Ajker Patrika

গণভোটের শপথ না নিলে জনগণ বলবে গণবিরোধী সরকার: জামায়াতের নায়েবে আমির

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
গণভোটের শপথ না নিলে জনগণ বলবে গণবিরোধী সরকার: জামায়াতের নায়েবে আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান। ছবি: স্ক্রিনশট

গণভোটের শপথ গ্রহণ না করলে জনগণ সরকারকে ‘গণবিরোধী’ বলবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

আজ শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এই সভার আয়োজন করে।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, ‘মানুষের অধিকার যদি প্রতিষ্ঠিত করতে হয়, ইনসাফ যেটা আমাদের দাবি ছিল ‘‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’’—এটা যদি ফিরিয়ে আনতে হয় অবশ্যই সরকারি দল এবং বিরোধী দলকে একসাথে মিলেমিশে কাজ করতে হবে। আমি সকল পক্ষকে অনুরোধ করব আসুন দেশটাকে ঐক্যবদ্ধ করি, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখি এবং আলাপ আলোচনার মাধ্যমে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাই।’

মুজিবুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে যে কয়দিন আগে ভোট হলো—একটা হলো জাতীয় সংসদের, আরেকটা ভোট হলো গণভোট। এখন একটাতে শপথ গ্রহণ যদি সরকার করে, আর আরেকটায় না করে তাহলে সরকারকে জনগণ কি বলবে? এটাকে কি জনগণের সরকার বলবে? জনগণের পক্ষের সরকার বলবে? আমার মনে হয় জনগণ বলবে, গণবিরোধী সরকার।’

এখনই আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে গণভোটকে মেনে নিতে হবে—দাবি জানিয়ে জামায়াতের এই নায়েবে আমির বলেন, ‘এখনো সংবিধান সংস্কারের শপথ যারা গ্রহণ করেননি, তাদের আমরা অনুরোধ করব সময় এখনো আছে—মেহেরবানী করে এই শপথটা নিয়ে জনগণের কল্যাণে আসুন আমরা সবাই মিলে আমাদের প্রচেষ্টাকে নিয়োগ করি। যদি এটা না হয় আগামী দিনে আবার দেখা যাবে যে দেশটা অন্যরকম আবির্ভূত হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, ‘সাতটি দশক অতিক্রান্ত হয়েছে, আজও প্রশ্ন উঠে ভাষা সৈনিকের তালিকা নিয়ে। যেমনটি মুক্তিযুদ্ধে যোদ্ধাদের তালিকা নিয়ে বিতর্ক, ভাষা সৈনিকের তালিকা নিয়ে একই প্রশ্ন উত্থাপিত হয়—এটা খুবই দুঃখজনক। এটার মূল কারণটা কি? মূল কারণ হচ্ছে, আমরা প্রকৃত যারা ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন তাঁদের অনেককে রাজনৈতিক বিবেচনায় এবং মানসিক সংকীর্ণতার কারণে তাদের মর্যাদার স্বীকৃতি দিতে পারিনি।’

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘৩৬ দিনের মধ্যে একটি ফ্যাসিবাদী শক্তিকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। এখানেও কিন্তু যেই চেতনা নিয়ে আমরা বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সে প্রতিশ্রুতি থেকে জাতিকে বিচ্যুত করার ষড়যন্ত্র চলছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘গণতন্ত্রকে সুসংহত করাই হবে আমাদের প্রতিশ্রুতি।’’ আমি বলতে চাই জুলাই চেতনা, জুলাই সংস্কারকে মাইনাস করে গণতন্ত্র সুসংহত হবে না, স্বৈরতন্ত্র আবার ফিরে আসবে।’

আযাদ বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব বলেছেন যে, আমরা বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশই হবে ২১-এর চেতনা। আপনি জুলাই বিপ্লব বাদ দিয়ে, ডিনাই করে, সংবিধান সংস্কারের শপথ উপেক্ষা করে, আপনি সংস্কার না করে কীভাবে বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ করবেন? জুলাই বিপ্লবই তো হয়েছিল বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশের জন্য। মূল চেতনা তো এটাই—ইনসাফের বাংলাদেশ, মানবিক নিরাপদ বাংলাদেশ। সুন্দর বাক্য আপনারা বলছেন, কিন্তু কথা ও কাজে ভাই মিল নাই।’

আযাদ আরও বলেন, ‘গতকাল রুমিন ফারহানা, যিনি আপনাদের সংসদ সদস্য ছিলেন, শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে যে হামলার শিকার হয়েছে আপনার দলের কর্মীর হাতে—এই গণতন্ত্র আপনি উপহার দিবেন? বাংলাদেশের মানুষ সেই গণতন্ত্র আর দেখতে চায় না যে গণতন্ত্র রক্তপাত ঘটায়, আমার অধিকার কেড়ে নেয়।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত