে পারলেই ইংলিশদের ফাইনালে ওঠার পথ অনেকটা সহজ হবে ব
২ ঘণ্টা আগে