
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সহস্র শহীদের আত্মত্যাগ ও কোটি জনতার লড়াইকে সার্থক করতে দেশকে সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদের হিংস্র থাবা, শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত করতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা অবধি জুলাই গণ-আন্দোলন অসমাপ্ত। তাই দেশপ্রেমিক সাধারণ মানুষের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।
আগামীকাল ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা বলেন।
বিবৃতিতে সিপিবির শীর্ষ নেতারা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল স্বৈরাচার, দমন-পীড়ন, দুর্নীতি, বৈষম্য ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত গণবিস্ফোরণ। এই গণ-অভ্যুত্থানের মূল শক্তি ছিল দেশের ছাত্র-যুবক, শ্রমিক, কৃষক, পেশাজীবী এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। সেই গণ-আন্দোলনে প্রকাশিত মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে ধামাচাপা দিয়ে কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠী দেশকে বিপথে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত। এই কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ অব্যাহত রাখতে হবে।
নেতারা বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষ চেয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, ধর্ম ও জাতি নির্বিশেষে মানবিক মর্যাদা, নারীর অধিকার, আইনের শাসন, ন্যায় বিচার, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন, বৈষম্যহীন সমাজ এবং জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে। যার বাস্তবায়ন এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। বরং অনেক ক্ষেত্রে জনগণের সেই প্রত্যাশা উপেক্ষিত হয়েছে এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য, বাজারমুখী নীতি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের কাছে জাতীয় সম্পদ ও স্বার্থ বিপন্ন করা, দুর্নীতি ও জনস্বার্থবিরোধী নানা সিদ্ধান্তে কারণে মানুষের জীবন আজ ক্রমেই আরও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন দলটির নেতারা।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি নয়। এটি সমগ্র জনগণের সংগ্রামের ইতিহাস। এই ইতিহাসকে যারা দলীয় সংকীর্ণতা, রাজনৈতিক বিভাজন বা ক্ষমতার স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়, তাদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে। সিপিবি নেতৃবৃন্দ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত সব শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আহতদের যথাযথ চিকিৎসা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের সকলকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, শাসক গোষ্ঠী চায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা বা স্মরণসভার বিষয়ে সীমাবদ্ধ রাখতে। জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান হবে এমন বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে জনগণ হবে রাষ্ট্রক্ষমতার প্রকৃত মালিক, রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে, মানুষের ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচার সুরক্ষা পাবে। যার ধারাবাহিকতায় একদিন বৈষম্য ও শোষণের অবসান হবে।
বিবৃতিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের উদ্যোগে আগামীকাল বুধবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর তোপখানা সড়কের শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজনের কথা জানানো হয়। এ ছাড়াও আগামী ৭ আগস্ট (শুক্রবার) বিকেলে পল্টনে সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিপিবির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানানো হয়।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, একটি মহলের কারণে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার এক বাণীতে তিনি এ অভিযোগ করেছেন।
১৭ মিনিট আগে
সরকারকে অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রদের সঙ্গে কোনো ঝামেলায় জড়াবেন না। শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে পড়াশোনা করতে দিন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখুন। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করুন।
১ ঘণ্টা আগে
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ‘মব সংস্কৃতি’ ও অস্থিতিশীলতা তৈরির অভিযোগ তুলেছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে সব গণতান্ত্রিক ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
১ ঘণ্টা আগে
ছাত্রদলকে সংযত করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির উদ্দেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ক্যাম্পাসে রক্ত ঝরিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের লেলিয়ে দেওয়া পান্ডাদের মতো আবারও ছাত্রদলকে লেলিয়ে দিচ্ছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা আলিয়া ও ঢাকা কলেজে একযোগে হামলা করা হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্
১ ঘণ্টা আগে