
চলতি বছরের শুরুতে মেজর জেনারেল হাসান রাশাদের নেতৃত্বে মিসরের জেনারেল ইন্টেলিজেন্স ডাইরেক্টরেট (জিআইডি) আফ্রিকা মহাদেশজুড়ে এক বিস্তৃত নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অভিযান শুরু করে। এতে সহযোগিতা করে চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়, যা কার্যত চীনের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা। এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলি গোয়েন্দা তৎপরতা, বিশেষ করে মোসাদের কার্যক্রম মোকাবিলা করা। মিসর ও চীন এই কার্যক্রমকে তাদের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করে।
এই পদক্ষেপের সময়ে মিসর-চীন গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও গভীর হয়। আফ্রিকায় মোসাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে তারা একসঙ্গে কাজ শুরু করে। দুই দেশ ‘মোসাদের ওপর চাপ সৃষ্টি’র কৌশল নেয়। চীনা গোয়েন্দা সংস্থা এমন একটি পরিকল্পনা তৈরি করে, যা মিসরের প্রচেষ্টাকে সহায়তা করে। এর লক্ষ্য ছিল—আফ্রিকায় মোসাদের প্রভাব কমানো, মিসরের সীমান্ত স্থিতিশীল রাখা এবং চীনের স্বার্থ রক্ষা করা। এই তথ্য প্রকাশ করে ইসরায়েলি সংবাদপত্র ইসরায়েল হায়োম। তারা জানায়, আফ্রিকায় ইসরায়েলি সম্প্রসারণ ঠেকাতে মিসর জোরালো চেষ্টা চালাচ্ছে, বিশেষ করে লিবিয়ায়।
সংবাদপত্রটি জানায়, মিসরের জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আহমেদ আবদেল-খালেক ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে পূর্ব লিবিয়ার কমান্ডার খলিফা হাফতারের ছেলেদের সম্পর্ক বিস্তারে বাধা দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। হাফতারের ছেলে সাদ্দাদ ও খালেদ তাদের বাবার বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা পদে রয়েছেন।
মেজর জেনারেল আবদেল-খালেক লিবিয়া সফরে গিয়ে সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে হাফতারের ছেলেদের যোগাযোগ বাড়ানো যাবে না। সংবাদপত্রটি আরও জানায়, এক জ্যেষ্ঠ মিসরীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি দল আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে গোপন সফর ও ব্যাপক তৎপরতা চালায়। এতে মূলত মেজর জেনারেল আবদেল-খালেকই নেতৃত্ব দেন। উদ্দেশ্য ছিল আফ্রিকায় মোসাদের কার্যক্রম সীমিত করা।
চীনের সহায়তায় আফ্রিকায় মিসরের পদক্ষেপগুলো কয়েকটি মূল বিষয়ের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। প্রথম বিষয়টি ছিল সুদান। কায়রো, চীনের সহযোগিতায়, সুদানের সংকট ঘিরে মোসাদের তৎপরতা শনাক্ত করে। বিশেষ করে বিদ্রোহী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) ইসরায়েল সমর্থন দিচ্ছে—এমন অভিযোগ সামনে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মিসর ও চীন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়।
এই প্রেক্ষাপটে মেজর জেনারেল আহমেদ আবদেল-খালেক ২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষে সুদান সফর করেন। সেখানে তিনি সুদানের সেনাপ্রধান ও সার্বভৌম কাউন্সিলের প্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক হয়। লক্ষ্য ছিল সুদানে ইসরায়েলি গোয়েন্দা ও মোসাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে সমন্বয় করা। মিসরের জেনারেল ইন্টেলিজেন্সের ধারণা, ইসরায়েল সুদানের বিদ্রোহী বাহিনীর প্রধান হামদান দাগালো বা হেমেদতিকে সমর্থন দেয়। এ ছাড়া সোমালিল্যান্ড নামে বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চলের স্বীকৃতি, নীলনদের পানিবণ্টন বিরোধ এবং নীলনদ অববাহিকায় ইসরায়েলের ভূমিকা—এসব বিষয়ও মিসরের স্বার্থের বিপক্ষে বলে তারা মনে করে।
দ্বিতীয় বিষয়টি ছিল হর্ন অব আফ্রিকার অঞ্চল ও নীলনদ অববাহিকা। ইসরায়েল ও তাইওয়ানের পক্ষ থেকে সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাইওয়ানের ‘টি-ডম’ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা উন্নয়নে ইসরায়েলের সহায়তা বেইজিং ও তেল আবিবের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায়। টি-ডম ব্যবস্থাকে ইসরায়েলের আয়রন ডোমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চল ও পূর্ব আফ্রিকা চীনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। এখানকার সড়ক, জলপথ ও প্রণালিগুলো চীনের সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এ কারণে ২০২৬ সালের শুরুতে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সোমালিয়ার বৈধ রাজধানী মোগাদিসু এবং হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চল সফর করেন। এই সফরকে ইসরায়েল ও সোমালিল্যান্ডের প্রতি সরাসরি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হয়। এদিকে মিসরের জেনারেল ইন্টেলিজেন্সে ফিলিস্তিনবিষয়ক দায়িত্বে থাকা মেজর জেনারেল আহমেদ আবদেল-খালেক ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে উগান্ডা সফর করেন। উদ্দেশ্য ছিল নীল অববাহিকা ইস্যুতে ইসরায়েলের হস্তক্ষেপ ঠেকানো। তিনি লক্ষ্য করেন, ইসরায়েলি ও উগান্ডার কর্মকর্তাদের মধ্যে নীল অববাহিকা নিয়ে বৈঠক হয়েছে। এরপর তিনি উগান্ডার স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাছে একাধিক সতর্কবার্তা পৌঁছে দেন।
সে সময় মিসরের জেনারেল ইন্টেলিজেন্সের আফ্রিকা কার্যালয়ের প্রধান হিসেবে তিনি রুয়ান্ডা, উগান্ডা, লিবিয়া, ইরিত্রিয়া, সোমালিয়া ও সুদান সফর করেন। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে গাজা ও ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতার কারণেই তাকে আফ্রিকায় কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা মিশনের নেতৃত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই প্রেক্ষাপটে চীন ও মিসর যৌথভাবে সোমালিয়ার বৈধ রাজধানী মোগাদিসুর প্রতি সমর্থন জানায়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি সোমালিয়ার ঐক্যের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেন। তিনি সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে এমন যেকোনো পদক্ষেপের বিরোধিতা করেন। এটি ছিল সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলি তৎপরতার প্রতি স্পষ্ট ইঙ্গিত।
লিবিয়ার ক্ষেত্রেও চীন মিসরের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করে। একই সময়ে একটি মিসরীয় গোয়েন্দা প্রতিনিধিদল পূর্ব লিবিয়া সফর করে। তারা স্থানীয় পক্ষগুলোকে সতর্ক করে দেয়, ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো যাবে না। তারা জোর দিয়ে বলে, মিসর তার পশ্চিম সীমান্তে ইসরায়েলি গোয়েন্দা উপস্থিতি মেনে নেবে না। এই অবস্থানে চীন ও মিসর একমত।
২০২৫-২৬ সময়কালে চীনের ভূমিকা এবং মেজর জেনারেল হাসান রাশাদের নেতৃত্বে মিসরের জেনারেল ইন্টেলিজেন্স ডাইরেক্টরেটের সঙ্গে যৌথ গোয়েন্দা সহযোগিতায় কৌশলগত পরিবর্তন দেখা যায়। এই সময়ে মিসরের গোয়েন্দা সংস্থা ও চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়, অর্থাৎ মিনিস্ট্রি অব স্টেট সিকিউরিটির মধ্যে সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায়। এই সংস্থাটি চীনের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা।
এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য ছিল আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রভাব মোকাবিলা ও সীমিত করা। চীন ও মিসর প্রযুক্তিনির্ভর অংশীদারত্ব গড়ে তোলে। আগে যেখানে সহযোগিতা মূলত অর্থনৈতিক কাঠামোয় সীমাবদ্ধ ছিল, সেখানে তা রূপ নেয় গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত অংশীদারত্বে। এর উদ্দেশ্য ছিল গুপ্তচরবৃত্তি ও আকাশ নজরদারির ক্ষেত্রে ইসরায়েলের গুণগত সুবিধা কমিয়ে আনা।
চীন মিসরকে উন্নত রাডার ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা সরবরাহ করে। ফলে মিসর যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে প্রযুক্তিগতভাবে যুক্ত কোনো ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করেই আকাশ থেকে আসা হুমকি শনাক্ত করার উচ্চ সক্ষমতা অর্জন করে। জলপথ সুরক্ষায়ও দুই দেশ সমন্বয় করে। সুয়েজ খাল, বাব এল-মান্দেব ও এডেন উপসাগরসহ গুরুত্বপূর্ণ জলপথ রক্ষায় তারা কাজ করে যৌথভাবে। লক্ষ্য ছিল—এমন কোনো ইসরায়েলি বা মার্কিন পদক্ষেপ সীমিত করা, যা চীনের আঞ্চলিক স্বার্থ এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ চীনের বৈশ্বিক অবকাঠামো প্রকল্প।
২০২৫-২০২৬ সময়ে মিসরের জিআইডি এবং চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের মাত্রা কৌশলগতভাবে বৃদ্ধি পায়। এই সহযোগিতা আফ্রিকায় মিসরের স্বার্থ লক্ষ্য করে পরিচালিত ইসরায়েলি তৎপরতা সীমিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে ওঠে।
মিসরের জেনারেল ইন্টেলিজেন্স ডাইরেক্টরেটের গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের দায়িত্বে থাকা মেজর জেনারেল আহমেদ আবদেল-খালেকের নেতৃত্বে কয়েকটি আফ্রিকান দেশে নীরব নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। এগুলোর উদ্দেশ্য ছিল মিসরের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর বিবেচিত ইসরায়েলি গোয়েন্দা তৎপরতা প্রতিরোধ করা। একই সময়ে চীনও মাঠপর্যায়ে সফর ও তৎপরতা চালায়, যাতে আফ্রিকায় ইসরায়েলের প্রভাব বিস্তার বাধাগ্রস্ত হয়।
মিসর ও চীনের গোয়েন্দা প্রচেষ্টা বিশেষভাবে কেন্দ্রিত ছিল সুদান ও লিবিয়ার সংকট, পূর্ব আফ্রিকা ও আফ্রিকার শিং অঞ্চল ঘিরে। বিশেষ করে সোমালিল্যান্ডের মতো বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চলে, যেখানে বিরোধী পক্ষগুলোর প্রতি ইসরায়েলি সমর্থনের অভিযোগ রয়েছে, সেখানে মোসাদের অনুপ্রবেশ সীমিত করার চেষ্টা করা হয়।
চীন মিসরের সহযোগিতায় সোমালিয়ার মতো দেশের সঙ্গে সামরিক অংশীদারত্ব জোরদার করে। লক্ষ্য ছিল লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের প্রবেশপথ সুরক্ষিত রাখা, যা চীনের স্বার্থ ও বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই গোয়েন্দা সহযোগিতা ধীরে ধীরে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত পর্যায়ে গভীর হয়। ইসরায়েলি প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, মিসর চীনের সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। উদাহরণ হিসেবে চীনের কেজে-৫০০ আগাম সতর্কীকরণ বিমান ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়। দাবি করা হয়, এগুলোর মাধ্যমে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ বা তা পরীক্ষা করা এবং সেনা মোতায়েন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া২০২৫ সালের এপ্রিল-মে মাসে ‘ইগলস অব সিভিলাইজেশন’ নামে মিসর-চীন যৌথ সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দুই দেশ প্রথমবারের মতো যৌথ বিমান মহড়া পরিচালনা করে। এর উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধ ধারণায় ঐক্য আনা এবং গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময়। বিষয়টি ইসরায়েলের নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। মিসর ও চীনের মধ্যে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি স্থানীয়করণ চুক্তিও হয়। মিসরীয় সেনাবাহিনী ও চীনের সামরিক-প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন নরিনকো ও শ্যাডো উইংসের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। লক্ষ্য ছিল সংবেদনশীল প্রতিরক্ষা শিল্প স্থানীয়ভাবে গড়ে তোলা।
চীনা প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিসরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যেমন রাদ-৩০০ উন্নয়নেও কাজ করা হয়। এর ফলে পশ্চিমা উৎসের ওপর নির্ভরতা কমে আসে, যা ইসরায়েলি চাপের মুখে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। মিসর-চীন যৌথ গোয়েন্দা কৌশলের মূল উদ্দেশ্য ছিল আফ্রিকায় মোসাদের অনুপ্রবেশ মোকাবিলা করা। এর পেছনে ছিল ইসরায়েলের তথাকথিত ‘অ্যালায়েন্স অব দ্য পেরিফেরি’ বা ‘বেল্ট-টাইটেনিং’ কৌশল ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা। এই কৌশলের মাধ্যমে ইসরায়েল প্রতিবেশী আফ্রিকান দেশগুলোর সঙ্গে শক্ত সম্পর্ক গড়ে তুলে মিসরকে ঘিরে রাখার চেষ্টা করেছিল বলে দাবি করা হয়।
মিসর চীনের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রভাব কাজে লাগিয়ে এই কৌশল ভন্ডুল করতে চায়। আফ্রিকায় চীনের অবকাঠামো ও যোগাযোগ খাতে বিশাল বিনিয়োগকে উন্নয়নের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে আফ্রিকান দেশগুলোর নিরাপত্তা বা প্রযুক্তিখাতে ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতার প্রয়োজন কমে আসে।
এ ছাড়া মিসর-চীনের ক্রমবর্ধমান মহাকাশ সহযোগিতা মিসরের সাইবার, ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ায়। এতে আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ সাইবার ও ডিজিটাল খাতে মোসাদের অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে সক্ষমতা জোরদার হয়। মিসরের মহাকাশ কর্মসূচিতে চীন প্রধান বিনিয়োগকারী। এর ফলে আফ্রিকা ও অঞ্চলের ওপর মিসরের নজরদারি ও গোয়েন্দা সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ইসরায়েল এটিকে তাদের গোয়েন্দা প্রাধান্যের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে।
সব মিলিয়ে মিসর ও চীনের যৌথ গোয়েন্দা পদক্ষেপের লক্ষ্য আফ্রিকায় মোসাদের প্রভাব ও তৎপরতা সীমিত করা। একই সময়ে কায়রো চীনের সহায়তায় আঞ্চলিক ‘কেন্দ্রীয় শক্তি’ হিসেবে নিজের অবস্থান পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। নরম শক্তি ও বড় শক্তি চীনের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার সমন্বয়ের মাধ্যমে তারা আফ্রিকা মহাদেশে, বিশেষ করে পূর্ব আফ্রিকা ও আফ্রিকার শিং অঞ্চলে কৌশলগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চায়। কারণ এই অঞ্চলগুলো সামুদ্রিক রুট ও প্রণালি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম। এর মধ্যে সুয়েজ খাল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যা মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় চীনের স্বার্থের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর পাশাপাশি ২০২৬ সালকে আফ্রিকান ইউনিয়নের সদর দপ্তরে ‘চীন-আফ্রিকা জনগণ-থেকে-জনগণ বিনিময় বর্ষ’ ঘোষণা করা হয়। এর লক্ষ্য ছিল মিসরের সহযোগিতায় আফ্রিকায় চীনের উপস্থিতি আরও সুদৃঢ় করা।
মডার্ন ডিপ্লোমেসি থেকে অনুবাদ করেছেন আজকের পত্রিকার সহসম্পাদক আব্দুর রহমান

গত বছরের নভেম্বর মাসে দক্ষিণ পাঞ্জাবের বাহাওয়ালপুর শহরে জুবাইদা বিবির বাড়িতে অভিযান চালায় পাঞ্জাব পুলিশের ক্রাইম কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্ট (সিসিডি)। জুবাইদা বিবির অভিযোগ, অভিযানের সময় সিসিডি তাঁদের মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, মেয়ের বিয়ের যৌতুকের টাকাসহ সবকিছু নিয়ে যায়।
১ দিন আগে
চীনের সামরিক বিশেষজ্ঞ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ক্রমেই বলেছে, ইরানের ভেতরে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের গভীর অনুপ্রবেশ বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য একধরনের ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ খুলে দিয়েছে। বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে বিশেষ করে ২০১৫ সালের পর থেকে এবং ২০২৫-২০২৬ সালে গতি পাওয়া ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা অভ
১ দিন আগে
দীর্ঘদিন ধরেই এমন তত্ত্ব প্রচলিত যে, এআইয়ের অগ্রগতি মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কল্পিত ‘আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স’ (এজিআই) একদিন মানুষের মতোই চিন্তা ও জ্ঞানের অধিকারী হবে, যা ভবিষ্যতে মানবজাতিকেই বিলুপ্ত করে দিতে পারে।
৪ দিন আগে
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে দীর্ঘ তিন দশক পর আবারও একটি সংখ্যাতাত্ত্বিকভাবে শক্তিশালী ও সংহত বিরোধী দল পেতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, ৩০০ আসনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট প্রায় ৭৭টি আসন লাভ করেছে।
৪ দিন আগে