Ajker Patrika

স্থানীয় নির্বাচন: সক্ষমতা পরখ করতে চায় জামায়াত ও এনসিপি

  • সিটিতে সমঝোতা যদি হয়ও, ইউপিতে এককভাবে লড়বে দল দুটি।
  • চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে তফসিল ঘোষণার পর।
  • দুই দলই প্রস্তুতি নিচ্ছে এককভাবে নির্বাচন করতে।
  • গ্রামাঞ্চলে জনসমর্থন দেখতে চায় এনসিপি।
অর্চি হক ও আব্দুল্লাহ আল গালিব, ঢাকা
স্থানীয় নির্বাচন: সক্ষমতা পরখ করতে চায় জামায়াত ও এনসিপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটবদ্ধ হয়ে লড়েছিল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রাজপথের আন্দোলনেও দল দুটি এখনো একসঙ্গেই আছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আলাদা করে নিজেদের সামর্থ্য পরীক্ষা করতে চায় তারা। এ জন্য বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আলাদাভাবে লড়াইয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে সিটি নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত সমঝোতা যদি হয়ও, ইউপি নির্বাচন তারা এককভাবেই করবে—এখন পর্যন্ত এমন সিদ্ধান্ত ধরেই চলছে দল দুটির প্রস্তুতি।

জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সমঝোতা নিয়ে এখনো ১১ দলে সে রকম আলোচনা হয়নি। নির্বাচনের দিনক্ষণও এখনো ঠিক হয়নি। এই পরিস্থিতিতে আমরা আপাতত সব জায়গায় নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ করছি। সমঝোতা হলে তখন কাকে কোথায় ছাড় দেওয়া হবে, তা ঠিক করা হবে। তবে যেহেতু এখনো সমঝোতার আলোচনা হয়নি, আমরা একক নির্বাচনের প্রস্তুতিই নিচ্ছি।’

একই রকম পরিকল্পনার কথা জানালেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও দলের স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সারজিস আলম। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এনসিপি এককভাবে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় আছে। এ কারণে আমরা এখন এককভাবে প্রতিটি জায়গায় স্থানীয় নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী ঘোষণা করব। পরে যদি দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের স্বার্থে, কোনো স্থানীয় নির্বাচনে জোট করতে হয়, সেটা তখনকার সিদ্ধান্ত। কিন্তু এখন পর্যন্ত এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছি।’

আইন অনুযায়ী, এবার দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকছে না। তবে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দল তাদের সমর্থিত প্রার্থীর নাম প্রকাশ শুরু করেছে।

দলীয় সূত্র বলছে, জামায়াত সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা করছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলের মহানগর উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিমউদ্দিন এবং দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাদিক কায়েমকে নিয়ে আলোচনা চলছে। গাজীপুরে ড. হাফিজুর রহমান এবং চট্টগ্রামে মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালীর নাম আলোচনায় রয়েছে।

অন্যদিকে এনসিপি ঢাকার দুই সিটিসহ পাঁচ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ঢাকা দক্ষিণে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, উত্তরে আরিফুল ইসলাম আদিব, কুমিল্লায় তারিকুল ইসলাম, সিলেটে আব্দুর রহমান আফজাল ও রাজশাহীতে মোবাশ্বের আলী প্রার্থী হবেন বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

তবে শেষ পর্যন্ত সমঝোতার ভিত্তিতে ঢাকা দক্ষিণে এনসিপির আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং উত্তরে জামায়াতের মুহাম্মদ সেলিমউদ্দিনকে ১১ দলীয় ঐক্যের সমর্থন দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে জোট সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে চট্টগ্রামে সাবেক মেয়র মনজুর আলমকে ঘিরে আলোচনা চলছে। তিনি এনসিপিতে যোগ দিলে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে তাঁর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের সমর্থন আদায়ে এনসিপি দর-কষাকষি চালাচ্ছে বলে একটি সূত্র দাবি করেছে।

যদিও তফসিল ঘোষণার আগপর্যন্ত প্রকাশ্যে জোটের নেতারা সমঝোতার কথা বলতে চাইছেন না। তবে ভেতরে-ভেতরে বিভিন্ন সিটিতে সম্ভাব্য সমন্বয় নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি হিসাব-নিকাশ হচ্ছে।

জোটের নেতারা বলছেন, ঢাকা উত্তরে জামায়াতের সাংগঠনিক ভিত্তি তুলনামূলক শক্তিশালী। সংসদ নির্বাচনের ফলাফল এবং নগরভিত্তিক সাংগঠনিক অবস্থান বিবেচনায় সেখানে জামায়াতের প্রার্থীর পাল্লা ভারী বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে দক্ষিণে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে নিয়ে দলটির ভেতরে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। তবে এই দুই সিটিকে ঘিরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াত ও এনসিপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রকাশ্য বিতর্ক দেখা গেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ সিটিতে আসিফ মাহমুদ ও সাদিক কায়েমকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েছেন দুই দলের সমর্থকেরা।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জোটের একজন নেতা জানান, সাদিক কায়েমকে ঢাকা দক্ষিণের প্রার্থী হিসেবে সামনে আনা দর-কষাকষিতে ভালো অবস্থানে থাকতে জামায়াতের একটি কৌশলমাত্র। শেষ পর্যন্ত তাঁকে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। তা ছাড়া সাদিক কায়েমের সংগঠন ছাত্রশিবির ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, ইসলামী ছাত্রশিবিরের যেকোনো পর্যায়ে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই।

জোটের নেতারা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে নিজেদের সক্ষমতা যাচাইয়ের চিন্তা রয়েছে দলগুলোর। সিটি করপোরেশনে কেন্দ্রীয়ভাবে সমঝোতা হলেও ইউনিয়ন পরিষদে দল থেকে কিছু চাপিয়ে দেওয়া হবে না। তৃণমূল পর্যায়ে দল-সমর্থিত প্রার্থীরা ‘ওয়ান টু ওয়ান’ সমঝোতা করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে দলের পক্ষ থেকে কোনো বাধা থাকবে না।

এনসিপির নেতারা মনে করছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিলে দলের প্রকৃত সাংগঠনিক অবস্থা বোঝা যাবে। শহরাঞ্চলের বাইরে দলটির প্রভাব কতটা, সেটিও স্পষ্ট হবে। সেই অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সময়ে উপজেলা, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোটের প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন করা হতে পারে।

এ বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, নির্বাচনে সক্ষমতা যাচাই এবং বহুমতের সমর্থন পাওয়া দুটিই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সার্বিক দিক বিবেচনা করে সিটি করপোরেশনগুলোতে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। আর তৃণমূল পর্যায়ে এককভাবে নির্বাচন হতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ধর্ষক মসজিদের ইমাম নয়, বড় ভাই—ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় শনাক্ত

গভর্নর রাজি নন, বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রিত্বের শপথ আজ হচ্ছে না

তিস্তা প্রকল্পসহ ১০ দফার যৌথ বিবৃতিতে যা বলল বাংলাদেশ-চীন

‘পুশইন’ ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশকে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আহ্বান ভারতের

অবৈধ মানব পাচার: প্রথম বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানকে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত