Ajker Patrika

জ্বালানি তেলে জিম্মি বিশ্ব: কবে থেকে ব্যবহার শুরু, শেষ কবে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
জ্বালানি তেলে জিম্মি বিশ্ব: কবে থেকে ব্যবহার শুরু, শেষ কবে
ছবি: এএফপি

বৈশ্বিক অর্থনীতি জ্বালানি তেল ও গ্যাস, তথা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর এতটাই নির্ভরশীল, যে বলা চলে সারা পৃথিবী তেলে জিম্মি। এই জিম্মিদশা কতটা প্রকট, তা আবারও স্পষ্ট হয়েছে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের পাল্টা হামলার ঘটনায়। তেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় পুরো বিশ্বের অর্থনীতি অস্থির হয়ে উঠেছে।

এদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যাপক ব্যবহারে বৈশ্বিক উষ্ণায়নও ত্বরান্বিত হচ্ছে। এই অবস্থায় গবেষকেরা নেমেছেন জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প অনুসন্ধানের চেষ্টায়। এরই মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি, সবুজ জ্বালানিসহ নানা কৌশলের ব্যবহার শুরু হয়ে গেছে। তবে জ্বালানির চাহিদার নিরিখে এসব কৌশলের ব্যবহার এখনো জীবাশ্ম জ্বালানির ধারেকাছেও নেই। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, খুব বেশি দিন নেই, জীবাশ্ম জ্বালানির কাছে জিম্মিদশা থেকে বেরিয়ে আসবে বিশ্ব।

বিজ্ঞান বিষয়ক কনটেন্ট প্রকাশকারী ওয়েবসাইট লাইভ সায়েন্সে এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সপ্তদশ থেকে বিংশ শতাব্দীর মধ্যে মানুষ তেলের জন্য লাখ লাখ তিমি হত্যা করেছিল। বিশাল এই প্রাণীগুলোকে পানিতে ঘুরিয়ে তাদের চর্বির স্তর ছাড়িয়ে নেওয়া হতো- যেন আপেলের খোসা ছাড়ানো হচ্ছে। সেই চর্বি সেদ্ধ করে তেল তৈরি করা হতো, পরে তা ছেঁকে ব্যারেলে ভরা হতো। এই তেল ব্যবহার করা হতো বাতি জ্বালানো থেকে শুরু করে শিল্পকারখানার লুব্রিকেন্ট পর্যন্ত নানা কাজে।

সমাজে আলো জ্বালতে নিষ্ঠুরভাবে চলেছে এই রক্তাক্ত প্রক্রিয়া। ১৮৯৫ সালে একটি তিমি শিকারি জাহাজে কাজ করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে চার্লস নর্ডহফ লিখেছিলেন, ‘এটা ভয়ংকর। তবুও পুরোনো তিমি শিকারিরা এতে আনন্দ পায়। পচা গন্ধের ধোঁয়া তাদের কাছে যেন সুগন্ধি ধূপ। নোংরা তেল তাদের কাছে ভবিষ্যৎ আয়ের এক গৌরবময় প্রতীক।’

এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তিমির চর্বির জন্য মানুষের অদম্য চাহিদা নীল তিমি, হামব্যাক তিমি এবং নর্থ আটলান্টিক রাইট তিমিকে প্রায় বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছিল। এখন বাণিজ্যিক তিমি শিকার প্রায় নিষিদ্ধ। তিমির চর্বি খুব অল্প কিছু পণ্যে ব্যবহার হয়, এবং তিমির সংখ্যা কিছুটা বাড়তেও শুরু করেছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, পেট্রোলিয়ামের ক্ষেত্রেও এমনই একটি বড় পরিবর্তন আসছে- যদিও কখন এবং কীভাবে তা ঘটবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্বগত ঝুঁকি গবেষণা কেন্দ্রের গবেষক লুক কেম্প লাইভ সায়েন্সকে বলেন, সবচেয়ে দক্ষ ভবিষ্যদ্বাণীকারীরাও, যারা মেশিন লার্নিং ব্যবহার করেন, সর্বোচ্চ এক বছর আগ পর্যন্ত ভূরাজনৈতিক ঘটনাগুলো নির্ভুলভাবে অনুমান করতে পারেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা মূলত কিছু সাধারণ চিত্রই আঁকতে পারি।

তবে সামগ্রিক প্রবণতা পরিষ্কার। ইতিমধ্যেই আমরা গৃহস্থালির জ্বালানির অনেকাংশে তেলের ব্যবহার কমিয়ে ফেলেছি। জলবায়ু পরিবর্তনের চাপ এই পরিবর্তনকে আরও দ্রুত করছে। ফলে নতুন প্রযুক্তি তৈরি হচ্ছে, যা বিশ্বের তেলের ওপর নির্ভরতা দ্রুত কমিয়ে আনবে। তবে কিছু শিল্প- যেমন জাহাজ চলাচল এবং প্লাস্টিক উৎপাদন- দীর্ঘদিন তেলের ওপর নির্ভরশীল থাকবে। তারপরও একটি ‘তেল-পরবর্তী বিশ্ব’ ধীরে ধীরে সামনে আসছে।

যুক্তরাজ্যের অ্যাবারডিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম ভূতত্ত্বের অধ্যাপক ডেভিড ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘তিমি শিকার শিল্পের সঙ্গে এর তুলনা করা যায়। একসময় এই শিল্প ছিল বিশাল। কিন্তু ধীরে ধীরে এর পতন ছিল অবশ্যম্ভাবী।’

তেলের ব্যবহার: হাজার বছরের ইতিহাস

প্রায় ৪০ হাজার বছর আগে, বর্তমান সিরিয়া অঞ্চলে মানুষ কাঁচা তেলের উপজাত বিটুমেন ব্যবহার করত তাদের সরঞ্জামের হাতল জোড়া লাগাতে। আরও প্রায় ৩৫ হাজার বছর পরে মেসোপটেমিয়ার মানুষ একই আঠালো পদার্থ দিয়ে নৌকা জলরোধী করত। ব্যাবিলনের মানুষ বিটুমিন ব্যবহার করেছিল ঝুলন্ত উদ্যান নির্মাণে। মিসরীয়রা এটি ব্যবহার করত মমি সংরক্ষণে।

চীনে খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০ অব্দেই মানুষ তাপ ও আলো পাওয়ার জন্য কাঁচা তেল ও গ্যাস পোড়াত। খ্রিষ্টীয় চতুর্থ শতাব্দীতে তারা এই প্রাকৃতিক সম্পদ খনন করে বাঁশের পাইপ দিয়ে পরিবহন করত। তবে শিল্প পর্যায়ে তেল অনুসন্ধান শুরু হয় ১৮৫৯ সালে, যখন এডউইন ‘কর্নেল’ ড্রেক যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় তেলের বিশাল ভান্ডার আবিষ্কার করেন। প্রায় ৬৯ দশমিক ৫ ফুট গভীরে পাওয়া সেই তেলের ভান্ডার থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে আধুনিক তেল শিল্পের জন্ম।

কাঁচা তেল মূলত কার্বন ও হাইড্রোজেনের সরল অণু দিয়ে গঠিত। এটি তৈরি হয় সেই সব উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে, যারা কোটি কোটি বছর আগে জলাভূমি, হ্রদ ও সমুদ্রের তলদেশে জমা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের ওপর বালু ও পাথরের স্তর জমে। তীব্র তাপ ও চাপের ফলে সেই দেহাবশেষ ধীরে ধীরে রূপ নেয় তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসে। পরে এগুলো ভূগর্ভস্থ স্তরে আটকে যায়, কখনো মাটির কাছাকাছি, আবার কখনো হাজার ফুট নিচে।

গত ১৬৫ বছরে তেল মানবসভ্যতার প্রায় প্রতিটি দিক বদলে দিয়েছে। প্রশ্ন উঠতে পারে, যদি আগামীকাল হঠাৎ তেল পৃথিবী থেকে উধাও হয়ে যায়, তাহলে কী হবে?

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ভেঙে পড়বে

হঠাৎ করে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায়, তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ি, ট্রেন, জাহাজ ও উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে, কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য সংরক্ষণ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, হাসপাতালের জীবাণুমুক্ত সরঞ্জাম পাওয়া যাবে না, সৌর প্যানেল ও উইন্ড টারবাইন তৈরির উপকরণ না থাকায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পও থমকে যাবে।

তবে বাস্তবে তেল থেকে সরে আসার প্রক্রিয়া অনেক ধীরে ঘটবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, আমরা ইতিমধ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেলের ব্যবহার অনেকটা কমিয়ে ফেলেছি।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি দশকের মধ্যেই তেলের চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। এরপর বড় পরিবর্তন আনবে ইলেকট্রিক গাড়ি (ইভি)।

২০১৮ সালের আইইএ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে ব্যবহৃত খনিজ তেলের প্রায় ৫০ শতাংশই সড়ক পরিবহনে ব্যবহৃত হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী দশকগুলোয় এই হার দ্রুত কমবে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ নতুন গাড়ি বিক্রি হবে ইলেকট্রিক।

বিডি এনার্জি আউটলুক ২০২৩ অনুযায়ী, যদি ২০৫০ সালের মধ্যে আমরা জীবাশ্ম জ্বালানির নির্গমন তিন-চতুর্থাংশ কমাতে পারি, তাহলে মোট তেলের চাহিদা কমানোয় অর্ধেকের বেশি ভূমিকা রাখবে বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্প। অর্থাৎ আগামী ৫০ বছরে গাড়ির জন্য তেলের ব্যবহার প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হতে পারে।

উড়োজাহাজ চলাচলও তেলের ওপর নির্ভরশীল। একটি উড়োজাহাজ তৈরি করতে কোটি কোটি ডলার লাগে এবং এগুলো দশকের পর দশক ব্যবহার করা হয়। তবে প্রযুক্তি দ্রুত উন্নত হচ্ছে। আধুনিক উড়োজাহাজগুলো ৪০ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখানে বড় ভূমিকা রাখতে পারে সাসটেইনেবল এভিয়েশন ফুয়েল (এসএএফ)। এই জ্বালানি তৈরির কাঁচামাল বর্জ্য, জৈব পদার্থ, ব্যবহৃত রান্নার তেল, প্রাণীর চর্বির বর্জ্য। এই জ্বালানি আধুনিক উড়োজাহাজের ইঞ্জিনে ব্যবহার করা যায় এবং প্রচলিত জেট ফুয়েলের সঙ্গে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মিশিয়ে ব্যবহার করা সম্ভব।

মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং পরিকল্পনা করছে, ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের সব বাণিজ্যিক বিমান এসএএফ-এ চালানোর উপযোগী করা হবে।

তবে জীবাশ্ম জ্বালানি, তথা তেলের ব্যবহার বন্ধ হবে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়বে জাহাজ শিল্প। বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশই জাহাজের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বর্তমানে সমুদ্রে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজারের বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করছে। এগুলো বিশ্বে ব্যবহৃত তেলের প্রায় ৫ শতাংশ খরচ করে।

আন্তর্জাতিক চেম্বার অব শিপিং বলছে, ‘যদি পৃথিবীজুড়ে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বিশ্বের অর্ধেক মানুষ অনাহারে থাকবে আর বাকি অর্ধেক ঠান্ডায় জমে যাবে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাইড্রোজেন জ্বালানি একটি সম্ভাব্য বিকল্প হলেও এতে নানা সমস্যা রয়েছে। এগুলো অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়, শক্তি ঘনত্ব কম, অত্যন্ত বিস্ফোরক। ফলে বড় কার্গো জাহাজে এই প্রযুক্তি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে।

কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জে অ্যাপ্ট লাইভ সায়েন্সকে বলেন, আগামী বহু দশক ধরে জাহাজ শিল্প তেলের বড় ভোক্তা হিসেবেই থাকবে।

তেলের আরেক বিপজ্জনক দিক প্লাস্টিক

একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক এখন পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। এগুলো ভাঙতে শত শত বছর সময় লাগে এবং পরে তা মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়। এগুলো সমুদ্র দূষণ করছে, পাহাড়ের চূড়ায় জমছে, মানুষের শরীরেও প্রবেশ করছে।

ম্যাকডোনাল্ড লাইভ সায়েন্সকে বলেন, ‘তেলের শিল্পের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক অনেক সময় হাইড্রোকার্বন পোড়ানো নয়, প্লাস্টিকের ব্যবহার।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ যদি মানবজাতি পৃথিবী থেকে উধাও হয়ে যায়, এক হাজার বছরের মধ্যে বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই অক্সাইড স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। কিন্তু প্লাস্টিক সমুদ্র ও মাটিতে লাখ লাখ বছর থাকবে।’

বর্তমানে উৎপাদিত তেলের প্রায় ১২ শতাংশ ব্যবহার হয় পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে, যেখানে তৈরি হয়, প্লাস্টিক, সার, কাপড়, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ডিটারজেন্ট, টায়ার ইত্যাদি।

ওইসিডির অনুমান অনুযায়ী, বর্তমান নীতি বজায় থাকলে ২০৬০ সালের মধ্যে বিশ্বে প্লাস্টিকের ব্যবহার তিনগুণ হতে পারে।

তেল-যুগের শেষের শুরু

ডেভিড ম্যাকডোনাল্ড লাইভ সায়েন্সকে বলেন, ‘তেলের অভাবে তেল শিল্প ধসে পড়বে না। পৃথিবীতে এখনো প্রচুর তেল আছে। কিন্তু একসময় পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এত সস্তা হয়ে যাবে যে তেল উত্তোলন আর লাভজনক থাকবে না।’

ফলে সবার আগে বন্ধ হবে ঝুঁকিপূর্ণ নতুন তেল অনুসন্ধান প্রকল্প। কারণ, একটি নতুন তেল কূপ খনন করতে কোটি কোটি ডলার খরচ হয় এবং লাভ পেতে বছর লেগে যায়।

গবেষক ফেমকে নিসে লাইভ সায়েন্সকে বলেন, ২০৬৫ সালের মধ্যে বিশ্বের তেল ব্যবহার ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে, শুধু উড়োজাহাজ ও জাহাজ খাত কিছুটা নির্ভরশীল থাকবে।

অবশ্য কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, তেলের ব্যবহার পুরোপুরি শেষ হবে না। তবে বিশেষজ্ঞদের সিংহ ভাগের মতে, একসময় সম্ভবত তেল উত্তোলনের বিশাল টাওয়ারগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলের পুরোনো স্বর্ণখনির মতোই ইতিহাসের অংশ হয়ে যাবে। সেগুলো তখন দাঁড়িয়ে থাকবে একটি হারিয়ে যাওয়া যুগের নিদর্শন হিসেবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত