Ajker Patrika

শেরপুরে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা কেন সব চেয়ার দখল করে রাখল, লাঠিসোঁটা জড়ো করল—প্রশ্ন বিএনপির

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬: ২৯
শেরপুরে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা কেন সব চেয়ার দখল করে রাখল, লাঠিসোঁটা জড়ো করল—প্রশ্ন বিএনপির
রাজধানীর গুলশানে বৃহস্পতিবার বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

শেরপুরে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে হওয়া সংঘর্ষে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হওয়ার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে বিএনপি।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

শেরপুরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন দেশের কোথাও না ঘটে, সে পদক্ষেপ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গতকাল বুধবার বিকেলে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। রেজাউল করিম ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক ছিলেন।

এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় আজ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শেরপুরে যে সহিংসতা ও সংঘাত আমরা দেখেছি, সেটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। গণ-অভ্যুত্থানের পর আমাদের সবার প্রত্যাশা ছিল এমন একটি নির্বাচন, যেখানে পরিবেশ হবে উৎসবমুখর, সংঘাতময় নয়। আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু ভিডিও দেখেছি; যেখানে দেখা যাচ্ছে, জামায়াতের যিনি প্রার্থী, তাঁকে বারবার পুলিশ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী, এমনকি বিএনপির নেতা-কর্মীরাও হাতজোড় করে সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য অনুরোধ করেছিলেন যেন তিনি ওই রাস্তা দিয়ে না যান।’

মাহদী আমিন প্রশ্ন তোলেন, ‘এই সংঘাত কি এড়ানো যেত না? নির্ধারিত সময়ের আগে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা কেন সব চেয়ার দখল করে রাখল? তারা কেন সেখানে আগে থেকেই লাঠিসোঁটা জড়ো করল? সবার সম্মিলিত অনুরোধ উপেক্ষা করে দলটির প্রার্থী কেন সংঘাতের পথ বেছে নিলেন? এসব বিষয় নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।’

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র বলেন, ‘শেরপুরে স্থানীয় প্রশাসনের আয়োজনে সব প্রার্থীর অংশগ্রহণে গতকাল নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার একটি অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে প্রত্যেকটি দলের জন্য বসার আসন নির্ধারিত ছিল। জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা সব চেয়ার দখল করে রেখেছিলেন এবং বিএনপির নেতা-কর্মীদের তাঁদের নির্ধারিত আসনে বসতে দিচ্ছিলেন না। প্রশাসন বারবার আহ্বান জানানোর পরও তাঁরা চেয়ার ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান।’

এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, ‘আমাদের বড় লক্ষ্য হলো, নির্বাচন যেন বিতর্কমুক্ত থাকে, শান্তিপূর্ণ থাকে এবং নির্বাচন ঘিরে কেউ যেন কোনো সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে। শেরপুরে যে ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। কীভাবে সংঘাত শুরু হলো, কারা সেখানে মদদ দিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন কেন পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে পারল না-এসব বিষয় নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই অনেক প্রশ্ন জাগছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত