
বর্তমান সরকারকে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে যা ইচ্ছা বলা এবং জনগণের রায় উপেক্ষা করে আইন পরিবর্তনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এভাবে জনগণের মতামতকে পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে অতীতের অনেক সরকারের মতো সেটিও ফ্যাসিবাদী ও কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠতে পারে।’
আজ সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে জামায়াতে ইসলামীর তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগের আয়োজনে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬: নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ নাকি বাকস্বাধীনতা দমন?’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বিরোধী দলকে ভূতে ধরেছে’ বলা হলেও এখন মনে হচ্ছে সরকারকেই ভূতে ধরেছে। সরকারে এক ধরনের অস্থিরতা ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের রায়কে উপেক্ষা করার প্রবণতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সাইবার আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন বেড়েছে, তেমনি সাইবার অপরাধও বেড়েছে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী আইন করা বা সংশোধন করার প্রয়োজন হতে পারে। তবে ২০২৫ সালে জারি করা সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশকে ২০২৬ সালে আইনে পরিণত করার কয়েক মাসের মধ্যেই আবার সংশোধনের উদ্যোগ কেন নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে আগের অনেক বিতর্কিত বিধান বাতিল বা পরিবর্তন করা হয়েছিল। কিন্তু আইনটি কার্যকর হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন করে সংশোধনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। এত অল্প সময়ের মধ্যে এমন কী ঘটল যে আবার সংশোধনের প্রয়োজন হলো—সরকারকে তা ব্যাখ্যা করতে হবে।

প্রস্তাবিত সংশোধনীর বিভিন্ন ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মানহানি, গুজব, অসত্য তথ্য, তল্লাশি ও জব্দের মতো বিষয়গুলোর ব্যাখ্যায় অস্পষ্টতা থাকলে সেগুলোর অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এসব বিধান সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে জামিন অযোগ্য ধারাগুলো বাতিল করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, ‘গুজব’, ‘অপতথ্য’ ও ‘ভুল তথ্য’ এসবের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা থাকতে হবে। তা না হলে আইনের অপব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের আটক করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, বিদ্যমান সাইবার সুরক্ষা আইন বহাল রাখা উচিত এবং আপাতত প্রস্তাবিত সব সংশোধনী প্রত্যাহার করা উচিত। আইনের খুঁটিনাটি নিয়ে সময় নষ্ট না করে সরকারকে জনগণের ভাষা বুঝতে হবে। রাজপথের মিছিলের স্লোগান, পোস্টার ও দেয়ালের লেখার মধ্য দিয়েও জনগণের মনোভাব প্রকাশ পায়।
তিনি বলেন, জনগণের রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলে সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন করে যদি ‘কালাকানুন’ রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা সরকারের জন্য আরও একটি অনিবার্য পরিণতির নতুন মাত্রা তৈরি করতে পারে।
আইন প্রয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শুধু আইন করলেই হবে না, আইনটি কে প্রয়োগ করছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ইংরেজিতে একটি কথা আছে, ‘ম্যান বিহাইন্ড দ্য মেশিন’। কোনো শাসকের চরিত্র যদি কর্তৃত্ববাদী হয়, তাহলে আইনকে অপব্যাখ্যা, অপব্যবহার ও ভুল প্রয়োগের মাধ্যমে নিরপরাধ মানুষকেও শাস্তি দেওয়া সম্ভব।
সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রফিকুজ্জামান রুমান। তিনি সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারা, সম্ভাব্য প্রভাব এবং নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে এর সম্পর্ক তুলে ধরেন।
প্রবন্ধে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে ১৬টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এসব সুপারিশের মধ্যে প্রকৃত সাইবার অপরাধকে আইনের মূল কেন্দ্রবিন্দু করা, মতপ্রকাশ ও সাইবার অপরাধকে পৃথকভাবে দেখা, অস্পষ্ট ও ব্যাপক অর্থবোধক শব্দের ব্যবহার কমানো, মানহানিকে সাইবার অপরাধ হিসেবে যুক্ত না করা এবং গুজব ও অপতথ্যের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত ক্ষতির বিষয়টি প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়।
এ ছাড়া গুজব শনাক্তে স্বাধীন ও যাচাইযোগ্য প্রক্রিয়া, ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৪০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান পুনর্বিবেচনা, কনটেন্ট ব্লকের কারণ প্রকাশ, গ্রেপ্তার ও তল্লাশির ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতির গুরুত্ব বাড়ানো, জামিনের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং সাংবাদিকদের বিশেষ সুরক্ষার সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রস্তাবে কোম্পানির লাইসেন্স বাতিলের বিধান সীমিত করা, ডিজিটাল কনটেন্ট অপসারণে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া, সাইবার অপরাধ তদন্তে দক্ষতা বৃদ্ধি, আইনের রাজনৈতিক অপব্যবহার বন্ধ এবং সাইবার সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দৈনিক সংগ্রামের সাবেক সম্পাদক আবুল আসাদের সভাপতিত্বে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নুরুল ইসলাম বুলবুল ও সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সদস্য নাজমুন নাহার নিলু।
এ ছাড়া দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আযম মীর সাহেদুল আহসান, গ্রীনওয়াচের সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গণমাধ্যমকর্মী, সাংবাদিক নেতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির মতে, জ্বালানি তেলের দাম একলাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জনজীবনে নতুন করে সংকট সৃষ্টি করবে এবং দুর্ভোগ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
১ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সবুজ শাহরিয়ার, সদস্য মো. ইসরাফিল ইসলাম রাফিল, মাসুম রেজা, ইয়াসিন সাইফ, ইমরান হোসেন ইমন, মনিরুজ্জামান মনির, মো. সৌরভুর রহমান সুজনকে সাংগঠনিক...
১৮ ঘণ্টা আগে
মামলার অভিযোগে বলা হয়, সরকারের ভাবমূর্তি নস্যাৎ করাসহ সরকারবিরোধী অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং সরকারকে বেকায়দায় ফেলার ও বিশৃঙ্খলা করার লক্ষ্যে সমাবেশের আয়োজন করেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। অভিযোগে আরও বলা হয়, পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পুলিশ
১৮ ঘণ্টা আগে
জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করার প্রতিবাদ জানিয়ে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভা মাঝপথে বর্জন (ওয়াকআউট) করেছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন...
১ দিন আগে