Ajker Patrika

আওয়াজসর্বস্ব প্রতারণামূলক বাজেট: এনসিপি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আওয়াজসর্বস্ব প্রতারণামূলক বাজেট: এনসিপি
আজ বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ন ট্রেড সেন্টারে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাজেট নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায় এনসিপি। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে আওয়াজসর্বস্ব প্রতারণামূলক বলে মনে করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই বাজেট জনকল্যাণমুখী বা রূপান্তরমুখী না হয়ে ইশতেহারনির্ভর ও অবাস্তব প্রতিশ্রুতিনির্ভর হয়েছে বলে অভিযোগ দলটির।

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ন ট্রেড সেন্টারে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাজেট নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে করা সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ও এনসিপির ছায়া বাজেট কমিটির প্রধান ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি দীর্ঘদিনের দুর্বল ভিত্তি, ঋণনির্ভরতা ও বৈষম্যের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় একটি রূপান্তরমুখী বাজেট প্রয়োজন ছিল, যা অর্থনীতিকে নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে পারত। কিন্তু সরকার সে পথে না গিয়ে ইশতেহারধর্মী ও অবাস্তব লক্ষ্যনির্ভর বাজেট দিয়েছে। এটা একটা আওয়াজসর্বস্ব প্রতারণার বাজেট। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এতে ঘটেনি। আমরা চরমভাবে হতাশ এবং উদ্বেগ প্রকাশ করছি।’

বাজেটের আকারের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, ‘৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট একটি কাল্পনিক বাজেট। গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বড় এই বাজেটের আয় লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত নয়।’ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) যে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে, তা অর্জন করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি।

বিরোধীদলীয় এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘সরকার বলছে, প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোর রাজস্ব আহরণের চিত্র বিবেচনায় এ পরিমাণ আদায় সম্ভব নয়। সর্বোচ্চ ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকা আদায় হতে পারে। ফলে আড়াই লাখ কোটি টাকার বেশি ঘাটতি তৈরি হবে।’

ব্যাংক ঋণনির্ভর অর্থায়নের সমালোচনা করে ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, ‘দেশের ব্যাংকিং খাত ইতিমধ্যে চাপে রয়েছে। এই অবস্থায় আরও ঋণনির্ভর বাজেট বাস্তবায়ন করতে গেলে বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং শেষ পর্যন্ত টাকা ছাপানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়াবে। বাজেটে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই। একই সঙ্গে করব্যবস্থার বিভিন্ন প্রস্তাব সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন চাপ তৈরি করবে।’

এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘ব্যাংক থেকে ঋণ না পেলে বিকল্প হিসেবে টাকা ছাপাতে হবে। যার ফলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে। অথচ সরকার ঘাটতি কমাবার কথা বলছে।’ এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে গেলে টিআইএন (ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নম্বর) দরকার হবে, নতুন এই নিয়মের প্রসঙ্গে আতিক মুজাহিদ বলেন, ‘নতুন নিয়ম করা হয়েছে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে গেলে টিএইএন সার্টিফিকেট লাগবে। ফলে মানুষ ফরমাল চ্যানেলে যে টাকা লেনদেন করবে, সেটাও করতে তারা ভয় পাবে। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের অনেকে করের ভয়ে তা করবে না। ফলে ইনফর্মাল ইকোনমি (অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি) বেশি হয়ে গেলে এটা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’

করমুক্ত আয়সীমা প্রসঙ্গে ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, ‘জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় করমুক্ত আয়সীমা আরও বাড়ানো উচিত ছিল। কিন্তু সরকার সামান্য বৃদ্ধি করেছে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের জন্য হতাশাজনক।’ তবে এই বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তায় কিছু ভালো বিষয় রয়েছে বলে জানান তিনি।

ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, ‘একটা কথা আছে, যত বড় বাজেট, তত নেতা-কর্মীদের পকেট ভারী। এটি করা হয়েছে কি না, সেটিও এখন একটি প্রশ্ন বোধ হয়। এত বড় বাজেটের টাকা কোথা থেকে আয় করবেন, তা তো পরিষ্কারভাবে বলতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সদস্যসচিব ও গ্লোবাল ডায়াসপোরা সেলের প্রধান আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, জয়নাল আবেদীন শিশির প্রমুখ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত