Ajker Patrika

মেটিকুলাস ডিজাইনে জাপাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে: শামীম হায়দার পাটোয়ারী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
মেটিকুলাস ডিজাইনে জাপাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে: শামীম হায়দার পাটোয়ারী
ডিআরইউতে জাপার সংবাদ সম্মেলন। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী দাবি করেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনায় মেটিকুলাস ডিজাইনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে তাদের দলকে নির্বাচনে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনায় প্রশাসন ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে। জাতীয় পার্টি যেন একটি আসনেও না জিতে এবং শতকরা এক ভাগ ভোটও না পায় তার জন্য নীল নকশার নির্বাচন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টি তাদের শক্তিশালী আসনগুলোতে আমাদের তৃতীয় করা হয়েছে, জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে যা পূর্ববর্তী নির্বাচনের ফলাফলের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। জাতীয় পার্টির জন্য যা বিস্ময়কর। আজ রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন এসব দাবি করেন শামীম হায়দার।

তিনি বলেন, যদি কখনো উচ্চকক্ষ হয় আনুপাতিক ভোটে আমরা যেন উচ্চকক্ষে একটি আসনও না পাই সে জন্যই ডিজাইনটি করা হয়েছিল। গাইবান্ধা-১ আসনে আমাকে মাত্র ৩৩ হাজার ভোট দেখানো হয়েছে। কেন্দ্রভিত্তিক রেজাল্টে আমরা ঘষামাজা পেয়েছি এবং শুধু তাই না, সেখানে একটি সেন্টারে আমি মাত্র ১৩ ভোট পেয়েছি। অথচ সেখানে আমার এজেন্টই ছিল ২৬ জন।

দেশব্যাপী অসংখ্য সেন্টারে জাতীয় পার্টিকে শূন্য ভোট দেখানো হয়েছে উল্লেখ করে শামীম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, কেন্দ্রভিত্তিক রেজাল্টে ঘষামাজা দেখেছি এবং জাতীয় পার্টির ভোট কেটে আরেকজনের সামনে বসানো হয়েছে। এমন একটি কাগজ আমাদের কাছে এসেছিল।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, কোনো কোনো সেন্টারে জামায়াত-বিএনপি যৌথভাবে পাল্লা দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে। সেখানে দুই প্রার্থীর ভোট দেখবেন আপনারা দেড় লাখের ওপরে। কোনো জায়গায় কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং হয়নি। সুষ্ঠু ভোট হয়েছে। সেখানে দেখবেন ৬০/৭০ হাজার ভোটে এমপি হয়ে গেছে। আবার কোনো কোনো জায়গায় জাতীয় পার্টির আসনে আমাদের প্রতিপক্ষরা ১ লাখ ২০, আবার ১ লাখ ৪০ হাজার ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছে।

জাপা মহাসচিব বলেন, এটি হতে পারে না। আলাদিনের চেরাগের মাধ্যমে এই ভোটগুলোকে বাড়ানো হয়েছে। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। টিআইবি কোনো ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা বলেনি, বলেছে জাল ভোট। জাল ভোট যদি থেকে থাকে, যদি আগেই সিল মারা থাকে এটাকে ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়া আমরা কি বলব? এটি প্রশাসনিক সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব না। স্পষ্টত এটি প্রশাসনিক সহযোগিতায় হয়েছে এবং জাতীয় পার্টির আসনগুলোতেই বেশি করা হয়েছে।

জাপার এজেন্টদের ভয়ভীতি ও প্রলোভন দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এজেন্টদের কাছ থেকে আগে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। ব্যাপকভাবে ভোটের আগে ভোট কেনা হয়েছে। প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। অনেক সেন্টারে আমাদের শূন্য ভোট দেখানো হয়েছে। জাপার ভোট অন্য মার্কায় দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ রকম অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। একজন পোলিং এজেন্ট বলেছে, তিনি নিজে হাতেনাতে ধরেছিলেন। যখন গণনা হচ্ছিল তখন লাঙলের ভোট অন্য মার্কায় দিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। আমাদের সেটা প্রতিহত করেছে।

তিনি বলেন, আমরা দেখেছি একজন প্রার্থী ডিসি সাহেবকে অভিশাপ দিয়েছে যে, ‘আমার সন্তান যেভাবে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে, ডিসি সাহেব আপনার সন্তানও রাস্তা রাস্তায় ঘুরবে।’ বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম একটি দল জয়ী হওয়ার পরে সেই দলের পরাজিত প্রার্থী ডিসিকে অভিশাপ দিয়েছে। এটা ইতিহাসে প্রথম। অর্থাৎ এবার ভোটে কারচুপি নিয়ে জামায়াত বলেছে, বিএনপির হেরে যাওয়া প্রার্থী বলেছে, এনসিপি বলছে, জাতীয় পার্টি বলেছে। এই সামগ্রিক বিচারে ভোটে অবশ্যই কিছু কারচুপি হয়েছে।

গণভোটে সবচেয়ে বেশি কারচুপি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, সবচেয়ে কলুষিত হয়েছে গণভোট। গণভোটের ৭৩ লক্ষ বাতিল ভোট হয়েছে, এটা কীভাবে হয়? আমরা আমাদের এজেন্টকে জিজ্ঞেস করেছি, যখন হ্যাঁ/না কাউন্ট হয়েছে তখন সেখানে কোনো এজেন্ট থাকতে দেওয়া হয়নি। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ইচ্ছামতো ভোট কাউন্ট করেছে। নির্বাচনে বিপুল না ভোটের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, এ বিষয়ে জনগণের সর্বজনীন সম্মতি নাই।

নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন সরকার প্রতিহিংসা পরিহার করে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি করবে আমরা এটাই প্রত্যাশা করি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাপার অতিরিক্ত মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর শিকদার লোটন, ইমরান হোসেন মিয়া, মঈনুর রাব্বী রুম্মান প্রমুখ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত