
বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৬টি দেশে উৎপাদন খাত নিয়ে নতুন বাণিজ্য তদন্ত শুরু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত তাঁর আগের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাতিল করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। আদালত বলেছিলেন, অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা দেখিয়ে সেই শুল্ক আরোপ বৈধ ছিল না।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরিষ্কার করে দিয়েছেন—ফেব্রুয়ারিতে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে যে শত শত বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য রাজস্ব হারিয়ে গেছে, তা পুষিয়ে নিতে তাঁরা নতুন আইনি পথ ব্যবহার করে আবারও শুল্ক আরোপ করতে চান।
এই ক্ষেত্রে প্রশাসন ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১ অনুযায়ী তদন্ত শুরু করছে। এই তদন্তের ফলাফল শেষ পর্যন্ত নতুন আমদানি শুল্ক আরোপের দিকে যেতে পারে। তবে বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, তিনি আগেভাগেই তদন্তের ফল নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না।
গ্রিয়ার বলেন, ‘নীতিটা একই আছে। তবে আদালত বা অন্য নানা বিষয়ের ওঠানামার কারণে ব্যবহৃত উপকরণ বদলাতে পারে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, মূল লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান রক্ষা করা।
ট্রাম্পের আগের শুল্কনীতির পূর্ণ বিকল্প তৈরি করার এই প্রক্রিয়া শুরু হলে গত বছর বৈশ্বিক অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দেওয়া উত্তেজনার অনেকটাই আবার ফিরে আসতে পারে। পরে বাতিল হয়ে যাওয়া ওই শুল্কগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে নতুন কাঠামোগত সমঝোতা তৈরির পথ খুলে দিয়েছিল। নতুন শুল্ক আরোপ হলে সেই চুক্তিগুলোর ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। গ্রিয়ার বলেন, বাণিজ্য কাঠামোগুলো নিজেদের ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে আছে এবং এগুলো নতুন তদন্ত থেকে আলাদা।
নতুন এই শুল্কনীতির প্রক্রিয়া এমন এক সময়ে সামনে আসছে, যখন ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনও সামনে। ওই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা ট্রাম্পপন্থী রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে প্রচারণায় বলছেন, সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের পর জনগণকে শুল্ক থেকে আদায় করা অর্থ ফেরত দেওয়া উচিত।
জেমিসন গ্রিয়ার জানান, তদন্তে দেখা হবে বিদেশি শিল্প খাতে অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা আছে কি না এবং বিদেশি সরকারগুলো তাদের কোম্পানিগুলোকে এমন সহায়তা দিচ্ছে কি না, যা মার্কিন কোম্পানিগুলোর তুলনায় অন্যায্য সুবিধা তৈরি করে। এই তদন্তের আওতায় যেসব সত্তা বা অর্থনীতি রয়েছে, তার মধ্যে আছে—চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, বাংলাদেশ, মেক্সিকো, জাপান ও ভারত।
মার্কিন সরকার এসব দেশের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে কি না এবং ভর্তুকি দেওয়া বা শ্রমিকদের মজুরি দমন করার মতো নীতির মাধ্যমে তারা বাণিজ্যে সুবিধা নিচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে চায়। প্রশাসন একই সঙ্গে সেকশন ৩০১-এর আওতায় আরেকটি তদন্ত শুরু করছে, যার লক্ষ্য জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে তৈরি পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করা।
এই তদন্ত দ্রুত শেষ করার জন্য প্রশাসনের ওপর সময়ের চাপও রয়েছে। ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২ অনুযায়ী প্রশাসন বিদেশে তৈরি পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। তবে সেই শুল্ক ১৫০ দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে এবং তার মেয়াদ শেষের তারিখ ২৪ জুলাই।
ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এই আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশে বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে এখনো তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। গ্রিয়ার বলেন, প্রশাসন নতুন তদন্তের ক্ষেত্রে ওই ১৫০ দিনের সময়সীমাকে সামনে রেখে কাজ করছে। লক্ষ্য হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব সম্ভাব্য নীতিগত বিকল্পগুলো ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপন করা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্যোগকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প পরিবারের প্রতিষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল’-এর বিরুদ্ধে তাদেরই এক বিলিয়নিয়ার বিনিয়োগকারী চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেছেন।
২ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইউক্রেন ইস্যু যেন আড়ালে পড়ে না যায়—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইউক্রেন নিয়ে আলোচনা স্থগিত রাখা ‘বড় ঝুঁকি’ তৈরি করবে।
৩ ঘণ্টা আগে
লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘এপামিনোডাস’ নামক জাহাজটি ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। বুধবার সকালে এটিই প্রথম হামলার শিকার হয়। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ওমান থেকে ১৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে...
৫ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা নিয়ে আগামী শুক্রবারের মধ্যেই একটি ‘সুখবর’ আসতে পারে। আজ বুধবার নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক টেক্সট বার্তায় খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসলামাবাদের উচ্চপদস্থ সূত্রগুলো এই ইঙ্গিত দিয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে