Ajker Patrika

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ২২ দফা ইশতেহার ঘোষণা, যা আছে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০: ৩৯
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ২২ দফা ইশতেহার ঘোষণা, যা আছে
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক ইসলামি সুশাসনের’ ইশতেহার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। আজ শুক্রবার রাজধানীর পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের আমির মামুনুল হক এই নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঘোষিত ইশতেহারে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করে রাষ্ট্রীয় সংকট থেকে উত্তরণের একটি সমন্বিত পথনকশা তুলে ধরা হয়। পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত এবং মোট ২২ দফা-সংবলিত এই ইশতেহারে দলটির রাজনৈতিক দর্শন, নৈতিক অবস্থান এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি উপস্থাপন করেছে দলটি।

ইশতেহারের প্রথম অধ্যায়ে ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত একতরফা নির্বাচন, ভোটাধিকার হরণ, গুম-খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন, প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দলীয়করণ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রব্যবস্থার ধ্বংসের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে এসব ঘটনার জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিরপেক্ষ তদন্ত, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির দাবি জানানো হয়।

দ্বিতীয় অধ্যায়ে ক্ষমতায় গেলে ছয়টি অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির ঘোষণা করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। সুষম উন্নয়ন ও নাগরিক জীবনের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, শক্তিশালী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও জাতীয় নিরাপত্তা, স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি, সর্বজনীন ও নৈতিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থান ও তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার কর্মসূচির কথা বলা হয় এতে।

তৃতীয় অধ্যায়ে ধর্মীয় পরিচয় ও রাষ্ট্রীয় নীতি, ইসলামি অর্থনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতি, কওমি মাদ্রাসা, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, নারী ও শিশু সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার নিয়ে বিস্তারিত কর্মসূচি উপস্থাপন করা হয়। ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতের পাশাপাশি ইসলামি আকিদা ও মূল্যবোধ রক্ষায় রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের বিষয়টিও সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।

চতুর্থ অধ্যায়ে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ঘুষ-দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, গুম-খুন, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন, ঋণখেলাপি এবং অর্থ পাচারের মতো রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার ঘোষণা দেওয়া হয়। এসব অপরাধ দমনে বিশেষ আইন, স্বাধীন তদন্ত কমিশন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকরের অঙ্গীকার করা হয়।

পঞ্চম অধ্যায়ে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের ইতিবাচক আদর্শ পুনর্ব্যক্ত করে বলা হয়—রাজনীতি হবে আমানত, ক্ষমতা হবে জবাবদিহিমূলক এবং রাষ্ট্র পরিচালিত হবে আল্লাহভীতি, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার ভিত্তিতে।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দলের সিনিয়র নায়েবে আমির ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা ইউসুফ আশরাফ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির মাওলানা কুরবান আলী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলালসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত