নতুন কিছু শেখা ও অভিজ্ঞতা লাভের মাধ্যমে জীবনকালের নানা সময়ে বিভিন্ন স্মৃতি তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিগুলো পরিবর্তন হয় বা ঝাপসাও হয়ে যায়। সম্প্রতি এক গবেষণায় স্মৃতি ও মস্তিষ্কের সম্পর্ক নিয়ে চমকপ্রদ তথ্য জেনেছেন বিজ্ঞানীরা। ইঁদুরের ওপর গবেষণা করে জানা যায়, মস্তিষ্ক প্রতিটি স্মৃতির অন্তত তিনটি কপি সংরক্ষণ করে।
আগে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, যেসব কোষ স্মৃতিগুলো প্রথমে ধারণ করে, সেগুলোর পরিবর্তনের মাধ্যমে স্মৃতিগুলো পরিবর্তনযোগ্য হয় এবং মস্তিষ্কের কোষগুলো প্রতিটি স্মৃতির একটি মাত্র কপি সংরক্ষণ করে। তবে নতুন গবেষণার প্রাপ্ত তথ্যমতে, এই ধারণা সঠিক বলে মনে হচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা ইঁদুরে গবেষণা করে দেখতে পান, মস্তিষ্ক একটি নির্দিষ্ট স্মৃতির অন্তত তিনটি কপি সংরক্ষণ করে, এটি মস্তিষ্কের বিভিন্ন স্থানে রাখা হয়। মস্তিষ্কের হিপ্পোক্যাম্পাসে (শেখা এবং স্মৃতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ) বিভিন্ন ধরনের নিউরনের গ্রুপে কপিগুলো থাকে। স্মৃতির কখন তৈরি হয়, কতক্ষণ স্থায়ী থাকে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কতটা পরিবর্তনশীল হয়, তা অনুযায়ী কপিগুলো আলাদা হয়।
একটি নতুন স্মৃতি সংরক্ষণ করার সময় তিনটি ভিন্ন নিউরন সেট সক্রিয় হয়। সেগুলো হলো ‘প্রাথমিক জন্মগ্রহণকারী নিউরন’, ‘মধ্যবর্তী নিউরন’ এবং ‘শেষ জন্মগ্রহণকারী নিউরন’।
গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো নতুন স্মৃতি সংরক্ষণের সময় ইঁদুরগুলোর মস্তিষ্কের প্রথমে ‘প্রাথমিক নিউরন’ তৈরি হয়। এসব নিউরন একটি দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতির কপি সংরক্ষণ করে, যা প্রাথমিকভাবে দুর্বল থাকে। তবে এগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এরপর আসে ‘মধ্যবর্তী নিউরন’, যা শুরু থেকেই আরও বেশি স্থিতিশীল। এই নিউরনগুলো স্মৃতিকে স্থিতিশীল এবং নির্ভরযোগ্যভাবে সংরক্ষণ করতে সাহায্য করে। আর ‘শেষ জন্মগ্রহণকারী নিউরন’ শুরু থেকেই একটি খুব শক্তিশালী স্মৃতি কপি তৈরি করে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব স্মৃতি দুর্বল হতে থাকে।
ইঁদুরকে দিয়ে বিভিন্ন কাজ করানোর পর হিপ্পোক্যাম্পাসের বিভিন্ন নিউরন গ্রুপের কার্যকলাপ পর্যালোচনা করে এসব তথ্য উন্মোচন করেছেন গবেষকেরা। এই কার্যকলাপগুলোর মধ্যে ছিল ক্ষতিকর পরিস্থিতি এড়ানো শেখানো। যেমন—পরীক্ষার সময় তাদের পায়ে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার পর এদেরকে আবার একই পরিস্থিতির সম্মুখীন করানো হয়। এরপর ইঁদুরগুলোর আচরণ ও মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করা হয়।
সুইজারল্যান্ডের বাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোবায়োলজির সহকারী অধ্যাপক ও গবেষণার সহলেখক ফ্লাভিও ডোনাটো বলেন, বিভিন্ন সময়ে তিনটি নিউরন গ্রুপের কাজ করার পদ্ধতি থেকে জানা যাবে, মস্তিষ্ক কীভাবে স্মৃতিগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করে। তবে এই নিউরনগুলো কীভাবে একে অপরের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন, প্রাথমিক জন্মগ্রহণকারী নিউরন দ্বারা সংরক্ষণ স্মৃতিগুলোর তুলনায় শেষ জন্মগ্রহণকারী নিউরনের মাধ্যমে সংরক্ষণ স্মৃতিগুলো আরও পরিবর্তনশীল ছিল। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, স্মৃতি গঠনের শুরুতে যখন প্রাথমিক জন্মগ্রহণকারী নিউরনগুলো কার্যকর থাকে, তখন সংরক্ষণ তথ্য সময়ের সঙ্গে বেশ স্থিতিশীল থাকে। পরবর্তীকালে সংরক্ষণ স্মৃতিগুলো নতুন তথ্য দিয়ে সহজেই পরিবর্তিত হতে পারে।
ডোনাটো বলেছেন, যদি একই ঘটনা মানুষের মধ্যে ঘটে, তাহলে এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে মানসিক রোগের নতুন থেরাপির উন্নয়নে সাহায্য করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) রোগে মানুষ উদ্বেগজনক স্মৃতির অভিজ্ঞতা বারবার মনে করে। এ সমস্যা সমাধানে একটি ওষুধ তৈরি করা যেতে পারে, যা বিশেষভাবে শেষ জন্মগ্রহণকারী নিউরনগুলোকে সক্রিয় করবে। ফলে উদ্বেগজনক স্মৃতি ভুলে যেতে সাহায্য করবে এসব স্মৃতি।
অপর দিকে ডিমেনশিয়া রোগের জন্য মানুষের স্মৃতিলোপ পায়। তাই একধরনের ওষুধ তৈরি করা যায়, যা শুধু প্রাথমিক জন্মগ্রহণকারী নিউরনগুলো কার্যকলাপ উদ্দীপিত করতে পারে। এসব নিউরন তথ্য আরও ভালোভাবে সংরক্ষণ করতে পারবে।
সুইজারল্যান্ডের বাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এই গবেষণা পরিচালিত করে।
তথ্যসূত্র: লাইভ সায়েন্স ও নিউ অ্যাটলাস

১৮৭২ সালের ৫ ডিসেম্বর উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল ব্রিটিশ বাণিজ্যিক জাহাজ ‘মেরি সেলেস্ট’। জাহাজটিতে তখন কোনো মানুষ ছিল না। অথচ খাবার, মালপত্র ও নাবিকদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র প্রায় অক্ষত অবস্থায় পড়ে ছিল।
২০ ঘণ্টা আগে
সম্প্রতি আবিষ্কৃত একটি গ্রহাণু খুব কাছ দিয়ে পৃথিবী অতিক্রম করতে যাচ্ছে। তবে এতে কোনো ধরনের বিপদের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ইএসএ) জানিয়েছে, ‘২০২৬ জেএইচ২’ নামের এই গ্রহাণুটি আজ সোমবার (১৮ মে) পৃথিবীর প্রায় ৯১ হাজার ৫৯৩ কিলোমিটার দূর দিয়ে অতিক্রম করছে।
২১ ঘণ্টা আগে
মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে আসা মানুষের অভিজ্ঞতাকে বলা হয়—‘নিয়ার-ডেথ এক্সপেরিয়েন্স’ বা ‘এনডিই’। দীর্ঘদিন ধরেই জীবন আর মৃত্যুর মাঝে থাকা এই ধূসর অবস্থাটি নিয়ে বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকদের কৌতূহলের অন্ত নেই।
২ দিন আগে
১৮৪৫ সালের দুর্ভাগ্যজনক ফ্রাঙ্কলিন অভিযানের চার নাবিকের পরিচয় অবশেষে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। প্রায় ১৮০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আর্কটিকে নিখোঁজ থাকা এই অভিযানের রহস্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে।
২ দিন আগে