
জাতীয় সংসদে গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ হওয়া নিয়ে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কওমি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং কর্মসূচি প্রতিহতের হুমকির মুখে দুঃখপ্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।
আজ শনিবার দুপুরে ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন এবং তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।
এর আগে গতকাল শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে ‘কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ’। সমাবেশ থেকে এই বক্তব্যের জন্য ক্ষমা না চাইলে শনিবার বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক কর্মশালা ও সমন্বয় সভা হতে না দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে শহরের কান্দিপাড়া এলাকা থেকে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের ব্যানারে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘জুলাই শক্তির ঐক্য চাই, সংঘাত নয়। কিন্তু ইসলাম ও আলেম-উলামাকে অন্যায়ভাবে দোষারোপের পুরোনো সংস্কৃতির সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।’
বিক্ষোভকারীরা হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাঁকে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহ ক্ষমা না চাইলে শনিবার বিকেলে এনসিপির নির্ধারিত সাংগঠনিক কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ দুপুরে ফেসবুকে এক বার্তায় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহি চাইতে গিয়ে তাঁর বক্তব্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ায় তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতো। এই বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ ও আলেম-উলামাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন।
কনসার্ট বন্ধের বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে হাসনাত বলেন, গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে পরীক্ষার পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা সাউন্ড কমাতে বলেছিল। পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে লাঠিাপেটায় শিক্ষার্থীরা আহত হয়। শিক্ষার্থীরা সংস্কৃতি চর্চা নিষিদ্ধ করেনি, কেবল শব্দ কমানোর অনুরোধ করেছিল।
হাসনাত আবদুল্লাহ স্বীকার করেন যে নৌকাবাইচের স্থান নিয়ে তাঁর তথ্যে ত্রুটি ছিল। সিলেটের ঘটনার তথ্য ভুলবশত ব্রাহ্মণবাড়িয়া বলে ফেলার কারণে এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও পুনর্ব্যক্ত করেন, ‘এই বাংলাদেশ সবার—মসজিদ, মন্দির, সংগীত, ওয়াজ, মাজার, কনসার্ট, মাহফিল ও রথযাত্রা—সব ধর্মের ও মতের মানুষের সহাবস্থান থাকবে। সরকার সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।’
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সম্পূরক প্রশ্ন করার সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনে বাধার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে প্রস্তুত করার অংশ হিসেবে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
৮ ঘণ্টা আগে
দুই দিন আগে একটি মসজিদ পরিদর্শনে গিয়ে জানা গেল, সেখানে ইমামের বেতন ৪ হাজার টাকা। অথচ মসজিদটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা। এভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বড় বড় ভবন নির্মাণে বরাদ্দ হলেও শিক্ষকদের বেতন ৭-৮ হাজার টাকা—এটি গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের সমাজ টিকবে কি টিকবে না, এটা নির্ভর করে শিক্ষার ওপর...
১৯ ঘণ্টা আগে
‘এই ৫৫ বছরে জনগণ যে উদ্দেশ্যে আন্দোলন-সংগ্রাম করল, সেটা হলো না আর স্টিয়ারিংয়ে বসে গেল জালেমরা, ধোঁকাবাজেরা। যাদের ভেতরে নৈতিকতা নাই, আদর্শ নাই, যাদের ভেতরে আমাদের শিক্ষকদের প্রাণের দাবি উপলব্ধি করার মতো অবস্থান নাই। আপনারা এখানে ১৩ দফা দাবি পেশ করেছেন। আমি বলব, ১৩-১৪ দফা লাগবে না...
১ দিন আগে
‘নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা নিজ এলাকায় উন্নয়ন করবেন, উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সরকার বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের এলাকায় সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের দারোগা হিসেবে উন্নয়ন তদারকির দায়িত্ব দিয়েছে, যা বেমানান। এতে করে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের আরও খাটো করা হচ্ছে।’
১ দিন আগে