Ajker Patrika

কেউ ফেরেন, কেউ ফেরেন না

ক্রীড়া ডেস্ক    
কেউ ফেরেন, কেউ ফেরেন না
২০০২ কমনওয়েলথ গেমস থেকে অনেকে লাপাত্তা হয়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের অনেক অ্যাথলেট। ছবি: সংগৃহীত

কমনওয়েলথ গেমস শেষ হলে অধিকাংশ অ্যাথলেটের গন্তব্য হয় নিজ দেশ। কেউ ফিরে যান পদক জয়ের আনন্দ নিয়ে, কেউ অপূর্ণ স্বপ্নের আক্ষেপ নিয়ে। কিন্তু প্রতি আসরেই এমন কিছু অ্যাথলেট থাকেন, যাঁদের যাত্রা আর বিমানবন্দরে শেষ হয় না। দল দেশে ফিরলেও তাঁরা থেকে যান আয়োজক দেশেই—কখনো আশ্রয়ের আবেদন করতে, কখনো নতুন জীবনের খোঁজে, আবার কখনো নিখোঁজ হয়েই।

গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস শেষ হওয়ার পর পাকিস্তান ও উগান্ডার কয়েকজন অ্যাথলেট নিজ দেশে ফেরেননি। স্কটল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকজন অ্যাথলেটের অবস্থান সম্পর্কে তারা প্রতিবেদন পেয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

উগান্ডার সংবাদমাধ্যম এনবিএস স্পোর্ট জানিয়েছে, দেশটির ৬ সদস্যের বক্সিং দলের চারজন—নুহু বাট্টে, অ্যাঞ্জেল কাটুশাবে, ইব্রাহিম কেমিস ও এমিলি নাকালেমা নির্ধারিত ফ্লাইটে দেশে ফেরেননি। তাঁদের একজন সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন, তাঁরা স্কটল্যান্ডে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করে সেখানেই বক্সিং ক্যারিয়ার চালিয়ে যেতে চান। তাঁর ভাষ্য, নিজ দেশে যে সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় না, যুক্তরাজ্যে তা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তাই দল ছেড়ে স্কটল্যান্ডেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।

উগান্ডার অ্যাথলেটদের পাশে যোগ হয়েছেন পাকিস্তানেরও এক অ্যাথলেট। পাকিস্তান টুডে জানিয়েছে, বক্সার কুদরাতউল্লাহও দলের সঙ্গে দেশে ফেরেননি। কর্মকর্তারা তাঁর কক্ষে গিয়ে তাঁকে পাননি।

নিজেদের দেশে অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সীমিত প্রশিক্ষণ সুবিধা কিংবা নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেকেই আয়োজক দেশেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৪ সালে গ্লাসগো গেমস শেষে উগান্ডার দুই রাগবি খেলোয়াড় নিখোঁজ হয়েছিলেন। পরে তাঁদের ওয়েলসের কার্ডিফে একটি স্থানীয় ক্লাবের হয়ে খেলতে দেখা যায়। যদিও তাঁদের একজন ফিলিপ পারিও পরে ধর্ষণের দায়ে সাড়ে চার বছরের কারাদণ্ড পান।

সেই একই আসরে ক্যামেরুনের ভারোত্তোলক সিরিল তচাচে নিজ দেশে না ফিরে যুক্তরাজ্যে থেকে যান। পরে তিনি ব্রিটেনের শরণার্থী অ্যাথলেট হিসেবে নতুন জীবন শুরু করেন। ২০২৬ সালের গ্লাসগো গেমসে তিনি রুপার পদকও জিতেছেন—যা কমনওয়েলথ গেমসের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী গল্পগুলোর একটি।

বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরের আগে অংশগ্রহণকারী অ্যাথলেটদের ওপর অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই করে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস। সীমান্ত কর্তৃপক্ষ, ভিসা বিভাগ ও আয়োজকদের সঙ্গে সমন্বয় করে নজরদারিও বাড়ানো হয়। তারপরও প্রতিটি আসরের পর কিছু অ্যাথলেটের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেই চলেছে।

২০০২ ম্যানচেস্টার কমনওয়েলথ গেমস শেষে ২৭ জন অ্যাথলেট লাপাত্তা হয়েছিলেন। এই অ্যাথলেটদের মধ্যে ছিলেন চার বাংলাদেশিও—মারুফ রেজা, হুমায়ন কবির, শফিকুল ইসলাম ও দিলাওয়ার হোসেন

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত