Ajker Patrika

নারী নিপীড়ন ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তির দাবি সিপিবির

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
নারী নিপীড়ন ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তির দাবি সিপিবির
রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে সিপিবির সমাবেশ। ছবি: আজকের পত্রিকা

সারা দেশে নারী হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। সমাবেশ থেকে নারী নিপীড়ন ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে সিপিবি এ সমাবেশ করে। এর আগে জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে পল্টনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ করা হয়।

সমাবেশ থেকে নোয়াখালীর হাতিয়ায় নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা, নরসিংদীতে ১৫ বছরের এক বালিকাকে ধর্ষণ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকাকে হত্যাসহ নানান জায়গায় নারী নিপীড়ন, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচার চায় বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি ।

সমাবেশে বক্তব্য দেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পরে সাত বছরের শিশু থেকে শুরু করে সারা দেশে নারী নিপীড়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এমনকি নিজের ঘরে বাবা তার কাছ থেকেও নারীরা রক্ষা পাচ্ছে না।

সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে রতন বলেন, ‘আমরা জানতে চাই– গত এক মাসের মধ্যে এতগুলো ঘটনায় আপনারা কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন?’

জাতীয় সংসদে বিরোধী দল ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে নারী নিপীড়নের সহযোগিতা করেছিল বলে মন্তব্য করেন এই সিপিবির নেতা। তিনি বলেন, এই পার্লামেন্টে যারা বিরোধী দল আছে অতীতে তাদের যে কর্মকাণ্ড তা সবাই জানে। ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা নারী নিপীড়নের সহযোগিতা করেছিল। তাদের সহযোগিতায় দুই লাখ নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে, নির্যাতন -নিপীড়ন করা হয়েছে।

সিপিবির এ নেতা বলেন, যেখানেই নারী নিপীড়ন ও নির্যাতন সেখানেই কমিউনিস্টদের শক্তিশালীভাবে তার প্রতিবাদ করতে হবে। প্রতিহত করতে হবে।

সিপিবির কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, বর্তমানে দেশ একটি পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে চলছে, যেখানে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের সঠিক বিচার হয় না এবং নারীকে নিচু করে দেখার মানসিকতা রয়েছে।

নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনার অবিলম্বে বিচার এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বর্তমানে ধনিক শ্রেণির প্রাধান্যবিশিষ্ট রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তন ঘটিয়ে একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক কমরেড লুনা নূর বলেন, গত ১৮ মাসে নারী নির্যাতনের ঘটনায় অনেক রায় হলেও তার একটিও কার্যকর হয়নি। মামলা দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে থাকায় অপরাধীরা শাস্তি এড়িয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, অপরাধীরা প্রায়ই রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকে, যেমন অতীতে ছাত্রলীগ বা বর্তমানে এনসিপির কর্মীদের নাম উঠে এসেছে। কেবল ধর্ষকের শাস্তি নয়; বরং যে রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থা ধর্ষক উৎপাদন ও লালন করে, সেই ব্যবস্থার পরিবর্তনের লড়াইয়ে সকলে অংশ নিতে হবে।

কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লাকি আক্তারের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা জেলা কমিটির সম্পাদক সাজেদা বেগম সাজু।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

অপারেশন থিয়েটারে মির্জা আব্বাস, মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার

ভৈরবে ১ কোটি ৮৫ হাজার টাকাসহ আটক দুই স্বর্ণকার, ২১ ঘণ্টা পর মুক্ত

চট্টগ্রামে ৭ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা

হিজবুল্লাহর লাগাম টানতে চায় লেবাননের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সেনাবাহিনীর না

ম্যানেজিং কমিটিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের প্রশ্নই ওঠে না: শিক্ষামন্ত্রী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত