Ajker Patrika

ডাকসু নির্বাচন: সংস্কার ও দ্রুত নির্বাচনের দাবি শিক্ষার্থীদের

ঢাবি সংবাদদাতা
ডাকসু নির্বাচন: সংস্কার ও দ্রুত নির্বাচনের দাবি শিক্ষার্থীদের
নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ডাকসু সংস্কার ও নির্বাচনের বিষয়ে আয়োজিত সংলাপ। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা। তাঁদের মতে, ডাকসুকে একাডেমিক অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

আজ রোববার বিকেলে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ডাকসু সংস্কার ও নির্বাচন বিষয়ে এক সংলাপে এসব দাবি উঠে আসে। ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সংলাপে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, শিক্ষক, সাবেক ডাকসু নেতা ও প্রশাসনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সংলাপে অংশ নেওয়া ছাত্রসংগঠনের নেতারা বলেন, অভ্যুত্থানের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ডাকসু নির্বাচন নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানাতে পারেনি। তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসনের দায়িত্বহীনতার কারণে যদি ডাকসু নির্বাচন না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনকে দায়ী করবেন।

ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এত বড় অভ্যুত্থান একটা চোরাবালির মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে, অথচ কেউ কিছু করতে পারছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচাতে পারলে বাংলাদেশকেও বাঁচানো সম্ভব। ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি করে।

মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, ‘ডাকসু আমাকে সম্মান দিয়েছে, কিন্তু প্রশাসন আমাকে অপমান করতে ছাড়েনি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক শামীম রেজা বলেন, ডাকসুকে একাডেমিক অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং এটি বছরব্যাপী কাজের একটি অংশ হতে হবে।

শামীম রেজা আরও বলেন, ডাকসুর সংস্কার একবার করলেই চলবে না; প্রতি পাঁচ বছর পরপর এটি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

সংলাপে ডাকসু সংস্কার কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলছি। একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে চাই।’

সংলাপে ছাত্রসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি উঠে আসে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, ‘ছাত্রলীগের যেসব নেতা-কর্মী ফৌজদারি অপরাধে জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও আমরা এখনো প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাইনি।’

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক মাইন আহমেদ বলেন, ‘ছাত্রসংগঠনগুলোর সংস্কার প্রস্তাবনার কারণে নির্বাচন দেরি হচ্ছে, এমনটি বলার সুযোগ নেই। এতটুকু সংস্কারের জন্য এত দীর্ঘ সময় লাগার কথা নয়।’

ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, নির্বাচনের শর্তগুলো শিথিল করে এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে।

ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি এস এম ফরহাদ বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা বাদ দিয়ে দ্রুত ডাকসু নির্বাচন দিতে হবে। আমরা চাই, ১৫ তারিখের মধ্যে নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণা করা হোক।’

সংলাপে আরও মতামত দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন মুজাহিদ মাহি, ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি অর্পিতা গোলদার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক তাহমিদ আল মুদাসসির চৌধুরীসহ অনেকে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এখন টিভির ঘটনা সমঝোতার চেষ্টা করবেন তথ্যমন্ত্রী

ড. ইউনূস এখন কোথায় আছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী উঠবেন কোথায়?

২৬ ফেব্রুয়ারি বসতে পারে সংসদের প্রথম অধিবেশন, সভাপতিত্ব করবেন কে

ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করবে সরকার, হবে সর্বজনীন

বৈধ সুবিধাকে অস্বীকার করে জনগণের সামনে সাধু সাজা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত