Ajker Patrika

বন্দর বিদেশিদের দিলে অর্থনৈতিক লাভের প্রমাণ কেউ দেখাতে পারেনি: প্রিন্স

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ২৯
বন্দর বিদেশিদের দিলে অর্থনৈতিক লাভের প্রমাণ কেউ দেখাতে পারেনি: প্রিন্স
জাতীয় প্রেসক্লাবে শুক্রবার ‘চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি–সিসিটি ইজারা: বাংলাদেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশিদের হাতে দিলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে—এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত কেউ দেখাতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। তিনি আরও বলেছেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে বন্দর তুলে দেওয়ার উদ্যোগ দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-সিসিটি ইজারা: বাংলাদেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রিন্স এসব কথা বলেন। বন্দর রক্ষা ও করিডর বিরোধী আন্দোলন এবং বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রাম যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, কেউ এখন পর্যন্ত প্রমাণ করতে পারেনি যে, চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে দিলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে বা জাতীয় নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চে দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সংহতি জানিয়েছেন। এতে প্রমাণ হয়, বন্দর ইস্যু এখন আর শুধু চট্টগ্রামের বিষয় নয়, এটি জাতীয় উদ্বেগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

সরকারের উদ্দেশে প্রিন্স বলেন, জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে কোনো বিদেশি শক্তির তাঁবেদারি করতে গেলে জনগণ তা মেনে নেবে না। অবিলম্বে এই চুক্তির উদ্যোগ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।

লিখিত বক্তব্যে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রামের আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু ও অর্থনীতির প্রধান প্রবেশদ্বার। এনসিটি ও সিসিটি দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় জনবল দিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তাই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘ মেয়াদে পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে যৌক্তিক প্রশ্ন রয়েছে।

দেলোয়ার মজুমদারের অভিযোগ, চূড়ান্ত ইজারা চুক্তির আগেই কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ প্রায় ৩৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এতে আমদানি-রপ্তানি ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি শিল্প ও ভোক্তা পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবিত রাজস্ব কাঠামোয় বন্দরের আয় ও অর্থপ্রবাহের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বাসদ সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, নিউমুরিং টার্মিনালের ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে বড় ধরনের আধুনিকায়নের সুযোগ খুব বেশি নেই। বিদ্যমান যন্ত্রপাতি দিয়েই বহু বছর কার্যক্রম চালানো সম্ভব। বিদেশি অপারেটর এলেই বন্দরের সক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে—এ ধারণাও প্রশ্নবিদ্ধ।

চট্টগ্রাম সিবিএর সাধারণ সম্পাদক নুরুল্লাহ বাহার বলেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে এনসিটি গেলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বন্দর ইস্যুতে চট্টগ্রামের পাশাপাশি ঢাকাতেও আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

ট্রেড ইউনিয়ন চট্টগ্রামের সভাপতি তপন দত্ত বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর এখন আর শুধু চট্টগ্রামের ইস্যু নয়, এটি পুরো বাংলাদেশের মানুষের ইস্যু। দেশের কৌশলগত সম্পদ রক্ষায় সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের ‘স্নায়ুমুখ’ এবং দেশের জিডিপির বড় অংশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বঙ্গোপসাগর ও চট্টগ্রাম বন্দর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ ধরনের চুক্তি জাতীয় স্বার্থের আলোকে গভীরভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে বন্দর রক্ষা ও করিডর বিরোধী আন্দোলনের আহ্বায়ক এম এ সাঈদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে যেকোনো সিদ্ধান্তে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের কৌশলগত সম্পদ রক্ষায় রাজনৈতিক দল, শ্রমিক, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সভা সঞ্চালনা করেন ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত