Ajker Patrika

দ্রব্যমূল্য, গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে চিন্তা নেই, সরকার সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত: পরওয়ার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ২২: ৩০
দ্রব্যমূল্য, গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে চিন্তা নেই, সরকার সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত: পরওয়ার
রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি: আজকের পত্রিকা

সরকার এখন সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য, গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। আজ সোমবার রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার এখন সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে যে জনগণ ব্যস্ত, তাদের রুখে দেওয়ার জন্য সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রীরা এবং কখনো প্রধানমন্ত্রী সংবিধান আর জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তিকর কাজে ব্যস্ত। বিরোধী দলকে দমন করার জন্য নতুন নতুন ন্যারেটিভ তৈরিতে ব্যস্ত। কিন্তু দ্রব্যমূল্য, গ্যাস, বিদ্যুৎ—এটা নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই।

দেশে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় গ্যাসের তীব্র ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, প্রতিদিন প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতির কারণে বাসাবাড়িতে মা-বোনেরা ঠিকমতো চুলা জ্বালাতে পারছেন না। গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে শিল্পকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অথচ এলএনজি আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে গ্যাসের মূল্য বাড়ছে, কিন্তু সরবরাহ কমছে।

তিতাস, বিবিয়ানা, হবিগঞ্জ, রশিদপুরসহ প্রধান গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন দিন দিন কমছে, অথচ সরকারের নতুন গ্যাস অনুসন্ধানের কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পথে বলে অভিযোগ করেন। তিনি মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের যান্ত্রিক ত্রুটি দ্রুত সারানোর দাবি জানান। একই সঙ্গে তিতাস, বিবিয়ানা, হবিগঞ্জ, রশিদপুরসহ প্রধান গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন বাড়ানোরও দাবি জানান। তিনি বলেন, এখানে বিনিয়োগ প্রয়োজন। এ জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহটা নিরবচ্ছিন্ন করতে হবে।

অবিলম্বে দেশে গ্যাস ও জ্বালানি-কেন্দ্রিক একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়ে পরওয়ার বলেন, দলীয়করণের সর্বনাশা পথ পরিহার করে সরকারের উচিত দেশের অভিজ্ঞ ও দক্ষ বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগানো। দলদাসদের বড় বড় পদে বসিয়ে দেশের সংকট দূর করা সম্ভব নয়।

বিদ্যুৎ খাতের সমালোচনা করে পরওয়ার বলেন, ২৪ থেকে ২৬ সালের মধ্যে দেশে দুই দফা বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। ডিজিটাল চাঁদাবাজির মতো প্রতি মাসে গ্রাহকদের কাছ থেকে ডিমান্ড চার্জ কাটা হচ্ছে। এ ছাড়া জুনে সিস্টেম লস কম দেখানোর জন্য সম্পূর্ণ অনুমানের ভিত্তিতে কম বিল করে, পরে জুলাইয়ে অতিরিক্ত বিলের বোঝা জনগণের ওপর চাপানো হচ্ছে।

পরওয়ার অভিযোগ করেন, পিডিবির মাধ্যমে ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিগুলোকে ভর্তুকি দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি বিল আদায় করে একপ্রকার ‘লুটপাটের বন্দোবস্ত’ করা হয়েছে।

নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি প্রসঙ্গে পরওয়ার বলেন, কাঁচা মরিচ, মোটা চাল, মিনিকেট চাল, মসুর ডাল, চিনি ও রসুনের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। সরকারের চাটুকারিতা করে একশ্রেণির টক শোজীবী প্রমোশন পেলেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সরকারের কোনো কার্যকর নজর নেই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত